রাত ০১:২৭ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন দেখান-ভয়েস অব বিজনেস

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম॥

আর ঘোরাঘুরি নয়। সবকিছু ঠিকঠাক। চাকুরি করবেন নাকি ব্যবসা করবেন তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু চাকুরি জীবনে পা রাখবেন নাকি ছোটবেলা থেকে নিজের মধ্যে পুষে রাখা ব্যবসা করার স্বপ্নের পথে হাঁটবেন। আবার, অভিনব কিছু করার ক্ষেত্রে হুমকি অনেক বেশি। অভিনব কিছু করার তাগিদ নিয়ে কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের নানা ঝুঁকিতে তা আর আলোর মুখ দেখে না। ফলাফল, স্বয়ং সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয়, তখন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশ্ন আসতে পারে কোনটির জন্য আপনি কতটুকু প্রস্তুত।

পরিস্থিতি যখন সিদ্ধান্তহীনতার ও প্রস্তুতির, তখন সেই অসম্পূর্ণতা পূরণে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই পথচলা সংগঠনটির। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে তৈরি করা হচ্ছে আগামীর পথচলার কান্ডারীদের। যেটি সবার কাছে কমবেশি পরিচিত ভয়েস অব বিজনেস (ভিওবি) নামে। যার আরও বড় পরিচয় হচ্ছে, এটি দেশের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত সবচেয়ে বড় পত্রিকা। লাভ-লোকসান থেকে শুরু করে আগামী দিনের পথচলায় নতুনদের সময় উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করলেও, পুরোপুরি অলাভজনক সংগঠন এটি।

প্রতিবছর নতুন করে ১২ সদস্যের নির্বাচিত কমিটির সমন্বয়ে পরিচালিত ভিওবি মূলত দাঁড়িয়ে আছে বিশেষ কিছু আদর্শের ওপর। যার মধ্যে আছে উৎসাহ-উদ্দীপনায় সৃজনশীল তরুণদের অর্থপূর্ণ কাজে উৎসাহিত করা, সচেতন তরুণ সমাজকে ভবিষ্যত পেশা নির্ধারণ ও কর্পোরেট জীবন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তরুণদের পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়ানো এবং মেধার পূর্ণ বিকাশে সহায়ক হিসেবে কাজ করাই তারুণ্য নির্ভর এই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য।

বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করলেও, বিওবি প্রধানত গুরুত্ব দিয়ে থাকে বাণিজ্য বিষয়ক বার্ষিক সাময়িকী 'দ্য ভয়েস অব বিজনেস' এর প্রকাশনায়। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে তাদের ছয়টি সংখ্যা। এসব সাময়িকীতে উঠে এ‌‌‌সেছে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস, স্যার ফজলে হাসান আবেদ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে সফল মানুষদের গল্প।

সাময়িকীর পাতাগুলো পরিপূর্ণ থাকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের সফলতা-ব্যর্থতার গল্প থেকে শুরু করে নতুনত্বের নানা ধরণ নিয়ে। যা পাঠকদের স্পষ্ট ধারণা দেয় ক্রমবর্ধমান কর্ম ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আটপৌড়ে ধারণা থেকে বেরিয়ে নতুন ও সম্ভাব্নার পথে হাঁটবার।

লিখনীর মধ্যেই নয়, নিজেদের বার্তাগুলোকে সবার আরও কাছে পৌঁছে দিতে কম-বেশি প্রতি মাসেই আয়োজন করা হয় কোনো না কোনো সেমিনার কিংবা ওয়ার্কশপের। যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের সার্থক হিসেবে প্রমাণ করতে পারা মানুষগুলোর বিভিন্ন পথ অতিক্রম করবার গল্প। বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আয়োজন করা এ সব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেয়ে যায় নিজের যুক্তি আর পরিকল্পনাকে প্রতিষ্ঠিত হাতে ঝালাই করে নেওয়ার।

স্বপ্ন যখন গঠনমূলক, তা বাস্তবায়নে পুরো কার্যক্রম যওয়া উচিৎ নিখুঁত। তাইতো, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিবছর নির্ধারণ করা হয় তারুণ্য নির্ভর এই সংগঠনটির নেতৃত্ব। চলতি বছর প্রেসিডেন্ট সাকিব-আল-আনজুম, সাময়িকীর প্রধান বার্তা সম্পাদক নাদিন পূর্ণা, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজা তারান্নুম, সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা ও কোষাধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিওবি'র প্রেসিডেন্ট সাকিব আল আনজুম বলেন, 'আমাদের এ প্রোগ্রামের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে কর্পোরেট লিডার হতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিষয়গুলো সর্ম্পকে সচেতন করে তোলা। ক্যারিয়ার বিষয়ক বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা পেয়ে সাধারণেরা উপকৃত হবে এবং নিজেদের সে অনুযায়ী গড়ে তুলবে, এটাই লক্ষ্য'।

পুরো কার্যক্রম সার্থক করতে ৮৫ সদস্যের একটি বড় প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে ভবের। মূলত, একটি আদর্শ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়গুলো কাঠামোগত ও আনুষ্ঠানিকতার পরিচর্যায় রাখা হয়, তার পুরোটি আছে ভবের। ফলে, কমবেশি কর্মজীবনের একটি প্রাথমিক ধারণা সদস্যরা এখান থেকেই পেয়ে যান।

ভিওবি'র সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, 'শুধু জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে কাজ করছে না ভিওবি। বরং পুরো সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে একটি দাফতরিক আবহে। যেখানে প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স থেকে প্রকাশনা এবং বিতরণ বিভাগ আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে, শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই পেয়ে যাচ্ছেন কর্মজীবনের আবহ।'

শুধু বর্তমান নয়, নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন সাবেক সদস্যরা। ফলে, বিভিন্ন সময়ে নবীনরা পেয়ে যাচ্ছেন দিক নির্দেশনা। এমনটাই বললেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজা তারান্নুম।

তিনি বলেন, 'যেহেতু সাময়িকীটি প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়, সেই সূত্রে সংগঠনটি এরই মধ্যে কর্পোরেট জগতে একটি পরিচিত নাম। এ ছাড়া সাবেক নেতারা, যারা এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো অবস্থানে আছেন তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন আমাদের সঙ্গে।'

যে কোনও লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন প্রাত্যহিক অনুশীলন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে অনুষ্ঠিত হয়ে ভিওবি আয়োজিত 'Position Yourself For The Future' শীর্ষক ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার। অতিথি ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, নাভিদ কমেডিয়ার্নস ক্লাবের প্রধান নির্বাহী নাভেদ মাহবুব, বাঘের বাচ্চা ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রির জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আফতাব হক ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এর জেনারেল ম্যানেজার হানিফ জাকারিয়া। এ সময় তারা তাদের জীবনের কাহিনী তুলে ধরে তরুণদের শিখিয়ে যান ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্বাচনের পরিকল্পনা কিভাবে করা উচিৎ।

প্রতিটি কর্মপরিকল্পনাই যেনো স্বপ্ন ছুঁতে নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য। তাই জীবনের লক্ষ্য নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। যেমন: ভিওবি'র তরুণদের প্রতিপাদ্য 'Raise your voice to position yourself in the future'.

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন ও সংগৃহীত।

/এমপি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।