দুপুর ০৩:০৪ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

‘কথা কম কাজ বেশি’

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম ॥

একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত রেদোয়ানের প্রতিদিনকার অভ্যাস মোবাইলে গোবিডি ডটকমে দেখা নেওয়া ঢাকার কোন রাস্তায় যানজটের পরিস্থিতি কি। সে অনুযায়ী ঠিক করবেন আজ কোন রাস্তায় দিয়ে অফিসের পথে রওনা দেবেন। ঠিকমতো অফিসে পৌঁছেই কাজ শুরু।

আজ অফিসে পৌছেই মনটা আরও ভালো হয়ে গেল রেদোয়ানের। কারণ,মোবাইল অ্যাপ ডিএসই অ্যালার্ম ম্যাসেজ। এর বার্তায় জেনে নিলেন এর মধ্যেই বেড়েছে গত সপ্তাহে কেনা শেয়ারের দাম। সকালের সব কিছু যখন ঠিকঠাক হঠ্যাৎ লক্ষ্য করলেন অফিস ক্যাবিনেটের চাবিটা ফেলে এসেছেন বাসায়। এখন ! সেই বারিধারা থেকে গাড়ি চালিয়ে ধানমন্ডি যেয়ে নিয়ে আসতে হবে চাবি ! ভেবেই বিরক্ত তিনি। এ সময় সহকর্মীর কাছে নিজের বিরক্তির কথা জানাবার পরপরই পেয়ে গেলেন সমাধান। স্মলেক্স ডটকমে অর্ডার দিলেন বাসা থেকে চাবিটি নিয়ে আসবার জন্য। মাত্র ৩৫ টাকায় তিরিশ মিনিটের ব্যবধানে পেয়েগেলেন অফিস ক্যাবিনেটের চাবি। কারণ, ঢাকার মধ্যে সব এলাকায় চালু আছে স্মলেক্স ডটকমের কুরিয়ার সাইকেল সার্ভিস।

এমন গল্পের মতো একসঙ্গে একই দিনে পুরো ঘটনা না ঘটলেও প্রাত্যহিক জীবনে এমন প্রতিটি অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা অনেক। আর এমনই কিছু তৈরি হয়েছে দেশের মেধাবী ও উদ্যমী তরুণদের হাত ধরে। আর এ কাজগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাব ঢাকা আর ইউনিফক্স ডিজিটাল মিডিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো 'ডেমো ঢাকা' নামের অ্যাপ প্রদশর্নী উৎসব।

‘অ্যাকশন ইস্পিক্স লাউডার দ্যান ওয়ার্ড’ বা কথা কম কাজ বেশি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  রাজধানীর হোটেল  সারিনায় এ আ‌‌‌য়োজন। যার প্রধান লক্ষ্যই ছিল উদ্যমী ও মেধাবী তরুণদের সৃষ্টিশীল কাজগুলোকে আরও যুগপোযোগী করে তোলা। আয়োজনে  বিভিন্ন অ্যাপ থেকে শুরু করে সময় উপযোগী বিভিন্ন ওয়েবসাইট নিয়ে হাজির হন বিভিন্ন তরুণ ও উদ্যোক্তারা। যেখানে প্যানেল সদস্যদের সামনে তারা তুলে ধরেন তাদের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা। একই সঙ্গে চলে যুক্তি ও যুক্তিখণ্ডন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে আয়োজনের উদ্যোক্তা সাজিদ ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত যে সব আয়োজনে উদ্যোক্তারা ‘তাদের ধারণা কিংবা তৈরি পণ্য’ সঠিকভাবে প্রদশর্নী করতে পেরেছে,তারাই সাফল্যের পথ দেখেছে। একইভাবে ডেমো ঢাকায় অংশগ্রহনকারীদের তুলে ধরতে হয় তাদের সৃষ্টি।

আয়োজনে অংশ নেওয়া সৃষ্টিশীল তরুণেরা তুলে ধরেন তাদের কাজগুলো। এ সময়   বিভিন্ন অ্যাপ আর ওয়েবসাইটের বিভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করেছে শপাহোলিক ও মায়া আপা নামের দুই তরুণ উদ্যোক্তার দুটি ওয়েবসাইট।

কেনাকাটা করতে ভালবাসেন কিন্তু ডিসকাউন্ট পেতে পছন্দ করেন না এমন ক্রেতা পা্ওযা কঠিন। তাই, ডিসকাউন্ট পা্ওয়ার সুযোগ ক্রেতাদের আরো কাছে পৌছে দিতে শপাহোলিকের যাত্রা।  আর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নারীদের খোলা হয়েছে  মায়াআপা  নামের ওয়েবসাইট। যেখানে, যেকোনও নারী পাবেন তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ,হোক তা ব্যক্তিগত,শরীরিক কিংবা ব্যবসা সংক্রান্ত।

তবে,এগুলোর বাইরে কিছুটা হলেও ভিন্নভাবে নজর কেরেছে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়(বুয়েট) থেকে আসা সায়েদ তানজিম মুবারাতের তৈরি ‘হোপ রোবট’। যেটি মূলত কাজ করবে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষের নিচে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে।

প্রতিযোগীতার এ বাজারে প্রতিমুহূর্তে বিভিন্ন অঙ্গনে যোগ হচ্ছে কোনও না কোনও নতুনত্ব। সেই নতুনত্বের কতটুকু আপনি গ্রহণ করবেন আর কতটুকু এড়িয়ে যাবেন তা একান্তই নিজস্ব প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করবে। তবে,প্রয়োজনীয়তা যখন সার্বিক তখন এর গ্রহণযোগ্যতাও তুলে ধরাতে এক ছাদের নিচে এ ধরনের আয়োজন বাড়াবে সৃষ্টিশীলতার গ্রহণযোগ্যতা।

তাই চাইলে আপনিও একবার ঘুরে আসতে পারেন এই সাইটগুলোতে :

http://gobdmaps.cloudapp.net/app/

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.humaclab.madviser&hl=en

http://www.maya.com.bd/

http://shopaholicapp.com/

http://smilex.com.bd/

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.enamelbd.dsealarm

 

/এফএএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।