সকাল ০৯:১০ ; শুক্রবার ;  ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯  

১৯ বছরেও গতি হয় না যে তদন্তের

কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম।।

যে ঘটনার তদন্ত গত ১৯ বছরেও শেষ হয়নি, তা হলো পার্বত্য জেলার হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনা।বার বার বিভিন্ন হাত ঘুরে সময় আবেদনের ফেরে পড়েছে এ তদন্ত । এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী প্রতিবেদন জমাদানের দিন আগামী ২৭ মে ধার্য আছে । মামলাটি চালিয়ে নিচ্ছেন যারা তারা বলছেন, ভিকটিমকে না পেলে তদন্ত শেষ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাড়িয়েছে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াই। কোনও তদন্ত কর্মকর্তা এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন কিনা সে প্রশ্নও তোলেছেন তারা।

১৯৯৬ সাল থেকে এরইমধ্যে ৩৫ জন তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। কিন্তু এখনও সন্ধান মেলেনি কল্পনা চাকমার। সর্বশেষ রাঙামাটির এসপি আমেনা বেগম তদন্ত শুরু করার পর আগামী ২৭ মে এর ২২তম শুনানি। তবে এরইমধ্যে আমেনা বেগমও বদলি হয়ে গেছেন। নতুন এসপি আবারও শুরু থেকে তদন্ত শুরু করার আবেদন জানালে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আর কখনওই সামনে আসবে না।

অপহরণের পরদিন কল্পনা চাকমার বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের ১৪ বছর পর ২০১০ সালের ২১ মে মামলাটির প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ১৪ বছর তদন্তাধীন থাকার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে তা দাখিল করা হয়। বাদী ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দিলে পরবর্তী সময়ে অধিকতর তদন্তের জন্য আদালত মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন। সিআইডি দুই বছর সময় নিয়ে অবশেষে ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে।

বর্তমানে কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলাটি রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের অধীনে পুনঃতদন্তাধীন। গত মে মাসে মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার কথা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা দিতে সমর্থ হননি। বরং তিনি এ মামলার তদন্ত ভার থেকে অব্যাহতি চেয়ে মামলাটি আবারও সিআইডির কাছে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

গত বছরের জুনে আদালতে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে আমেনা বেগম জানিয়েছেন, ‘তদন্ত ভার গ্রহণের পর আমি ঘটনাস্থল আবার পরিদর্শন করি। তদন্তকালে কিছু সাক্ষীর জবানবনন্দি লিপিবদ্ধ করি। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশমতে লে. ফেরদৌস, ভিডিপি সদস্য নুরুল হক ও সালেহ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মামলার ঘটনাটি যেহেতু দেড় যুগ আগের, ১৮ বছরে ভিকটিমের চেহারার পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যেহেতু এই মামলার মূল সাক্ষী ভিকটিম কল্পনা নিজেই, তাই ওই কল্পনা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কিংবা তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত মামলার তদন্ত শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মামলার ভিকটিম কল্পনা চাকমাকে উদ্ধারের জোর তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

সিএইচটি কমিশনের সমন্বয়ক হানা শামস আহমেদ বলেন, কল্পনা চাকমার দুই ভাই অপহরণের সাক্ষী থাকার পরও শুধু কল্পনা নিজেই অপহরণের সাক্ষী এমন বলাটা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং মিথ্যা বক্তব্য। আমেনা বেগম তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এই সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মামলায় উল্লেখ করা লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসসহ তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়ার পরও কেন তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারছেন সেটা খুবই শঙ্কার বিষয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাঙামাটির এসপি আমেনা বেগম বলেন, ‘মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কজোইছড়ি ক্যাম্পের সাবেক লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস এবং ভিডিপি সদস্য নূরুল হক ও সালেহ আহমেদকে সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্ত এখনও চলমান বিধায় এখন কোনও কথা বলা ঠিক হবে না।’

 

/ইউআই /এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।