রাত ০৮:৪৬ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ জুন, ২০১৯  

'বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম হবে তরুণ প্রজন্মের বাতিঘর'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ছিলেন তরুণ বিজ্ঞানী। এখন উদিত উদ্যোক্তা। অাছেন নেতৃত্বেও। তিনি অারিফুল হাসান অপু। কাজ করতে ভালোবাসেন। স্বপ্ন দেখেন তরুণদের নিয়ে দেশটাকে বদলে দেবেন।

কেবল পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যিনি তরুণ বিজ্ঞানীর তকমা মুছে ফেলে এখন পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা। নিজেই এখন অনেকের পৃষ্ঠপোষক। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ই-সফট -এর তিনি প্রধান নির্বাহী। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও সেবাপণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বেসিসের তিনি একজন পরিচালক।

স্বপ্ন দেখছেন বেসিস স্টুডেন্ট ফোরাম দিয়ে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলবেন। হয়তো তা পারবেনও। কারণ সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়েই তিনি এই যুদ্ধে নেমেছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হিটলার এ. হালিম

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হলেন কেন?

অারিফুল হাসান অপু: ছাত্রজীবন থেকেই আমার উদ্ভাবনী বিষয়াদির ওপর আলাদা আগ্রহ ছিল। আমি দেখেছি যে, মনের মধ্যের সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর জন্য স্বাধীনতা দরকার। অন্য কোথাও চাকরি করে উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানো অনেক কঠিন। বাংলাদেশের প্রথম হেলথ পোর্টাল (ডক্টরসবিডি) আমি নিয়ে এসেছিলাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমিও কিছুদিন চাকরি করেছি। ওই সময়ে আমি তাদেরকে এই আইডিয়াগুলো বলেছিলাম। কিন্তু তারা এটা গ্রহণ করেননি। তখন ভেবেছিলাম, ইনোভেটিভ জিনিস নিজের মতো করে করতে হবে, অবশ্যই কিছু ঝুঁকি আছে, তবে নিজের মনমতো কিছু করতে চাইলে নিজেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার কোনও বিকল্প নেই।

বাংলা ট্রিবিউন: অাপনি ছিলেন উদ্ভাবক, এক সময়কার তরুণ বিজ্ঞানী। এই এখন 'উদ্ভাবক' বা তরুণ বিজ্ঞানী পরিচয়টাকে কি মিস করেন?

অারিফুল হাসান অপু: আমি আসলে 'তরুণ বিজ্ঞানী' পরিচয়টা মিস করি না। বরং এখনও উপভোগ করি। তরুণ বিজ্ঞানী হওয়ার সুবাদে আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ৪৫টি বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মেলার নির্দেশক ও বিচারক ছিলাম। এখনও নিয়মিত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। আমি এক সময়ে ছিলাম, এখন যারা আসতে চায় তাদের প্রতিনিয়ত সহায়তা করছি। সম্প্রতি নাসা অ্যাপস চ্যালেঞ্জ এর বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে ছিলাম, এ ছাড়াও চিল্ড্রেন সায়েন্স কংগ্রেসের নির্দেশক ও বিচারক ছিলাম। নতুন গবেষকের খোঁজ'র দু'বারের পরিচালক ছিলাম আমি। অতীতে উদ্ভাবনী বিষয়গুলোর ওপর কাজ করার জন্যই কিন্তু আমি এখানে এসেছি। সেগুলো কিছুটা মিস করলেও এই প্রোগ্রামগুলির মাধ্যমে পুষিয়ে যাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এই ধারা থেকে সরে এলেন কেন?

