দুপুর ০২:৩৪ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

আলোর ইশকুলের আলোকযাত্রা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

স্কুল না কি ইশকুল! দেশের স্কুলগুলো এখন হয়ে পড়েছে মূলত বাধ্যতামূলক মুখস্ত বিদ্যার কেন্দ্র। কিন্তু সেই পাঠমুখস্তের সঙ্গে  আনন্দ না থাকার কারণে স্কুলগুলো হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একঘেয়ে, ক্ষেত্র বিশেষে আতঙ্কের জায়গাও। এখন ভাবনার সময় এসেছে, স্কুলকে আনন্দময় করে তোলার। তাহলেই সেখানে শিক্ষার্থীদের আনন্দ লাভের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই জ্ঞানার্জন করতে আগ্রহী হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দৃষ্টিসম্পন্ন উদার ও আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। আর এ কাজটি করছে বাংলাদেশে আলো ছড়ানোর কাজে সদা ব্যস্ত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। যা পরিচিত ‘আলোর ইশকুল’ নামে।

 

কেমন সেই ইশকুল?

এটি এমন এক ইশকুল যেখানে একসঙ্গে শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পারে জ্ঞান, সৌন্দর্য ও আনন্দের স্পর্শ-পাওয়া বৈশ্বিক দৃষ্টিসম্পন্ন উদার ও আধুনিক মানুষ গড়ে তোলার শিক্ষা। তারুণ্যের অগ্রাধিকার থাকলেও নানা বয়সী শিক্ষার্থী একযোগে শিক্ষা লাভ করতে পারে এ ইশকুলে। বিশ্বের সংগীত, সাহিত্য, নৃত্য, চিত্রকলা, স্থাপত্য, ভার্স্কয, চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে ইতিহাস, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, পরিবেশসহ জ্ঞান আহরণের বিভিন্ন শাখায় সুযোগ থাকে এখানে।

পাঠ পদ্ধতি

পড়ালেখার চেয়ে পড়াশোনার ওপর বেশি গুরত্বারোপ করা হয় এ ইশকুলে। ফলে, গুরত্ব পেয়ে থাকে বক্তব্য শোনা ও মুক্ত আলোচনার ওপর। একই সঙ্গে দেখা, শোনা ও ভ্রমণ। শেষে যা এক হয় পারস্পরিক মুক্ত আলোচনা থেকে মুক্ত যৌক্তিক তর্ক-বির্তকের মধ্য দিয়ে। এ ধরনের পাঠ চক্রে বইপড়া, বক্তৃতা শোনা, আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ, দলীয়ভাবে প্রামাণ্যচিত্র-চলচ্চিত্র-নাটক দেখা, সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান, চিত্রকলা প্রর্দশনী উপভোগ, দলীয় ভ্রমণের মতো জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন শাখা রাখা হয় প্রাত্যহিক পাঠ অভ্যাসে। ফলে, বই পড়ানোর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা পেয়ে যান বিভিন্ন ক্ষেত্রের বাস্তবিক জ্ঞান। তবে এখানেই শেষ নয়, কী কী শেখা হলো আর জানা হলো তা লিখে জমা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর এভাবইে গড়ে উঠে আলোকিত মানুষ।

সোনা-রুপার ইশকুল 

ছোট-বড় ১০০টি ‘উৎর্কষ চক্র’র মাধ্যমে প্রতি পাঁচ বছরে একবার সম্পন্ন হবে এই আলোকযাত্রা। চক্রগুলো হবে দুই মাস থেকে এক বছরের। যেখানে অংশ নেওয়ার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীরা পাবেন যোগ্য সম্মান। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়- ২০টি চক্র সফলভাবে শেষ করলে মিলবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মর্যাদামূলক সনদ, সঙ্গে ‘আলোর ইশকুল’-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ। এছাড়া সফলভাবে ৫০টি চক্র শেষ করলে পাওয়া যাবে সনদসহ রৌপ্যপদক, ৭৫টি শেষে  স্বর্ণপদক, আর ৯০টি চক্র শেষে বিশেষ স্বর্ণপদক। আর আলোর ইশকুলের আজীবন সদস্যপদতো আছেই।

গল্পের শুরু

২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে যাত্রা শুরু হয় আলোর ইশকুলের প্রথম পর্বের। এই পর্বের পাঠ চক্রগুলো ছিল-বিশ্বসাহিত্য পাঠ, উপমহাদেশীয় ধ্রুপদি নৃত্য, উপমহাদেশীয় উচ্চাঙ্গসংগীত, দর্শন, গাছ ও ফুল পরিচিতি, চলচ্চিত্র চক্র, ভ্রমণ কর্মসূচি, নাটক ও সাংস্কৃতিক চক্র, ‘বাঙালির ইতিহাস ও বাঙালির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লব’ র্শীষক বক্তৃতামালা, আর্ট অ্যাপ্রিসিয়েশন, প্রামাণ্যচিত্র প্রর্দশনী, সেরা ১০০ বাংলা চলচ্চত্রি প্রর্দশনী, বিশ্বসেরা নাটকের পাঠচক্র ও আবৃত্তি সংঘ।

শুরু হচ্ছে ‘আলোর ইশকুল’ তৃতীয় পর্ব

তারুণ্যকে সম্ভব নয় বয়সের ভারে আটকানো। তাইতো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোকিত মানুষ হবার চেষ্টাকে আরও মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দিতে আয়োজকেরা শুরু করতে যাচ্ছে তাদের আলো ছড়াবার তৃতীয় পর্ব। যা শুরু হবে আগামী জুলাই থেকে। এ পর্বে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে চলচ্চিত্র, আর্ট অ্যাপ্রিসিয়েশন, আবৃত্তি, ভারতীয় দর্শন, পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সংগীত, শ্রেষ্ঠ বইয়ের ওপর বক্তৃতা, ভ্রমণ কর্মসূচী, প্রামাণ্যচিত্র, বিশ্বসাহিত্য, ফটোগ্রাফি কোর্স, মাহকাব্য পাঠচক্র,বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা ও মুক্ত আলোচনা, নাট্যানুষ্ঠান, চিত্রপ্রদর্শনী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আস্বাদন, স্থাপত্যের নান্দনিকতার মতো ১৪টি বিষয়।

বিভিন্ন অঙ্গনের বরেণ্য ও খ্যাতিমান ব্যক্তিরা এসব চক্র পরিচালনা করবেন এবং বক্তৃতা পর্বে অংশ নেবেন। আর  আগ্রহীরা পাবেন এই চক্রগুলোর যতগুলোতে খুশি অংশগ্রহণের সুযোগ। তাহলে, আর দেরি না করে অংশ নিতে পারেন জ্ঞান অর্জনের এই মহা উৎসবে।

এতে অংশ নিতে যোগাযোগ করতে পারেন- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ১৭ ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা-১০০০ এই ঠিকানায়। এ ছাড়া ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন ৯৬৬০৮১২, ৫৮৬১১৯৪০ নম্বরে।

/এআই/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।