রাত ১১:৩৭ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজে আসছে না 'থ্রি-আর' প্রকল্প

প্রকাশিত:

সাদমা মালিক॥

শহরবাসী ও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সচেতনতার অভাবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ২১ কোটি টাকার একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রকল্পটির অধীনে (থ্রি-আর : রিসাইকেল, রিইউজ ও রিডিউস) যে তিনটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছিলো তা হলো- রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা জিনিসকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা, পুনঃব্যবহার করা এবং হ্রাস করা। ২০১২ সালে পরিবেশ অধিদফতর এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলো।

মানসম্পন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ভবনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের জন্য সবুজ, হলুদ, লাল ও নীল রঙের আলাদা আলাদা পাত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। ওইসব ভবনগুলোতে নিয়োজিত ক্লিনারদের সংগৃহীত বর্জ্যগুলোর মধ্যে থেকে জৈব, অজৈব, বিপজ্জনক ও মিশ্র বর্জ্যের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।

কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারা আবাসিক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসা-বাড়িগুলো থেকে সংগৃহীত বেশিরভাগ বর্জ্যের ক্ষেত্রেই থ্রি-আর পদ্ধতি মানা হচ্ছে না এবং যথাস্থানে সেগুলোকে রাখা হচ্ছে না। এছাড়া সব বর্জ্য একসঙ্গে ডাম্পিং করা হচ্ছে।

বারিধারার একটি আবাসিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মী তাহের উদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পটির শুরুর দিকে ভবনগুলোতে আলাদা বর্জ্যের জন্য আলাদা পাত্র দেওয়া হয়েছিলো এবং ক্লিনাররা সঠিকভাবেই সেগুলোর ব্যবহার করতো। তবে ধীরে ধীরে তারা কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে।’

থ্রি-আর প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মওদুদুর রশিদ সফদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এটা বলবো না যে, প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তবে থ্রি-আর কৌশলটির বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছ থেকে আরও এক বছর সময় বাড়িয়ে নিয়েছি এবং এর মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণে জনগণকে সচেতন করতে পারবো। থ্রি-আর পদ্ধতিটির মূলনীতি এবং সেটির ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করবো এবং আশা করছি বর্তমান সমস্যাগুলো খুব শিগগিরই কাটিয়ে উঠবো।'

তিনি আরও বলেন, 'যখন জনগণ বর্জ্য পৃথকীকরণের বিষয়ে সচেতন হবে তখন এ প্রকল্পটি শহরের পরিবেশ পরিবর্তনে অবদান রাখবে এবং জলবায়ু পরিবর্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।'

ঢাকাভিত্তিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট কনসার্নের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এএইচ মো. মাকসুদ সিনহা প্রকল্পটির ব্যর্থতার জন্য জনগণের অনুপ্রেরণার অভাবকেই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, 'সিটি মেয়র ও কমিউনিটিগুলোর মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া থাকলেই সমস্যাটির সমাধান হওয়া সম্ভব। কমিউনিটিগুলোকে উৎসাহিত করতে মেয়র ও মিউনিসিপ্যালিটিকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পাওয়া যায়।'

শহরবাসী ও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের এসব অভ্যাসগত দিক নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক বলেন, 'শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য থ্রি-আর পদ্ধতিটি অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে যদিও এক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে।'

প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের মাঝে এ বিষয়ে দ্রুত সচেতনা তৈরির বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘জৈব ও অজৈব উভয় ধরনের বর্জ্যকেই আমরা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারি। এসব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎসহ আরও অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব।'

ওয়েস্ট কনসার্নের এক জরিপে দেখা যায়, ঢাকায় প্রতিদিন চার হাজার ৫০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য সৃষ্টি হয়।

/এসএ/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।