অারিফুল হাসান অপু: এর একটি বড় উদাহরণ ২০০৩ সালে আমার একটি বড় আবিষ্কার 'হাত বাড়ালেই পানি' প্রকল্পটির জন্য কোনও পৃষ্ঠপোষক না পাওয়া। এটি ছিল একটি আটোমেটিক প্রযুক্তির টিউবওয়েল। যেটি বাংলাদেশের সাধারণ টিউবওয়েলের মতোই তবে আমি সেটিকে মডিফাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করেছিলাম। যন্ত্রটা এমন ছিল যে টিউবওয়েলের নিচে হাত নিলেই স্বয়ংক্রিভাবে পানি পড়ত আর সরিয়ে ফেললে পানি পড়া বন্ধ হত। এই প্রযুক্তি নিয়ে আমি অনেকের কাছে ঘুরেছি। বোঝানোর চেষ্টা করেছি এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মার্কেটিং হলে এটি ব্যবসাসফল হবে। পেটেন্ট নিয়েও অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কেউ সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারেনি। এসব নিয়ে এক পর্যায়ে আমি হতাশ হয়ে পড়ি।

বাংলা ট্রিবিউন: পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই কী বিজ্ঞান চর্চা থেকে সরে এলেন?

অারিফুল হাসান অপু: বিজ্ঞান চর্চা থেকে কিন্তু আমি দূরে সরে আসিনি, বিজ্ঞানের সঙ্গে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি যোগ হয়েছে। তবে আমি মনে করি, যেকোনও উদ্ভাবনের পরবর্তী ধাপে যদি সঠিক মেন্টরিং ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া না যায়, ধীরে ধীরে আগ্রহ কমে যায়। বাংলাদেশে এখনও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক মেধাবী আছে যারা সঠিক নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বেশি দূর এগোতে পারে না। আমার শিক্ষারভিত্তি যেহেতু কমপিউটার সায়েন্স ফলে আমি ধীরে ধীরে তথ্যপ্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ি।

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হিসেবে অাপনার নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাই।

অারিফুল হাসান অপু: ই-সফট শুরু হয় ২০০৪ সালে। ওই সময়ে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির অবস্থা একেবারেই গর্ব করার মতো অবস্থায় ছিল না। তখন দেশে ইন্টারনেট এতো সহজলভ্যই ছিল না। আমরা বাংলাদেশে মূলত ডোমেইন, হোস্টিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ই-কমার্স এই বিষয়গুলো বিষয় নিয়ে কাজ করি। ওই সময়ে একটা ভয়ানক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের প্রথম দিককার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি আমরা। তাই আমাদেরকে প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হয়েছে, বোঝাতে হয়েছে। ওই সময়ে ওয়েবসাইট কী জিনিস সেটিই অনেকেই জানত না।

ই-সফট এখন মোটামুটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। ই-সফট ১২ বছরে পা দিয়েছে সম্প্রতি। আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০০ প্রতিষ্ঠানকে ওয়েব সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টার্ন করেছে প্রায় ৫৫ জন শিক্ষার্থী। আমাদের এখানে শিক্ষানবিশী করে যাওয়া এক শিক্ষার্থী সম্প্রতি ফেসবুকে ইন্টারভিউ-এর জন্য ডাক পেয়েছে। এটা অনেক বড় সন্তুষ্টির জায়গা যে, আমরা কিছু ভালো প্রফেশনালও তৈরি করতে পেরেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: অাপনি বেসিসের একজন অন্যতম পরিচালক। হঠাৎ নেতৃত্বে এলেন?

অারিফুল হাসান অপু: নেতৃত্বে আমি একদিনে আসিনি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান ক্লাব ‘ছায়াপথ’ আমার হাত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। ওই ক্লাবের ৫৫টি শাখা ছিল সারা বাংলাদেশে। প্রতিটি বিজ্ঞান মেলায় ছায়াপথ বিজ্ঞান ক্লাব খুব ভালো করত। ওই সময়েই নেতৃত্বে কিছুতা দক্ষতা তৈরি হয় অামার। ই-সফট প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমি দায়িত্ব পালন করতাম। আমি প্রথমে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই, পরবর্তীতে কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। দীর্ঘ ৮ বছর বেসিসের সঙ্গে আছি, এভাবেই সদস্যরা আমাকে পছন্দ করেন। তাদের সুখ, দুঃখ আমার সঙ্গে শেয়ার করেন। তাদের কোনও সমস্যা হলে আমি সাধ্যমত সহায়তা করার চেষ্টা করতাম। এরপর মূলতঃ সদস্যদের আগ্রহেই আমি নির্বাচনটা করি।

বাংলা ট্রিবিউন: এখানে কোন বিষয়টিকে ফোকাস করতে চান?

