রাত ০৫:৫৯ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

তামাকের অবৈধ বাণিজ্যে রাজস্ব ক্ষতি ২৪৩ কোটি টাকা

অ্যান্টি টোব্যাকো জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন চার সাংবাদিক

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বাংলাদেশে বছরে তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর ফলে সরকার প্রতি বছর ২৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকার রাজস্ব হারায়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অ্যালায়েন্স (এফসিএ) ও হেলথ ব্রিজ পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী এ তথ্য জানা যায়। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সব তথ্য জানানো হয়।

তামাক বিরোধী উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনের জন্য চার জন সাংবাদিককে অ্যান্টি টোব্যাকো জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন দ্য ডেইলি স্টারের লালমনিরহাট প্রতিনিধি এস দিলীপ রায়, এনটিভির আশিকুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হামিদ-উজ-জামান মামুন এবং দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার আবু বক্কর সিদ্দিক। এদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

প্রধান বক্তব্যে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ বলেন, “একজন সাংসদ হিসেবে তামাকের কর বাড়ানোর জন্য সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব, যা তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধেও অবদান রাখবে। আর তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে গণমাধ্যমকেও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত মানস এর সভাপতি ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স এর সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, “অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এখন অনেক শক্তিশালী। সুতরাং আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তামাকের ব্যবহার অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং তামাকের অবৈধ বাণিজ্য নির্মূল করা সম্ভব হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলন আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। যার প্রমাণ এবারের বাজেটের আগে বিড়ির কর না বাড়ানোর জন্য ডিও লেটার এনবিআর এ না আসা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ কে এম জোবায়ের, অ্যান্টি টোব্যাকো জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্সের আহবায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন এবং যুগ্ম আহবায়ক নাদিরা কিরন।

প্রজ্ঞা পরিচালিত (২০১১) গবেষণায় দেখা গেছে, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা শতাধিক ব্রান্ডের অবৈধ তামাক পণ্যের বাজার এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া প্রায় ২৬ শতাংশ সিগারেট-বিড়ি চুরুট এবং ১৪ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের প্রায় পুরোটাই স্থলপথে ভারত থেকে আসে। অবৈধ সিগারেট ও চুরুটের অধিকাংশই আসে সমুদ্র ও বিমানপথে। এগুলো কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশব্যাপী তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পথ ধরে সংঘবদ্ধ চোরাকারবার, মাদকপাচার ও মানব পাচারের মত ভয়াবহ ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

গ্লোব্যাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী (২০০৯), বাংলাদেশে মাত্র ৫ বছরের (২০০৪ থেকে ২০০৯) ব্যবধানে তামাক ব্যবহারকারীর হার ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।