সন্ধ্যা ০৬:০৯ ; মঙ্গলবার ;  ১৫ অক্টোবর, ২০১৯  

আয়েশাকে হারিয়ে || মূল : কাজী আনিস আহমেদ || অনুবাদ : মুহম্মদ মুহসিন || পর্ব-২

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

পূর্ব প্রকাশের পর

বনানীর চেয়ে একটু গরিবি এই এলাকায় আমাদের আসার পিছনে ছিল আমার বাবার চাকরিতে চলমান কিছু ঝামেলার বিষয়াদি। তিনি একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির জিএম পর্যন্ত ওঠার পরে কয়েক বছর ধরে কেরিয়ারে তখন শুধু নামছেন আর নামছেন। ফলে তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট এবং নিম্নমানের কোম্পানিতে তখন কাজ করতে হচ্ছে। আমার খুব খারাপ লাগত সেই সন্ধ্যাগুলোয় যখন আমরা মলিনমুখে ডাইনিং টেবিলে বসে বাবার বর্তমান অফিসের সমস্যাগুলোর কথা শুনতাম। একেকবার তিনি চাকুরি পাল্টাতেন আর আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করতাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই এক সন্ধ্যায় শুনতে পেলাম বাবার নতুন বস সকলের সামনে তার ওপর কী ভীষণ বাজে আচরণ করেছেন এমন কাহিনি। ভদ্রতা-ভব্যতার এমন ভয়াবহ পতনে বিচলিত হওয়ার অবস্থাটি তার মাথার দুলুনিতে বুঝতে দিয়ে বাবা বলতেন— ‘একজন ইংরেজ বস্ হলে যা বলতেন তাঁর নিজের রুমে ডেকে নিয়ে বলতেন’। শেষদিকে গল্পটায় যখন এই কথাগুলো চলে আসত যে অফিসজুড়ে সবাই আমার বাবার পেছনে ষড়যন্ত্রে নেমেছে তখন বুঝতাম বাবার এই চাকরিটিও চলে যাওয়ার সময় এসেছে। আমার মনে হত এই বিপদ থেকে আমি যদি আমার বাবাকে রক্ষা করতে পারতাম! 
আমরা যখন উত্তরায় আসলাম সিটি কর্পোরেশন তখনো উত্তরার নতুন সেকশনের জমিগুলো প্লটে প্লটে ভাগ করে সারেনি। এমন উন্মুক্ত বিস্তৃতি তখন ঢাকায় আর কোথাও নেই। বাসার খুব কাছেই গাছের সারি, ধানের ক্ষেত আর গুচ্ছ গুচ্ছ গ্রামীণ ঘর। নতুন জমিওয়ালারা তাদের আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠা নাদুসনুদুস বাড়িগুলোর দিকে আয়েশ নিয়ে তাকাত আর সেই বাড়ির পাশেই ঝুলত শ্রমিকদের খুলে পড়ার মতো বাঁশের টঙ।
ঢাকা যখন প্রসারিত হচ্ছিল তখনই কিছু জীবন এভাবে সংকুচিত হয়ে উঠছিল। এমন এক সংকুচিত জীবনে আটকে যাওয়ার আশঙ্কাটি আমাকে সন্ত্রস্ত করে তুলছিল। অবশ্যই অন্যরকম জীবন আছে, অন্যরকম দুনিয়া আছে যে দুনিয়া অনেক প্রসারিত, অনেক প্রসাধনের। সেই দুনিয়ার সন্ধান পাওয়ার এক প্রতিজ্ঞা তখনই আমার ভেতরে শক্তভাবে গেড়ে বসেছিল। জুতার ভেতরে নুড়ি যেমন ঘাপটি মেরে থাকে বের হয় না, আমার সেই প্রতিজ্ঞাও একবার ঢুকল আর বের হল না।
এই সময়টায় আমি দিনের বেশিরভাগটা রাকিবদের বাসায়ই কাটাতাম। ও তখনো আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু এবং আমার একমাত্র সত্যিকারের বন্ধু। ওরা তখনো বনানীতেই থাকে। আমরা তখন কলেজে ফাইনাল ইয়ারে। কলেজ শেষ হলে ওদের বাসায় চলে যেতাম এবং গান শুনতাম। ওর গানের বিশাল সংগ্রহে হাবিজাবি পপ থেকে শুরু করে না-বোঝা গজল পর্যন্ত ছিল। ওর ফুটবলের নেশার জায়গায় তখন গান এসে ঢুকেছে। আর আমার জায়গায় ঢুকেছিল বই। তবে গান আমার খারাপ লাগত না। গানের মধ্যেই আমি বইয়ের ভেতর ঢুকে যেতাম এবং বই আমার বাইরের দুনিয়া প্রায় মুছে দিত। আমি সোফায় বসে বই পড়তাম। রাকিব ফ্লোরে আঙ্গুল দিয়ে আঁকিবুকি কাটত আর অপেক্ষায় থাকত কখন ক্যাসেটটা উল্টে দিতে হবে।