আরিফুল হাসান অপু: তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের এখন অপার সম্ভাবনা। তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে আমরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্র হয়ে যেতে পারি খুব সহজেই। আমি শুধু বেসিসের না, সারা দেশের বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিকে এমন জায়গায় দেখতে চাই যাতে করে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতে একটি আইটি নেশনে পরিণত হতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের চিন্তা কীভাবে এলো?

অারিফুল হাসান অপু: এ বিষয়ে একটি কথা বলে নেওয়া ভালো, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামটির আইডিয়া আমাদের শামীম আহসান (বেসিস সভাপতি) ভাইয়ের মাথা থেকে আসে। পরবর্তীতে শামীম ভাই আমার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি দেখে এবং নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে আমাকে এই দায়িত্বটি দেন। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: অাপনি বেসিসের স্টুডেন্টস ফোরামের দায়িত্বে রয়েছেন। স্টুডেন্টস ফোরামের কাজটা অাসলে কী?

অারিফুল হাসান অপু: স্টুডেস্ট ফোরাম হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রি এবং ইউনিভার্সিটির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। যা আমরা অতীতে কখনও পারিনি। আমাদের একটি একাডেমিক অ্যাসাইনম্যান্ট করতে চাইলে সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো কিন্তু এ বিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাদের প্রফেশনালের সহায়তার দরকার হয়। স্টুডেন্টস ফোরাম মূলত এই সেতুবন্ধনের কাজ করে। আমাদের বেসিসের ৯৫০ জন সদস্য রয়েছেন এবং প্রতিটি কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন প্রডাক্ট, সার্ভিস নিয়ে কাজ করে। যে ক্ষেত্রে যেসব কোম্পানি কাজ করছে সে সেক্টরের রিলেটেড সমস্যার বিষয়ে কোনও ছাত্রকে মেন্টরিং করতে ওই কোম্পানি থেকে আমরা সাপোর্ট দেব।

স্টুডেন্টস ফোরামের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হচ্ছে, স্টুডেন্টসরা পাস করে বের হওয়ার আগে সঠিক নির্দেশনা পাবে। ইন্ডাস্ট্রি কী চায় সে সম্পর্কে জানবে- কেমন লোক এখন দরকার। কেমন চাকরির সুযোগ রয়েছে। এই তথ্যগুলো আমরা সংগ্রহ করি এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলি। আমাদের সেমিনার হয়, গোলটেবিল আলোচনা হয়, প্যানেল বিশ্লেষণ হয়। প্যানেল বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছাত্ররা নিজেদের সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের বলে। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী আসলে জানে না যে পাস করার পর সে কী করবে। যদি সে জানতে পারে যে সে কী করছে আর ইন্ডাস্ট্রি কী চায় তাহলে যে সঠিক পথেই এগুতে পারে। আমরা তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে কাজ করছি। আমরা বিভিন্ন ‘টেক অ্যান্ড ক্যারিয়ার’ আড্ডার আয়োজন করি। এসবের ফলে একজন স্টুডেন্টস যখন পাস করে বের হবে তখন কিন্তু তার অনেক অভিজ্ঞতা থাকবে যা বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি চায়।

এখন প্রায় ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কমিটি রয়েছে। প্রতি কমিটিতে নয়জন করে সদস্য থাকে। একজন থাকেন মেন্টর, যিনি সাধারণত ডিপার্টমেন্ট শিক্ষক হয়ে থাকেন। আরেকজন আহ্বায়ক (ছাত্র প্রতিনিধি) থাকেন। আর ৭ জন থাকেন সাধারণ সদস্য। প্রতিটি কমিটিতে আমরা কমপক্ষে দু'জন ছাত্রীকে থাকা বাধ্যতামূলক করেছি। আমরা চাই নারীরা আইটি ক্যারিয়ারে আরও বেশি আসুক।

এর বাইরে প্রায় এক লাখের বেশি স্টুডেন্টস আমাদের সঙ্গে কাজ করে। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও কাজ হয়। আইটি ক্যারিয়ার নিয়ে সামনে অামাদের একটা প্রোগ্রাম হবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাবে)। ওই বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার একদিনের মধ্যে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে। এতে করে বোঝা যায় যে তারা ক্যারিয়ার নিয়ে কতটা ভাবে।

