ভোর ০৬:২১ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী। বার বার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও যে সকল প্রকল্প পরিচালকগণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির হার বাড়াতে পারছেন না তারাই এর আওতায় পড়বেন।

এ ছাড়াও প্রকল্পে গুণগত মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় বিধি পঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত এডিপিভুক্ত মোট ১৬ টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৭ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে।

অবমুক্ত করা এই অর্থ বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ৭০ দশমিক ৪১ ভাগ। একই সময়ে ৭৩ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যমানের কাজ সম্পাদিত হয়েছে যা অবমুক্ত করা অর্থের ৭৪ দশমিক ৯৩ ভাগ। চলতি অর্থবছরের দশ মাসে ১৬টি প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে আর্থিক অগ্রগতির হার হয়েছে গড়ে ৫২ দশমিক ৭৫ ভাগ। একই সময়ে গত অর্থ বছরের ১৫টি প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে আর্থিক গড় অগ্রগতির হার ছিল ৪১ দশমিক ১৭ ভাগ।

সভায় আরও জানানো হয়, এডিপিভুক্ত ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে বস্ত্র পরিদপ্তর ৮টি, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ৩টি, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড ২টি, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট ১টি, পাট অধিদপ্তর ১টি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ ছাড়া, বাংলদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) নিজস্ব অর্থায়নে ১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে চলতি অর্থ বছরে ৪টি প্রকল্প শেষ হবে।

বর্তমানে দেশে বস্ত্র প্রকৌশলী ও বস্ত্র প্রযুক্তিবিদের চাহিদা প্রায় দেড় লাখ হলেও আছে প্রায় ৫০ হাজার। তাই বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক বস্ত্র প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ আনতে হচ্ছে। দেশীয় বস্ত্র প্রকৌশলী ও বস্ত্র প্রযুক্তিবিদের এ শুন্যতা পূরণের লক্ষ্যে শিগগিরই আরও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ও টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বস্ত্র খাতের নির্বাহি পর্যায়ে দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলী সরবরাহ করার লক্ষ্যে যশোর, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, চাঁদপুরের শাহরাস্থি, মাদারীপুরের রাজৈর, গাইবাদ্ধা ও নওগাঁর মান্দায় ৭টি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট এবং রংপুরের পীরগঞ্জ ও জামালপুরে দুটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও সভায় জানা যায়।

এছাড়া সম্প্রতি জামালপুর ও ভোলা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বস্ত্র শিল্পের প্রান্তিকে পর্যায়ে আরও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি এবং দেশে বেকার যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামীতে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, মাগুরা, নড়াইল, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, ফেনী, বরিশাল, ভোলা, সাতক্ষীরা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনা, ঢাকা, রাজবাড়ী ও শরিয়তপুর জেলায় একটি করে মোট ২৪টি টেক্সটাইল ভকেশনাল ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হবে।

ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) বাইরে কোনও কাজ করা হবে না। তাই সঠিক ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিপিপি তৈরী করতে হবে। সভায় প্রকল্প পরিচালকদের সরকারি ক্রয় বিধি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

অতিরিক্ত সচিব শামীমা সুলতানাসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।