সকাল ১০:২০ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

তরুণ প্রজন্মের জন্য ফ্রয়েড থিওরি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

তুহিন সাইফুল॥

সমাজবিজ্ঞান কিংবা নৃ-বিজ্ঞানের তত্ত্ব থেকে শুরু করে মনোবিজ্ঞান নিয়ে যারা পড়াশুনা করেন তাদের খুব পছন্দের একটি নাম সিগমুন্ড ফ্রয়েড। তার গবেষণা, তত্ত্ব ও লেখালেখি জন্ম দিয়েছে মনোবিজ্ঞানের অনেক নতুন অধ্যায়ের। তার সৃজনশীল সৃষ্টিগুলো গত শতক থেকে সমাজকে দিয়ে আসছে তর্ক আর গবেষণার নানা তত্ত্ব। সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সব সময় ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করেছেন মানুষের মনের অদ্ভূত সব অনুভূতির, যা বরাবরই আকষর্ণীয় করে রেখেছে অনেককেই।

ইতিহাস থেকে বতর্মান, মানব সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব গ্রহণ করেছে নানা তত্ত্ব। যার কোনোটি হয়েছে আলোচিত, আবার কোনোটি সমালোচিত। তবে, সেগুলোকেও ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেই নানা তত্ত্বের ভিড়ে গত শতকে যে কয়টি নতুন তত্ত্ব দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে সিগমন্ড ফ্রয়েডের সাইকো অ্যানালাইসিস থিওরি অন্যতম। যেটি কোনও কোনও ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে আপেক্ষিক তত্ত্ব কিংবা ডারউইনের বির্বতনবাদের চেয়েও গুরুত্বর্পূণ।

আধুনিক বিশ্বে শিল্প ও সাহিত্যসহ জ্ঞানের প্রায় সবগুলো শাখায় সমানভাবে প্রভাব বিস্তারকারী এই মনোবিজ্ঞানীর জন্ম ১৮৫৬ সালের ৬ মে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। তবে জীবদ্দশায় নিজের সৃষ্টির প্রতি আলোচিত হবার চেয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন বেশি। এমনকি তার বেশকিছু তত্ত্বের সঙ্গে দ্বিমত করেছিলেন স্বয়ং তার ছাত্ররাই। যে কারণে গত শতকে ইউরোপে সিগমুন্ড ফ্রয়েড ছিল একটি বির্তকিত নাম।

তার বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে অনেকাংশে বির্তক থেকে গেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেন দর্শন, আইন, ব্যবসা শিক্ষা, চিত্রকলা, কবিতা, মনোবিজ্ঞান, সমাজবজ্ঞিানসহ জ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায়। তার অনেক মতবাদের ওপর ভিত্তি করে সে সময়ে আসতে শুরু করে আরও নতুন নতুন মতবাদ। ‘ফ্রয়েডিয়ান’ ‘পোস্ট ফ্রয়েডিয়ান’ বা ‘নিউ ফ্রয়েডিয়ান’ নামে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে তুমুল আলোচনায় এগিয়ে যেতে থাকে পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন।

ফ্রয়েডকে একটু ভিন্নভাবেই চেনেন বাংলাদেশের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষদেই ফ্রয়েডের মতবাদগুলো পড়ানো হয় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে। তবে একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে অন্যান্য ঘরানায় ফ্রয়েডের উপস্থিতি বেশ কম। আর তাই ফ্রয়েডকে নতুনভাবে আলোচনায় আনার চেষ্টা করছে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ। তার বিভিন্ন মতবাদের ওপর নতুন করে গবেষণা, জার্নাল এবং তার জীবনবোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করাই তাদের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে গত ৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি রিডিং ক্লাবের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ফ্রয়েডের কাজ নিয়ে সেমিনার। এ সময় আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সেলিম হুসেন বলেন, ‘আমাদের যাপিত জীবনের প্রায় সব ঘটনার সঙ্গে ফ্রয়েডের মতবাদ কোন না কোনভাবে জড়িত। আমরা আমাদের আচরণগুলো সর্ম্পকে সচেতন নই। কিন্তু ফ্রয়েড বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন অনেক আগেই। যে কারণে ফ্রয়েডকে নিয়ে আলোচনা জরুরি। মানুষের ব্যবহার নিয়ে নতুনভাবে আরও বড় পরিসরে জানার জন্য ফ্রয়েডের ওপর আরও গবেষণা জরুরি'।

সেমিনারে ফ্রয়েডের বিভিন্ন মতবাদের ওপর বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নজরুল ইসলাম, সিনিয়র শিক্ষক ড. নাসরীন ওয়াদুদ, ড. তানভীর রহমান ও আশেক মোহাম্মদ শিমুল। এ ছাড়াও ফ্রয়েডের ওপর পেপার প্রেজেন্টেশন করেন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র প্রীতম দাশ। এ সময় খ্যাতিমান এই মনোবিজ্ঞানীর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি দুর্লভ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

/এআই/এমপি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।