রাত ০১:২১ ; সোমবার ;  ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯  

আরও দ্রুত বন্যার পূর্বাভাস পাবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক॥

নতুন এক স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির কল্যাণে প্রায় আট দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে বন্যা ও বন্যা সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাংলাদেশ অনেকাংশে রক্ষা পাবে বলে আশা করছেন আবহাওয়া পূর্বাভাস-সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি সাইডেভ ডটনেট নামক একটি সংবাদভিত্তিক অন লাইন এ সংক্রান্ত একটি  প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করে। 

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবছর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের নিচু এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, ফসল ও বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউএসএআইডি'র সহযোগিতায় স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি এসআইআরভিআইআর-এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আবহাওয়ার ঝুঁকি ও ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। নাসার জেসন-২ স্যাটেলাইট এসব তথ্য সংগ্রহ করে। গত বছর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিতে সংগৃহীত ডাটা ব্যবহার করে।  এসআইআরভিআইআর ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনটেগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে যৌথভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শেষে দেখা যায়, আট দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিরুল হোসেন বলেন, নতুন এই পদ্ধতিতে কাজের ফলে বিদ্যমান পূর্বাভাস ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিতে খুব দ্রুত ডাটা বিশ্লেষণ করা যায় ও ৩০ মিনিটের মধ্যে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া যায়। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া বলেন, নদীবক্ষের গভীরতা, নদীর ঢাল, নদীর প্রস্থ ও শাখা-উপশাখা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর নদী অববাহিকায় সাধারণত অন্যদেশের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায় না।

নাসার জেসন-২ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদশের সীমানার বাইরেও যেসব নদী আছে, সেগুলোর উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ পর্যন্ত সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য সহজেই হাতে চলে আসছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিরুল হোসেন বলেন, আমরা এখন নদীতে পানির উচ্চতা  হ্রাস-বৃদ্ধি সংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছি। ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নির্ণয় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে।

বন্যার পূর্বাভাষের নতুন ব্যবস্থার ফলে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকায় বসবাসরত হাজারো গরিব মানুষকে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যাবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় আট কোটি মানুষ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

/এফএস/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।