রাত ০৫:০৭ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছেন আজ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মহানন্দা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করাসহ ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্দেশে আজ শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি জেলা শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ময়দানে বিকালে এক জনসভায় ভাষণও দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে নবনির্মিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেডিয়ামে পৌঁছবেন শেখ হাসিনা। সার্কিট হাউসে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে সাহেবের ঘাট যাবেন। সেখানে তিনি মহানন্দা নদীর ওপর দ্বিতীয় মহানন্দা সেতু উদ্বোধন করবেন।

দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর সেখানে তিনি ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ময়দানে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিবতলায় নবনির্মিত যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বরূপনগরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচারের (বিনা) উপকেন্দ্র এবং গোমস্তাপুরে উপজেলা ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ১০০-শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নয়নে নতুন ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কানসাট-রোহানপুর-ভোলাহাট সড়কে উন্নয়ন কাজ, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে জেলার আলাতুলি এলাকা রক্ষায় গৃহীত প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

দ্বিতীয় মহানন্দা সেতু উদ্বোধনে সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫ লাখের বেশি লোক উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশাল চর এলাকার জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকার পূর্ববর্তী মেয়াদে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাহেবের ঘাট এলাকায় ৫৪৬ দশমিক ৬০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ গার্ডার ব্রিজ এবং ২৪০০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৯ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সেতু নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া মূল সেতু থেকে অ্যাপ্রোচ সড়কে দুটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার ইসলামপুর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, শাহজাহানপুর, আলাতুলী, নারায়ণপুর ও সুন্দরপুর এই ৭ ইউনিয়নের ৫ লাখের বেশি মানুষ এতে উপকৃত হবে। এসব এলাকা উপজেলা ও জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে ৭ ইউনিয়নের ৮৫টি সরকারি-বেসরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০টি দাখিল মাদ্রাসা, দুটি কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং অনেকগুলো এনজিও অফিস কর্মী উপকৃত হবে।

প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লোক নৌকায় মহানন্দা নদী পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে যাওয়া-আসা করে এবং এই ইউনিয়নগুলোর ৮০ শতাংশ কৃষিজমি জুড়ে রয়েছে আম বাগান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জেলা শহরের সড়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল প্রতিকৃতিতে সজ্জিত এবং তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস।

/এফএস/এএইচ /

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।