ভোর ০৬:২১ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

ন্যায্যমূল্যে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

পবিত্র শব-ই-বরাত ও রমজানে জনসাধারণের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে মানসম্পন্ন চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে প্যাকেটজাত আখের চিনি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি)।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বৃহস্পতিবার রাজধানীর দিলকুশায় চিনিশিল্প ভবনে এ বিক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বিএসএফআইসি’র চেয়ারম্যান একে এম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বিশেষ অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে উন্নতমানের দেশি চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোজার মাসে দেশে যে পরিমাণ চিনি দরকার, সরকারের কাছে সে পরিমাণ চিনি মজুদ রয়েছে।”

এতে পবিত্র রমজানে কেউ অতি মুনাফার সুযোগ পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি শুধু পবিত্র রমজান মাসেই নয়, সারা বছর রাজধানীসহ দেশব্যাপী এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বিএসএফআইসি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, “চিনিশিল্প লাভজনক করতে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে পণ্য বৈচিত্রকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন র্কমসুচরি (এডিপি) আওতায় ঠাকুরগাঁও চিনিকলে পুরাতন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি সুগারবিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছ।”

তিনি আরও বলেন, “নর্থবঙ্গেল চিনিকলে অমৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ‘র’-সুগার থেকে বছরে ৪০ হাজার মট্রেকি টন ক্ষমতাসম্পন্ন সুগার রিফাইনারি স্থাপন প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্য চিনিকলেও এসব কর্মসূচি বাস্তাবয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে চিনি শিল্প সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে পরিণত হবে।”

চিনিকলে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আখ চাষিদের স্বার্থে সম্প্রতি প্রতি কুইন্টালে আখরে দাম ২৫০ টাকা থকেে বাড়িয়ে ২৭৫ টাকা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শিল্পসচিব বলেন, “আমদানিকৃত চিনির মাত্র ১০ শতাংশ আখ থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে আখ থেকে উৎপাদিত হওয়ায় এ চিনির মিষ্টতা, গুণগতমান ও খাদ্যগুণ অনেক বেশি।”

তিনি নির্ভেজাল এ চিনির প্রচারণা জোরদার করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান। দেশের চাহিদার অতিরিক্ত চিনি আমদানি করে চিনির বাজার নষ্টের অপচেষ্টা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আখ থেকে উৎপাদিত এ চিনির এক কেজির প্যাকেট ৪২ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট ৮৩ টাকায় বিক্রয় হবে। খুচরা বিক্রেতারা এক কেজির প্যাকেট সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট ৯০ টাকা বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে বিএসএফআইসি’র কাছে চিনির মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।