দুপুর ০২:৪০ ; মঙ্গলবার ;  ১২ নভেম্বর, ২০১৯  

স্থল সীমান্ত চুক্তি : বন্দী জীবন অবসানের আশা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বহুল আলোচিত ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত বিল মঙ্গলবার ভারতীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বুধবার রাজ্যসভায় পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিলটি লোকসভায় পাস হলে বন্দী জীবনের অবসান ঘটবে দুই দেশের ১৬২টি ছিট মহলের ৫১ হাজার ৫শ' ৮০ জন বাসিন্দার। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভের নিশ্চিত সম্ভাবনার আনন্দে উদ্বেলিত ছিটমহলবাসী।

এই আনন্দে ছিটমহলগুলোয় চলছে মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিলসহ নানা আয়োজন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের বাসিন্দা আমেনা বলেন, 'ভারতে ছিটমহলের বিল পাস হওয়ায় নিজেদের মুক্ত পাখির মতো মনে করছি। আমরা আর বন্দী নই।'

ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার অধিবাসী এবং বাংলাদেশের ফুলবাড়ি উপজেলার গঙ্গাহাট উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী শামছুর নাহার বলেন, 'ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে পায়ে হেঁটে ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলে আমাদের আর কষ্ট করতে হবে না।'

একই ছিটের বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, দীর্ঘ বঞ্চনার পর মৌলিক অধিকারসহ নাগরিকত্বের আশায় ছিটবাসীরা আনন্দিত।

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের ছিটমহল দাশিয়ার ছড়ার অধিবাসী মো. গোলাম মোস্তফা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতীয় মন্ত্রীসভাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের শঙ্কা আর সন্দেহের অবসান হয়েছে। আমাদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফল পেয়েছি। আশা করি বিলটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন হবে।

উল্লেখ্য, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ ছিটমহলের ৩৭ হাজার ৩শ' ৬৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের ১৪ হাজার ২শ' ১১ জন ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন।

বিলটি পাস ও বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ পাবে ১১১ ছিটমহলের ১৭ হাজার ২শ' ৫৮ একর জমি এবং ভারত পাবে ৫১ ছিটমহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি।

/জেবি/ এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।