স্টুডেন্টস ফোরাম কাজ শুরু করেছে মাত্র তিন মাস হলো। এর মধ্যে আমাদের অগ্রগতি অনেক। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আমরা আইটি সেক্টরের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান করেছি। যেখানে প্রায় ৪ হাজার ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিলো। হলের মধ্যে জায়গা না হওয়ায় এক থেকে দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী বাইরে ছিল। এটি ছিল আমাদের প্রথম সাফল্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাসার সঙ্গে আমরা একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করি। প্রতিযোগিতামূলক এই প্রোগ্রামে সারা দেশের প্রায় ২৫০টি টিম অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে। পরবর্তীতে আমরা আরও ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা প্রোগ্রাম করেছি। সেখানে আইটি ক্যারিয়ার এবং বর্তমান ও ভবিষ্যত চাকরির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইটির বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির প্রধানরা ছাত্রদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সামগ্রিক সাফল্য বলতে আমরা এর মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করতে পেরেছি। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে আমরা দেশব্যাপী ২৫টির বেশি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: স্টুডেন্টস ফোরামের মূল লক্ষ্য অাসলে কী?

অারিফুল হাসান অপু: আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্নভাবে স্টুডেন্টসদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের আইটি ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে সহায়তা। আমরা চাচ্ছি, সারা বাংলাদেশের তৃণমূলে কাজ করা। এর পরবর্তী ধাপে আমরা পলিটেকনিক ও কলেজগুলোতে যাব। আমরা চাই, স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীরা আইটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠুক।

বাংলা ট্রিবিউন: স্টুডেন্টস ফোরাম শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিমুখী করতে কী ভূমিকা রাখতে পারে।

অারিফুল হাসান অপু: স্টুডেন্টস ফোরাম পুরোপুরিভাবেই ভূমিকা রাখতে পারে। স্টুটেন্ট ফোরাম মানে শুধু ১০০ বিশ্ববিদ্যালয় নয়। বাংলাদেশের ১৯৬টা পলিটেকনিক এবং ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কলেজ এর সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। অ‌‌‌াগামী দিনে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিমুখী করতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নেব। এতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় ভূমিকা থাকবে। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম হবে তরুণ প্রজন্মের বাতিঘর।

বাংলা ট্রিবিউন: বেসিস হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন, স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে তারা কী সুবিধা পাবে?

আরিফুল হাসান অপু: প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হচ্ছে। অপরদিকে ইন্ডাস্ট্রি যোগ্যতা সম্পন্ন প্রফেশনাল খুঁজে পাচ্ছে না, কারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ব্যবহারিক জ্ঞান না থাকাটা একটি বড় ব্যাপার। আমরা এখন থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছি এবং আর কিছু দিনের মধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির স্কিল প্রফেশনালের জন্য বার বার জব পোস্ট করতে হবে না। এছাড়াও বিঅাইটিএম -এর মাধ্যমে বেসিস আগামী ৫ বছরে প্রায় ২৩ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেবে। তাই আমি মনে করি, এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রি লাভবান না হলেও দক্ষ আইটি প্রফেশনাল খুঁজে পেতে আমাদের সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিকে কষ্ট করতে হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন?

অারিফুল হাসান অপু: একদিন বাংলাদেশের তরুণরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো দেশের চেহারা বদলে দেবে। আমি নিশ্চিত, এই স্টুডেন্টস ফোরাম থেকে আগামী দিনের জাকারবার্গ বা বিল গেটস বের হয়ে আসবে। হয়তো তা এখনই হবে না কিন্তু স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? অদূর ভবিষ্যতে ঠিকই হবে। আমি চাই অাগামীর বাংলাদেশ হবে শতভাগ আইটি নেশন এবং এর মাধ্যমেই বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ অাপনাকে।

অারিফুল হাসান অপু: বাংলা ট্রিবিউনকে ধন্যবাদ অামার কথাগুলো বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

শ্রুতিলিখন: এম. এম. রহমান

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন ও সংগ্রহ

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।