দুপুর ০৩:১৩ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

রমজানে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির ৫ পণ্য

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

শফিকুল ইসলাম॥

আসন্ন রমজানে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ৫টি নিত্যপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) টিসিবি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর। তবে পেঁয়াজ নিয়ে কোনও ঝামেলা সৃষ্টি হলে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারে টিসিবি। রোজা শুরুর অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন আগে এবং শবে বরাতের ২/৩ দিন পরপরই এ সব পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। তবে এসব পণ্যের দাম কত হবে, কী দরে তা বিক্রি করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি টিসিবি বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যেই টিসিবি এ সব পণ্য বিক্রির কৌশল ঠিক করেছে। জানা গেছে, খোলা ট্রাকে করে এবং টিসিবির নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে সারা দেশের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষদের মধ্যে এ সব পণ্য বিক্রি করা হবে। রাজধানীতে সচিবালয়ের সামনে, প্রেসক্লাবের সামনে, মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেসহ শ্রমঘন গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি পয়েন্টে এ সব পণ্য ট্রাকসেল করবে টিসিবি। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের  মতো এবছরও টিসিবির জন্য একটা বড় অঙ্কের টাকার কাউন্টার গ্যারান্টি

দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। অনুমান করা হচ্ছে এ বছর এর পরিমাণ হতে পারে ২ হাজার কোটি টাকা। গতবছর এর পরিমাণ ছিল ৮শ কোটি টাকা।

সরকার একই সঙ্গে টিসিবি’র সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে বলে আগেই জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে বিদ্যমান টিসিবি’র পণ্য গুদামে ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার ৬৪৫ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণে বরিশাল, রংপুর, মৌলভীবাজারে আরও ৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ময়মনসিংহ শহরে একটি ক্যাম্প অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

টিসিবি সূত্র জানায়, টিসিবির বর্তমান জনবল দিয়ে সারাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে টিসিবিতে ২২৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োজিত রয়েছেন। সরকার এই জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিজস্ব জমিতে ৪০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। গুদাম ও আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণের জন্য রংপুরে ০ দশমিক ৯৩ একর, মৌলবীবাজারে ১ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার সরওয়ার জাহান তালুকদার জানান, রমজান উপলক্ষে টিসিবি সব সময়ই মজুদ ভালো রাখার চেষ্টা করে। এবারও ভালো থাকবে। তবে প্রয়োজন হলে পেঁয়াজও বিক্রের উদ্যোগ নেবে টিসিবি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এবার আমাদের পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তাই আমদানির প্রয়োজন নাও হতে পারে। প্রয়োজন হলে মিয়ানমার ও তুরস্ক তো রয়েছেই।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞা জানিয়েছেন, রোজার সময় বাজারে খাদ্যপণ্য ফরমালিনমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, রমজান মাসে যে সব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সে সব পণ্যের  সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং এ সব পণ্যের সংকট রোধে রমজান উপলক্ষে এগুলোর রফতানি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।