রাত ০৯:১৮ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || চতুর্থ পর্ব

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

পূর্ব প্রকাশের পর

এমন হয়; মাঝে-মাঝে সবকিছু অজানা-অচেনা লাগে। আবার সবকিছু বড় বেশি চেনাও লাগে। কারো সঙ্গেই বেশিকাল আমার সম্পর্ক টেকে না। এর পেছনের কারণগুলো রেজা (কবি শামীম রেজা) মোটামুটি খুটিয়ে খুটিয়ে বের করেছেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল। যার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে চেষ্টা থাকে সন্মানের স্থানটি বজায় রাখার। বিশ্লেষণ করে দেখেছি; অধিকাংশ সম্পর্ক ফসকে যায় অসততার কারণে। যাকে ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, সন্মানে বুকে টেনে নেই; অপ্রাসঙ্গিক-অপ্রয়োজনীয় চাটুকারিতা সেখানে প্রবেশ করলে সে সম্পর্ক আমি আর বয়ে বেড়াই না। কিন্তু সম্প্রতি রেজা আমার এই জীবন-প্রণালী পাল্টে দেবার চেষ্টা করছেন। বলছে: ‘কবির এক জীবনে অনেক বন্ধু হয় না। যারা হয়; তাদের ভুল-ক্রটি মিলিয়েই আগলে রাখতে হয়। না হয় দেখবি; একদিন প্রকৃত অর্থেই তুই সম্পূর্ণ বন্ধুহীন হয়ে পড়ছিস।’ রেজার এসব কথায় আমার অনেক প্রশ্ন জাগে মনে। সেসব প্রশ্নকে পাশে রেখে আমি মেনে নিতে চেষ্টা করি। সয়ে যেতে চেষ্টা করি। তারপরও দেখতে পাই, উটকো আপদ এসে আঁকড়ে ধরে অকারণ। মাঝে-মাঝে সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করলে প্রতিবাদ করি, প্রতিরোধও করি। একলা চলতে-চলতে এক ধরণের অভ্যস্ততায় খাপ খাইয়ে নিয়েছি। তারপরও জীবন। আহা জীবন! একটাই জীবন!!
দশ এপ্রিল ভোরে ঘুমিয়ে ছিলাম। জাহিদ সোহাগের ফোনে ঘুম ভাঙে। জানান, তিনি এবং কবি জহর সেনমজুমদার রমনায় বৃক্ষদের সঙ্গে সখ্য করছেন। ভোরের বৃক্ষ অনেক পেলব, অনেক সতেজ, অনেক মায়াবি। এরই মধ্যে বলে নেওয়া ভালো, জহর সেনমজুমদার আমাদের ‘কাগা’ (কাকা) হয়ে উঠেছেন। আমরাও তার ‘কাগা’। অর্থাৎ এই সামান্য সময়ের মধ্যে আমরা পরস্পর পরস্পরকে ‘কাগা’ সম্বোধনে এগিয়ে যেতে থাকি। তারই সূত্র ধরে জাহিদ জানালেন- কবির ভাই, তোমাকে কাগা বলছেন এখুনি রমনায় চলে আসতে। আমিতো জানি, আমার যাওয়া হবে না। ভোরটা আমার কাছে অলসতার ডিব্বা। এই অলসতার কারণে, কতো কতো ভোরে কতো কতো প্রতিশ্রুতি যে আমি ভঙ্গ করেছি; তার ইয়ত্তা নেই। জাহিদের ফোন রাখতে রাখতেই ফের ফোন বেজে ওঠে। ওপার থেকে অনিকেত শামীমের কণ্ঠ। কবির, জানো এখন আমি কোথায় এবং আমার সঙ্গে কে? আমি আসলে কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তখনো চাইছিলাম আরও কিছুটা সময় ঘুমাতে। পরে শামীম ভাই জানালেন তিনি কারওয়ান বাজারে। সঙ্গে কথাকার রবিশংকর বল। মনে পড়ে যায়, আগের রাতে রবিদার সঙ্গে কথায় কথায় বলেছিলাম বাংলাদেশের কাঁচাবাজার (মাছ-মাংশ-সব্জি) সম্পর্কে তার কোনো ধারণা আছে কি-না। তিনি জানালেন নাই। সঙ্গে সঙ্গে এও বললেন, সম্ভব হলে তাকে যেন বাংলাদেশের কাঁচাবাজার একবার ঘুরিয়ে দেখানো হয়। তারই ইচ্ছাপূরণে অনিকেত শামীম ভোরে চারস্তরের (পণ্যের দাম) কারওয়ান বাজার দেখাতে রবিশংকর বলকে নিয়ে জান। লেখার জন্য কথাসাহিত্যিকদের কতো তথ্য-উপাত্ত লাগে, তার সিকি ভাগও পাঠকেরা জানেন না। জানেন না এক একটি মহৎ গল্প কিংবা উপন্যাস সৃষ্টির পেছনে কতো কতো রক্ত-ঘাম জড়িয়ে থাকে। অবশ্য সেসব পাঠকদের জানতেই হবে এমন কথাও নেই।
