রাত ০৫:০৩ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

ছাত্রলীগের প্রার্থী হতে সনদ জালিয়াতি!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এমরান হোসাইন শেখ

চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সনদ জালিয়াতির খবর বেশ পুরনো।কিন্তু এবার রাজনৈতিক নেতা হওয়ার জন্য সনদ জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই অভিযোগ পাওয়া গেছে খোদ ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ওই প্রার্থীর নাম রকিবুল ইসলাম মিনা। তিনি ছাত্রলীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্ধারিত বয়স ২৭ বছর অতিক্রম করেছেন অনেক আগেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি রকিবুল ইসলাম মিনা নামের অন্য এক ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অন্য কাগজপত্র নিজের নামে জমা দিয়ে ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাকা উত্তরের সহ-সভাপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুণ্ডু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারাও এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। তবে তারা অভিযোগের কোনও সত্যতা পাননি।

এই রকিবের সনদ জাল করে প্রার্থী হয়েছেন মিনা।

বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম মিনা গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রকিবুলের প্রার্থী হওয়ার বয়স আগেই শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে একই নামের আরেক রকিবুল ইসলামের (যার নামের শেষে মিনা নেই) শিক্ষাসনদসহ অন্য কাগজপত্র নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। এজন্য তিনি বাবা-মায়ের নামের পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করেছেন। প্রার্থী রকিবুলের স্থায়ী ঠিকানা গোলাপগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার চাপ্তা গ্রাম হলেও মনোনয়নপত্রে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দুটোই ঢাকার ইব্রাহিমপুর উল্লেখ করেছেন। রকিবুল প্রকৃত রকিবুলের ভোটার আইডির ছবি পরিবর্তন করে নিজের ছবি লাগিয়ে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে রকিবুল তড়িগড়ি করে পার্সপোর্টও তৈরি করে প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া ডকুমেন্টের সঙ্গে তার কপি সংযুক্ত করেছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রকিবুলের ভোটার আইডি যাচাই করে দেখা গেছে, মনোয়নপত্রের নাম ঠিকানা ও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল থাকলেও রকিবুলের ছবির সঙ্গে কমিশনের ওয়েব সাইটে দেওয়া ছবির কোনও মিল নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রার্থী রকিবুল ইব্রাহিমপুরের যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, ওই ঠিকানায় রকিবুল ইসলাম নামে অন্য একজন রয়েছেন। যার বাবার নাম আইয়ুব আলী খান ও মায়ের নাম শাহানারা বেগম। মনোনয়নপত্রে প্রার্থী রকিবুলের বাবা-মায়ের নামও একই দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম মিনাকে বিগত সময় পোস্টার ব্যনারে নামের শেষে মিনা ব্যবহার করতে দেখা গেলেও গত ২৮ মে’র সম্মেলন উপলক্ষে তার নামে যেসব পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়েছে, তার কোথাও মিনা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রকিবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমি প্রার্থী নই। আমার নাম রকিবুল ইসলাম। বাবার নাম আইয়ুব আলী খান ও মাতার নাম শাহানারা বেগম। আমি-ই ইব্রাহিমপুরে থাকি এবং বর্তমানে চাকরির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।’

রবিবার (৩১ মে) সুপ্রিম কোর্টে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে রকিবুল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলতে চাননি। তবে একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যে রকিকুলকে খুঁজলেন আমি সে নই। আপনি যাকে খুঁজছেন তার নম্বরে যোগোযোগ করেন।’

ইব্রাহিম পুরের বাসিন্দা এই রকিবুল জানান, ‘চাকরি সংক্রান্ত কাজে বিভিন্ন জায়াগা আমি কাগজপত্র জমা দিয়েছি। সেখান থেকে কেউ আমার কাগজপত্র চুরি করতে পারেন।’ তবে এ ধরনের কোনও জটিলতায় পড়লে তিনি আইনগতভাবে সমাধান করবেন বলেও জানান।

এ ব্যাপারে প্রার্থী রকিবুলের মোবাইল নম্বর ০১৭৪০৬১০৯৭৭ এ যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে টিঅ্যান্ডটি নম্বরে ফোন করলে রকিবুলের দুলাভাই পরিচয়ে একজন বলেন, তিনি রকিবুল ইসলাম মিনা নামে কাউকে চেনেন না। তার শ্যালকের নাম রকিবুল ইসলাম। রকিবুল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না সেটাও তার দুলাভাই জানেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ ঢাকা উত্তরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুণ্ডু বলেন, তারা সব প্রার্থীর দেওয়া তথ্যের একটি কপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দিয়েছেন। রকিবুলের বিষয়ে যে অভিযোগ তিনি পেয়েছেন, সেটাও তাদের জানিয়েছেন। তারা যদি বলেন, তবে বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখবেন।

তবে প্রাথমিকভাবে তার কাছে রকিবুলের তথ্যাদি সঠিক বলে মনে হয়েছে বলে সুমন জানান।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।