রাত ০৩:৩৩ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

দেশের প্রতিটি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি ক্লাব হবে: পলক

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

টেক রিপোর্ট॥

'বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিশ্বমানের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রমাণও দিচ্ছে বাংলাদেশের মেধাবীরা। প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্ব আসরে আমাদের শিক্ষার্থীরাও যাতে নিয়মিত ভালো করতে পারে সে চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি প্রোগ্রামিংয়ের আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভালো করতে পারে সে বিষয়ে আলাদা নজর দেয়া হবে।’

শুক্রবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অনুষ্ঠিত 'জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা'র চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (অাইসিটি) বিভভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পলক অারও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অামরা রফতানিও শুরু করেছি। ২০১৮ সালের মধ্যে আমরা এই খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছি। গাজীপুরের কালিয়াকৈর-সহ দেশে ১৩টি হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলোতে ৭০ হাজার প্রযুক্তিবিদ প্রয়োজন হবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে এসব প্রযুক্তিবিদ বেরিয়ে অাসবে বলে তিনি অাশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি অারও বলেন, দেশের ১২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ৬৪টি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি ক্লাব গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লাবের দায়িত্বে থাকবেন এ খাতে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা। জেলার ক্লাবগুলোতে আমরা দু'জন করে প্রশিক্ষিত মডারেটর নিয়োগ করব।

‘জানুক সবাই, দেখাও তুমি’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (অাইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে চলতি মাসে সারাদেশে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার বুয়েটের ইসিই ভবনে প্রতিযোগিতায় ৭টি বিভাগ এবং ঢাকা মহানগরসহ ৮টি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। এ আয়োজনে ৯৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে আইসিটি কুইজে (জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির) ৮০৩ জন এবং প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় (জুনিয়র ও সিনিয়র ক্যাটাগরির) ১৭০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

বিকেলে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে কুইজ প্রতিযোগিতায় ৫৯ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ১৬ ও ২০ জন করে মোট ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায়  জুনিয়র ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে খুলনার মওদুদ হাসান এবং সিনিয়র ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রামের আসিফ জাওয়াদ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই ভাল ফল করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাইস্কুল পর্যায়েও আমাদের শিক্ষার্থীরা ভাল করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর  রশিদ, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান  ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, মোবাইল অপারেটর রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবির, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, আর টিভির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিক রহমান, ধানসিড়ি কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শমী কায়সার-সহ অনেকে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্য থেকে সেরা ৪৬ জন এবং কুইজ প্রতিযোগিতা থেকে ৭ জনসহ ৫৩ জনকে ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ৫৩ জনকে নিয়ে ঢাকায় ১-৪ জুন একটি প্রোগ্রামিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সকালে প্রতিযোগিতার উদ্ধোধন করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে 'ঢাকা মহানগর আঞ্চলিক পর্ব' দিয়ে শুভ সূচনা হয় এ বছরের আয়োজনের। ৮টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। অঞ্চল গুলো হলো রংপুর, রাজশাহী,  খুলনা,  সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিভাগ।

অাইসিটি বিভাগের এ উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে রবি ও আনোয়ার ইস্পাত। সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও ধাঁনসিড়ি কমিউনিকেশন। একাডেমিক সহযোগিতায় রয়েছে কোডমার্শাল ও দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল।

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।