আমি ফের ঘুমিয়ে গেলে এবার ফোন করেন শামীম রেজা। ‘ওই তুই কই? তাড়াতাড়ি আয়। অনেক কথা আছে।’ ফোন কেটে যায়। আদ্যোপান্ত ব্যস্ত রেজার এটাই স্টাইল। আমার মনে পড়ে না কবে কখন সুস্থিরভাবে রেজার সঙ্গে একটু ফোনে কথা বলেছি। আমার সঙ্গে হয়তো রেজা কথা বলছেন; তখনি দেখা গেলো আরো আরো অনেক ফোন এসে ওয়েটিংয়ে টু টু করছে। এসবকে মেনে নিয়েছি। তাড়াতাড়ি যাবো বলেও ঢাকা ক্লাবে যেতে যেতে দুপুর। তখন জম্পেশ আড্ডা জমেছে জহর সেনমজুমদারের রুমে। দেবেশ রায়ের রুমে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন প্রশান্ত। আর জহর সেনমজুমদারের রুমে রবিশংকর বল, পারভেজ হোসেন, কুমার চক্রবর্তী তুমুল সাহিত্যের আড্ডায় মশগুল। একপাশে সটান শুয়ে আছেন জাহিদ সোহাগ। কিছু পরে শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগরও এসে যোগ দেন। মনে পড়ে গেলো, আগের দিন জহর সেনমজুমদার এবং রবিশংকর বল বার বার করে কুমার চক্রবর্তীর কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। দুজনের হাতেই কুমার চক্রবর্তীর নির্বাচিত প্রবন্ধের গ্রন্থটি পৌঁছেছে। দুজনই গ্রন্থটি পাঠ করে কুমার চক্রবর্তীর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শুনে ভালোলাগে। বাংলাদেশের গ্রন্থ কলকাতায় পৌঁছায় না, এটা নতুন কথা নয়। এনিয়ে কথা বলতেও আর ইচ্ছা করে না। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, কলকাতার পাঠকদের মধ্যে যদি বাংলাদেশের লেখকদের ব্যাপারে আগ্রহ থাকতো তবে পুস্তক বিক্রেতারা বাধ্য হতেন বাংলাদেশ থেকে বই নিতে। আসলে আগ্রহটাই নেই। জোর করে কোনোদিন কিছু হয় না।
রেজা এলে সবাই একসঙ্গে হয়। বিকেলে বাংলা একাডেমিতে জেমকন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। কলকাতার অতিথিদের কার কি করণীয় বুঝিয়ে দেন রেজা। এর মধ্যে বিগড়ে যান দেবেশ রায়। বলেন— ‘এটা কেমন কথা হলো; বাংলাদেশে এসে কোনো কথা না বলে ফিরে যাবো? ও রেজা, তুমি বলো, বাড়িতে গিয়ে তাহলে কি জবাব দেব? না না রেজা; আমাকে দু মিনিট হলেও বলতে দিতে হবে।’ জানা গেলো, পুরস্কার প্রদানের পর নির্বাচিত অতিথি এবং পুরস্কার প্রাপ্তদের নিয়ে রাতের ডিনারের আয়োজন করেন আয়োজকরা। কিন্তু ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের কারণে আয়োজনের স্থান থেকে ডিনারের স্থানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এতো অধিক সময় লেগে যায়, ডিনার পার্টির আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। ফলে এবার জেমকন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় অযথা সময় নষ্ট না করে সময় বাঁচান হবে। হলোও তাই। কাজী আনিস আহমেদ জেমকন গ্রুপের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। আর পুরস্কার প্রদান শেষ হলে আরও সংক্ষিপ্ত ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন শামীম রেজা। প্রতি বছর এই ধন্যবাদ বক্তব্য দিতেন জেমকন গ্রুপের কর্ণধার কাজী শাহেদ আহমেদ। এবারকার আয়োজনে তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। সেই অনুপস্থিতি বড় কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছিলো দেবেশ রায়ের জন্য। তিনি বার বার, রবিশংকর বল এবং জহর সেনমজুমদারকে বলছিলেন কাজী শাহেদ আহমেদ সম্পর্কে। বলছিলেন— জীবনে তিনি এতো হিউমার আর লাইভ বক্তৃতা আর কারো মুখে শুনেননি। ফলে এবার কাজী শাহেদ আহমেদের অনুপস্থিতি তার জন্য মোটেও সুখকর নয়।