আমি রাকিবের বাবা-মাকে পছন্দ করতাম। ওর বাবা অফিস থেকে যখন আসতেন তখন তাঁর হাতে থাকত গিফট অথবা মুখে থাকত গল্প। আবার মাঝে মাঝে তিনি বাসায় এসে আমাদেরকে কোনো উপলক্ষ ছাড়াই গাড়িতে নিয়ে ঘুরতে যেতেন এবং কোনো প্রিয় দোকানে শিক কাবাব খাওয়াতেন। সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল রাকিবের মায়ের রান্না সুস্বাদু আইটেমগুলো। প্রায়ই আমি ডিনার পর্যন্ত ওখানেই থাকতাম। তাঁর রান্না মুরগির মাংস হোক আর মোগলাই পরাটা হোক সবই অসাধারণ লাগত। হয়ত রান্না নয় বরং ওদের বাসার পুরো ব্যাপারটাই আমাকে আত্মীকরণ করে নিয়েছিল। এটা সত্যিই তখন আমার একটি সুখের জায়গা ছিল। মনে হত ওরা এমন একটা বাসায় থাকে যেখানে সবগুলো লাইট সব সময় আলো দেয়। আর আমাদের বাসায় লাইট শুধু আমার মা। তাও বাবার যখন সমস্যা শুরু হয় সে লাইটও নিভু নিভু হয়ে আসে। 
রাকিব কথা বলত বিদেশ যাওয়া নিয়ে। পছন্দের একটি মেয়ে পাওয়া নিয়ে। ওর ভাবনায় এই সময়ে পছন্দ অপছন্দ যে কোনো একটা মেয়ে হলেই হল। প্রথমত সেক্স চাই।                 
‘আচ্ছা ধর কাল গাড়ি চাপা পড়ে মারা গেলি। কৌমার্য নিয়ে মরতেই কি তোর আগ্রহ?’
এই প্রশ্ন থেকে এক মারাত্মক ভাবনা আমার ভিতর উঁকি দিয়েছিল। রাকিবকে নিয়ে মনে হয়েছিল: জীবনটি প্রাপ্তির পরিমাণে পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে যদি মরে যাওয়ার হয়, তাহলে তোমার যেটুকু প্রাপ্তি ঘটেছে তাতে তো এই বয়সে মরলে আমার আগে তোমারই মরার কথা। অবশ্যই এ ভাবনা আমি ওকে বলতে যাইনি। আর ওর আগের প্রশ্নের উত্তরও আমি দেইনি। আমি চলে আসলাম আমার বইয়ে, ও গেল পাশের বাড়িতে যে মেয়েটি এসে উঠেছে সেই মেয়ের উদ্দেশ্যে। এই মেয়েটিই আয়েশা। যখনই রাকিব জানল একটি মেয়ের কথা যার তিনটি গুণ রয়েছে— প্রথমত সে মেয়ে, দ্বিতীয়ত সে আমাদের বয়সী এবং তৃতীয়ত সে ঠিক পাশের বাড়ির বাসিন্দা— তখনই সে ছাদে চলে গেল একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন বা জানান দিয়ে আসতে। সে দেখল মেয়েটির আরো তিনটি গুণ রয়েছে: প্রথমত তার একটি পছন্দসই ফিগার আছে, দ্বিতীয়ত সে যে দূরত্বে আছে তাতে তাকে চোখের দৃষ্টিতেই দেখা যাবে এবং তৃতীয়ত তাকে নিয়মিত একটি নির্ভরযোগ্য রুটিনে দেখতে পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এই গুণগুলো রাকিবকে আরো প্রলুব্ধ করল। তবে আমি এমন গোপন দূর থেকে দেখায় অংশ নিতে রাজি হলাম না।
‘আরে বাবা তোমার সমস্যাটা কী? আর কোনপথে তুমি ওরে দেখতে পাবে?’—রাকিব ঝাঁঝের সাথে বলল।
‘দেখা যদি হওয়ার হয়, এমনিতেই হবে। এর জন্য এত যন্ত্রণা করতে হবে না।’ —আমি সোজা উত্তর দিলাম যদিও আমি জানতাম আমার ভাব-লওয়া উত্তর ওকে খুব পোড়াবে। 
‘মানে কি? দুই সপ্তাহ তো হয়েই গেল!’
