রাত ০৪:৩৫ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

পিঁপড়া-রোবট টেনে নেবে নীল তিমি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

আহমাদ মুজাহিদ ।।

কল্পনা করুন, কোনও এক সমুদ্র সৈকতে বালুর পাহাড় বেয়ে একটা নীল তিমি উঠে আসছে আপনার দিকে। আপনি নিশ্চই চোখের পাতা ফেলতে ভুলে গেছেন কিংবা ভৌতিক কর্মকাণ্ড ভেবে পালানোর জন্য উপযুক্ত স্থানের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন। একটু থামুন, মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবুন, একুশ শতকের বিজ্ঞান আপনার জন্য এই অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বিজ্ঞানী এমন দুটি ক্ষুদ্র রোবট তৈরি করেছেন, যেগুলো এর চেয়েও অবিশ্বাস্য কর্মকাণ্ডের জন্ম দেবে। ম্যাচবক্সের সমান আকৃতির এই রোবট তার ওজনের দুই হাজার গুণ বেশি ওজন টেনে নিয়ে যেতে পারবে যেকোনও স্থানে। এমনকি খাড়া গ্লাসের দেয়াল বেয়েও একইভাবে নিপুণ গতি নিয়ে এই রোবট তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে; টেনে নিয়ে যেতে পারবে যেকোনও বস্তু। 

নির্মাতাদের একজন ডেভিট ক্রিস্টেনসেন এই রোবটগুলো সম্পর্কে বলেন, ‘এগুলোই পৃথিবীর প্রথম মাইক্রো-রোবট, মানুষের পৃথিবীতে বসবাসের যোগ্য এবং জাগতিক কর্মকাণ্ডে নিপুণভাবে সাহায্য করার ক্ষমতা যেগুলোর হাতেই রয়েছে।’

এখন পর্যন্ত এই রোবটগুলো পরীক্ষাগারেই ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন ওজনের বস্তু টেনে নেওয়ার জন্য। টেবিলের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে কফি মগ টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা দেয়াল বেয়ে কোনও বস্তুকে ওপরে টেনে নেওয়ার মতো হালকা কাজই করানো হয়েছে এদের দিয়ে। কিন্তু তাদের এই শক্তি বাস্তব পৃথিবীর জন্য অনেক কিছুই করতে পারবে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব।

ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, এই রোবটগুলোকে ক্ষুদ্র সেনাদল এর মতোই চিন্তা করা যেতে পারে, যাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে মোতায়েন করা যাবে একসঙ্গে। যেহেতু এগুলোর এক একটি তৈরিতে সর্বোচ্চ বিশ ডলারের মতো খরচ পড়ে, তাই বেশ কিছু রোবট যদি নষ্ট হয়ে যায় কিংবা হারিয়ে গেলেও খুব বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

এই রোবটগুলোর আরেকজন নির্মাতা এলিয়েট হকস এগুলোর নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘আপনি চাইলে বাসায় বসে এ রকম শত-শত রোবট তৈরি করতে পারবেন। কারণ, একটি রোবট তৈরিতে এক থেকে দুই দিনের বেশি প্রয়োজন হয় না। এবং থ্রি ডি প্রিন্টার ব্যবহার করেই এদের সকল পার্টস খুব সহজেই তৈরি করা যায় ।’

রোবটগুলোকে ডিজাইন করার সময় এই মেধাবী ইঞ্জিনিয়াররা টিকটিকি ও পিঁপড়ার চলনপ্রক্রিয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। পিঁপড়া ও টিকটিকির মতো প্রাণীর পা খাড়া দেয়াল বেয়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত। কোনও বস্তুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই রোবট তার সামনের দুই চাকাকে কাজে লাগায় তারপর শক্ত কোনও পৃষ্ঠতলে নিজেকে স্থাপন করে। এবং রোবটটির শরীরের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা কোনও বস্তুকে আস্তে-আস্তে সামনে টেনে নিয়ে যেতে থাকে।

কয়েক মাসের পরিশ্রম শেষে এই রোবটগুলো এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী মাসে আমেরিকার সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য ‘আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন কনফারেন্সে’ এদের জনসম্মুখে অবমুক্ত করা হবে।  আশা করা যাচ্ছে, একদিন এই ক্ষুদ্র রোবট  পিঁপড়া কলোনির মতো মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং দলবদ্ধভাবে শেষ করবে এমন সব কাজ যেগুলো সাধারণ মানুষের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।

/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।