দুই.
এতো এতো চেষ্টার পরও রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে ডিনার পার্টির স্থানে যথা সময়ে পৌঁছানো গেলো না। শহরের বিশিষ্টজনেরা সে পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছেন। মূলত সেখানে প্রত্যেকে প্রাণখুলে সাহিত্যের নানান দিক নিয়েই আলোচনা করছিলেন। সেসব আলোচনার মধ্যে মাঝে-মাঝেই উঁকি দিচ্ছিলো বরিশাল। মূল আয়োজন শেষে ১১ এপ্রিল কলকাতার অতিথিদের নিয়ে নদীপথে বরিশাল যাত্রা। সে যাত্রায় কে কে জাবেন, তার তালিকা তৈরি হতে থাকে। বহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হয়। এতো এতোজন যাবার জন্য আগ্রহী হন দেখে ভালো লাগে। কিন্তু ডিনার পার্টি জমে না উঠতেই একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, ওই রাতেই যে কোনো মুহূর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জানের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। বিষয়টি পার্টিতে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর কারণ, নিরাপত্তা। প্রত্যেককে রেস্টুরেন্ট থেকে নিরাপদে বাসায় ফিরে যেতে হবে। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, বিদেশি অতিথিদের নিরাপদে ঢাকা ক্লাবে পৌঁছানো। অগত্যা, ডিনার পার্টি রেখে আমি কলকাতার অতিথি অর্থাৎ দেবেশ রায়, জহর সেনমজুমদার এবং রবিশংকর বলকে নিয়ে ঢাকা ক্লাবে ফিরি। এরই মধ্যে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। অনিরাপত্তা বোধ নগরের মানুষের মধ্যে কতো দ্রুত ভীতি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম! 

 

তিন.

