রাত ০৪:৩৯ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

'দেশে ফিরে পেয়েছিলাম প্রিয়জনদের লাশের সারি'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

আজ ১৭ মে, রবিবার। পঞ্জিকার পাতার হিসাবে ১৯৮১ সালের ১৭ মে-ও ছিল রবিবার। আজ ঢাকায় বৃষ্টি হবে কি না, তা-ও এখন বলা যাচ্ছে না। কিন্তু ১৯৮১ সালের এ দিনে ঢাকায় তুমুল ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছিল ঢাকার রাজপথে। জড়ো হয়েছিল ভাগ্যগুণে বেঁচে যাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ৫ বছর ৯ মাস পার করে নানা পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পরে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে লাখো জনতার সংবর্ধনার পর শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, সে সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ছোট বোন শেখ রেহানাও তার সঙ্গে ছিলেন। ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি ওই সময় দেশে ফিরতে পারেননি।

এর আগে ১৯৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে ২০১৪ সালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খুবই আবেগ আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আমি চিন্তাও করিনি, কোথায় থাকব, কোথায় উঠব। দুটো সুটকেস হাতে নিয়ে ফিরে এলাম। শুধু একটাই চিন্তা, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ থেকে যাই, তখন মা-বাবা-ভাই সবই ছিল। রাসেল বিদায় দিতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিল। লাখো মানুষের ভালোবাসা পেলাম। কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকে পেলাম না। পেলাম বনানী কবরস্থানে সারি-সারি কবর।’

শেখ হাসিনার ৩৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন এবং সমমনা পেশাজীবী সংগঠনগুলো সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, রবিবার ভোরে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় ৩২ ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। ১৭ মে ছাত্রলীগের ছাত্র সমাবেশ, ১৮ মে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিব) আলোচনা, ১৯ মে শ্রমিক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা, ২০ মে কৃষক লীগ ও যুবলীগের আলোচনা সভা, ২১ মে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আলোচনা এবং ২২ মে গণর‌্যালি। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত বিল পাস হওয়ায় আগামী ২৯ মে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শনিবার এক বিবৃতিতে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযথ মযার্দায় পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।