ভোর ০৬:৩৫ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

তিন কারণে তামাকের অবৈধ বাণিজ্য

আজ বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ কর – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৩১ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। প্রতি বছরের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে তামাকের ব্যবহার হ্রাসে তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববাসীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিবসটি পালন করছে বাংলাদেশ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা শতাধিক ব্র্যান্ডের অবৈধ তামাকপণ্যের বাজার এখন বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে প্রায় ২৬ শতাংশ সিগারেট-বিড়ি-চুরুট এবং ১৪ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য অবৈধভাবে বিক্রি হয়। অবৈধ সিগারেট ও চুরুটের অধিকাংশই আসে সমুদ্র ও বিমানপথে। ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের প্রায় পুরোটাই আসে স্থলপথে, এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। এ ছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত তামাকপণ্যেরও একটা অংশ কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হয়।

প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)'র সমন্বয়ক হাসান শাহরিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “তামাকপণ্যের যোগান ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তামাকের অবৈধ বাণিজ্যর মূল লক্ষ্য। মূলত তিনটি কারণে তামাকের অবৈধ্য বাণিজ্য সংঘটিত হয়। এক. দাম-পার্থক্য অর্থাৎ কিছু দেশে তামাক পণ্যের দাম কম এবং কিছু দেশে বেশি হলে। দুই. শুল্ক হার ও কর কাঠামোর তারতম্য অর্থাৎ কিছু দেশে নিম্ন কর হার এবং কিছু দেশে উচ্চ শুল্ক হার চালু থাকলে। তিন. দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান থাকলে। এ ছাড়া, কোম্পানিগুলো দেশের অভ্যন্তরে কর ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমেও অবৈধ বাণিজ্য করে থাকে।”

আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অ্য্যালায়েন্স (এফসিএ) ও হেলথ ব্রিজ পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং এর ফলে প্রতি বছর সরকারকে ২ হাজার ৪৪৫ মিলিয়ন টাকার রাজস্ব হারাতে হয়।

দি ইউনিয়নের ২০০৯ সালে একটি গবেষণায় বলা হয়, তামাকের অবৈধ্য বাণিজ্য একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্ববাজারে প্রতি ১০টি সিগারেট শলাকার ১টিই বিক্রি হয় অবৈধভাবে। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী সিগারেট বাণিজ্যের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশই অবৈধ।

এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিবছর ৪০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার রাজস্ব ক্ষতি গুণতে হয়। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় এ রাজস্ব ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।