রাত ০৫:৩৫ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

তামাকে উচ্চ করারোপ অকালমৃত্যুরোধসহ রাজস্ব বাড়াবে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪৩ দশমিক ৩০ শতাংশ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধিসহ পরোক্ষভাবে অকালমৃত্যু, পঙ্গুত্ব এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের অন্যতম কারণ। প্রতি বছর এ পণ্য ব্যবহারে দেশের প্রায় ৭৬ হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে 'কেমন তামাক-কর চাই: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন বক্তারা এ সব কথা বলেন।

সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (এইচডিআরসি), প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, আত্মা’র কনভেনার ও বিডিনিউজ২৪.কম এর চিফ ক্রাইম রিপোর্টার মর্তুজা হায়দার লিটন,  কো-কনভেনার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করসপনডেন্ট নাদিরা কিরণ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের হিসাব অনুসারে তামাক পণ্যের ব্যবহারের ফলে বছরে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অথচ, বাংলাদেশ সরকারের তামাক-কর সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা এখনো নেই। এমনকি, ভিন্ন ভিন্ন মূল্যস্তরের ফলে তামাক-কর কাঠামোয় জটিলতাও বেড়েছে। এ সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে মূলত দেশী বিদেশী তামাক কোম্পানিগুলো।

এমতাবস্থায়, আসন্ন বাজেট ২০১৫-১৬ কে সামনে রেখে তামাকজাত পণ্যের উচ্চহারে কর আরোপের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে যে সব প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো:

১. কর নির্ধারণের জন্য সিগারেটের মূল্যস্তর পদ্ধতি বাতিল করে তুলনামূলক উচ্চহারে নির্দিষ্ট পরিমাণ (স্পেসিফিক) এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ।

২. বিড়ির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত স্বল্পমাত্রায় নির্ধারিত ‘ট্যারিফ ভ্যালু’র উপর কর ধার্য প্রথা বাতিল করে নির্দিষ্ট পরিমাণ (স্পেসিফিক) এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ।

৩. ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের উপর বর্তমান 'এড ভ্যালোরেম' কর ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ (স্পেসিফিক) এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ

৪. ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয় মূল্যের উপর বর্তমানে আরোপিত ১% স্বাস্থ সারচার্জ বাড়িয়ে ২% -এ উন্নীত করা।

আরও যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে প্রধান প্রধানগুলো হলো:

১. তামাকজাত পণ্যের উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ (স্পেসিফিক) অাবগারি শুল্ক প্রতি বছর সমন্বয় করা, যেন তামাকজাত পণ্যের প্রকৃত মূল্য না কমে।

২. ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের মধ্যে মোড়ক ও তার অভ্যন্তরে সিগারেটের পরিমাণ অভিন্ন করা (সিগারেট: প্রতি প্যাকেট ২০ শলাকা, বিড়ি: প্রতি প্যাকেট ২৫ শলাকা এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য: প্রতি প্যাকেট বা কৌটা ১০০ গ্রাম);

৩ ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরের মধ্যে একক শলাকা বিড়ি এবং একক শলাকা সিগারেট বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

৪. তামাকজাত পণ্যের ডিউটি-ফ্রি বিক্রয় নিষিদ্ধ করা।

৫. তামাকপাতা ও তামাকজাত পণ্যের রফাতানির ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ।

৬. উৎপাদনকারী কোম্পানীর উপর অন্যান্য করপোরেট কোম্পানির তুলনায় ন্যূনতম ৫ শতাংশ-পয়েন্ট অতিরিক্ত করারোপ করা।

৭. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিঅার) তামাক কর সেল (টিসিসি) এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) দাতাদের মুখাপেক্ষী না করে সরকারের নিয়মিত অর্থায়নে পরিচালিত করা।

৮. তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও পণ্যভিত্তিক রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হাল নাগাদ তথ্য-উপাত্ত এনবিঅার ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা।

৯. উৎপাদনকারী এবং সম্ভাব্য করদাতাদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুমারি পরিচালনা করা।

/এসঅাই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।