সদরঘাট

ফাঁসির কথা ভুলে ঢাকা ক্লাবে ফের আড্ডা জমে জহর সেনমজুমদারের কক্ষে। সঙ্গে বরিশাল ভ্রমণ চূড়ান্ত করার পালা। আশ্চর্য কিছু সময়ের মধ্যেই বরিশাল ভ্রমণে যে দীর্ঘ বহর হচ্ছিলো, তা নাতিদীর্ঘ হতে শুরু করে। সবার মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা। ফাঁসির পর দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বরিশালতো যেতে হবে। জহর সেনমজুমদার এবং রবিশংকর বল উভয়ের পূর্ব-পুরুষ বরিশালের। পূর্ব-পুরুষদের ভিটা তারা স্পর্শ করে যেতে চান। জহর সেনমজুমদারতো এই প্রথম বাংলাদেশে এলেন, ফলে তার আবেগটা একটু বেশি। তিনি জানেন না প্রকৃতই বরিশালে তার পূর্ব-পুরুষদের ভিটা আছে কি-না। বাবা-দাদা-মা-ঠাকুমা যা বলে গেছেন তা প্রকৃতই কতোটা সত্য, নাকি মিথ্যা কিছুই তার জানা নেই। ভাসা ভাসা ঠিকানার উপর ভরসা করে অবশ্য এরই মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক মুহম্মদ মুহসিন জহর সেনমজুমদারের পৈত্রিক নিবাসের সন্ধান পেয়েছেন। বিষয়টি শুধু জহর সেনমজুমদারের মধ্যে নয়, বহরের প্রত্যেকের মধ্যেই এক ধরণের উত্তেজনা তৈরি করেছে। বরিশালের কোথায় কোন শোলক গ্রাম, মুহসিন ঠিক খুঁজে বের করেছেন। আবেগে উত্তেজনায় টগবগ করছিলেন জহর সেনমজুমদার। কিন্তু অধ্যাপকের গাম্ভীর্য দিয়ে সেটা লুকানোরও কম চেষ্টা করেননি। সবকিছু লুকানো কি যায়? পিতৃপুরুষের ফেলে যাওয়া ভিটার সন্ধানে প্রায় পঞ্চান্ন বছর পর বাংলাদেশে এসে সে আবেগ লুকানো সত্যি কঠিন।
সমস্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অতিক্রম করে ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ১৫ জনের বহর বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছালে একটি আনন্দের সুর মিহিতালে বেজে ওঠে যেন। ঝলমল করছিলেন জহর সেনমজুমদার। স্বভাবসুলভ মৃদু হাসিতে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন রবিশংকর বল। আর লঞ্চে উঠার পর রেজা ছুটাছুটি করে বুঝিলে দিচ্ছিলেন প্রত্যেকের কেবিন। ওই সময়টায় অনিকেত শামীমের কারণে বহরে এক ধরণের অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়লেও কেউ বিষয়টিকে পাত্তা না দেওয়ায় এর সামান্য প্রভাবও বহরকে স্পর্শ করেনি। লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার পর রেজা আমাদের তিনতলা লঞ্চ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন। সে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা! জহর দা ব্যাপক আবেগ আক্রান্ত। তার চোখে-মুখে বিষ্ময় আর বিষ্ময়। ‘কবির, সত্যি বরিশাল যাচ্ছি আমরা? বরিশাল দেখতে কেমন? শোলক বলে সত্যি কোনো গ্রাম আছে বরিশালে? ওই গ্রামে সত্যি পৌঁছাতে পারবো? আহা আমার পূর্বপুরুষ! আহারে ফেলে যাওয়া মাতৃভূমি!’
যথারীতি লঞ্চে আড্ডা জমে জহর সেনমজুমদার আর রবিশংকর বলের রুমে। আড্ডার বিস্তারিত ব্যবস্থাগ্রহণ করেন পারভেজ হোসেন। কেবিনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে জহর দা বার বার কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যপাশে লঞ্চের বারান্দায় গানের আসর জমিয়ে তোলেন রেজা। বহরে রফিক-উম-মুনীর-চৌধুরী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা তরিকুল আহসান ভাই আলাদামাত্রা যুক্ত করেন। রাত এগারটার দিকে আমাদের লঞ্চ যখন মাঝ নদীতে, আমার ফোন বেজে ওঠে। ওপার থেকে জানানো হয় এরই মধ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবরটি সবাইকে দেওয়ার পর একসঙ্গে সবাই বলে ওঠেন— জয় বাংলা।
জহর সেন আমাকে ইশারায় কেবিনের বাইরে ডেকে নেন। বলেন, চলো কবির ডেকের উপরে যাই। তোমরা আমাকে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে দিলে এই ঋণ আমি কিভাবে শোধ করবো? আমি বলি— তোমরা নয়, বলেন শামীম রেজা। সবই ওর অবদান। ও একা এসব আয়োজন করে। আমরা ডেকের দিকে পা বাড়াই। অন্ধ অন্ধকারে জলের দিকে তাঁকিয়ে জহর সেনমজুমদার কিছু একটা খুঁজতে থাকেন। উপরে আকাশে কোটি কোটি তারকারাজি হাসছে। ঠান্ডা হাওয়ায় মনটা সত্যি ভরে ওঠে। জহর সেনমজুমদার আমাকে বলেন— কবির একটা কবিতা শুনবে? আমি বলি কেনো নয়? তিনি আমার কাঁধে হাত রাখেন। তারপর আওড়ে যেতে থাকেন—

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আলগোছে
চেয়ে দেখতাম, মেঝেতে হ্যারিকেন জ্বলছে
আর মাকে গল্প বলছে আচ্ছন্ন বাবা
বরিশালের গল্প, শোলকের গল্প;
আমিও অবাক বিষ্ময়ে শুনতাম সেসব কথা
আর আমার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে 
এসে দাঁড়াত বরিশালের নদী, মৌচাক,
কাঁঠাল গাছের পেছনের ভাঙা পথ

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আলগোছে
চেয়ে দেখতাম, বাবা মাকে সিঁদুর কৌটো দিচ্ছে
কিন্তু সে কৌটোয় সিঁদুর নেই কোনো
রয়েছে শোলক থেকে বয়ে আনা
অল্প কিছু মাটি; মায়ের সিঁথিতে পৌঁছে
সে মাটিও লাল হয়ে গেছে...

দেশ # জহর সেনমজুমদার


চলবে...

আগের পর্ব গুলো পড়তে ক্লিক করুন—

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || তৃতীয় পর্ব 

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || দ্বিতীয় পর্ব    

জন্মের আগে ফেলে যাওয়া স্মৃতির খোঁজে || কবির হুমায়ূন || প্রথম পর্ব       

           


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।