‘দুই সপ্তাহ এমন বড় কিছু নয়। এছাড়া তোমাকে তো ভাগ্যেও বিশ্বাস করতে হবে, তাই না?’— আমি শান্তভাবেই বললাম।
‘তোর ভাগ্যের গোয়া মারি। ভাগ্য দেয় কচু।’
‘আর ছাদে জাল পেতে তুমি কত্তো বোয়াল ধরেছ, তাই না? হাদারাম কোথাকার!’ 
এমন সব অনেক কথাবার্তাই আমাদের মধ্যে হত। রাকিব তার পথেই হাঁটতে থাকল এবং মাঝে মাঝে খবরাখবর দিতে লাগল। আজ মেয়েটি একটি বেগুনি রঙের ব্যান্ড পরেছে। আজ ওর সাথে এক কটমটা চেহারার আন্টি ছিল। আজ ও একটি হাতাকাটা শার্ট পরেছিল। আমি রাকিবকে বোঝাতে পারছিলাম না কেন ঐ মেয়ের এই ডাটাবেইজ নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। ঢাকার ছাদে বিকাল পাঁচটায় এমনই রাকিব ও আয়েশারা থাকে দেখা ও দেখানোর আশায়। কেউ হয়ত এ দিয়ে দেখাদেখি এবং পরবর্তী বন্ধুত্ব ও অন্যান্য ধাপে পৌঁছায়, আবার কারোর হয়ত দেখা হয় না কিছুই। তবে এই দেখাদেখির নাটকে আমি কোনো পার্ট চাইলাম না। আমার মনে হয়েছিল আয়েশারও এই পার্টে কোনো আগ্রহ ছিল না। রাকিবের রিপোর্ট থেকেই বোঝা যেত আয়েশা ছাদে উঠত তার ঘুড়ি ওড়ানো ছোট ভাইকে দেখতে। 
আমি ভাবলাম রাকিব একদিন বিদেশে চলে যাবে। রাকিবের জীবনে উপরে ওঠার অনেক সিঁড়ি। আমার ভবিষ্যৎ যথেষ্ট অনিশ্চিত। এমনিতেই এই শহর আমাকে যত রকম নিচতায় স্থান দিয়েছে তার সাথে ছাদের প্রেমের দাগ আমি বাড়াতে চাইলাম না। 
রাকিব আমার ভাবনাগুলো কোনো পাত্তা দিল না। অনেক দিন পরে। এক শনিবার সকালে আমি রাকিবদের বাসার দিকে যাচ্ছিলাম। বাস্ট্যান্ড থেকে ওদের বাসা পর্যন্ত আমি হেঁটেই যাই। আমি দেখলাম আয়েশা একটি লাল ট্র্যাকস্যুট পরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বয়সের মেয়েদেরকে তখন খুব একটা সাইকেল চালাতে দেখা যেত না। তাই দৃশ্যটি আমাকে বেশ অবাক করল। সে এসে তাদের গেটে থামল এবং এক পা মাটিতে দিয়ে হয়ত ভাবছিল আরো দুয়েক চক্কর দিবে নাকি বাসায় ঢুকবে। আমি আড় চোখে দেখলাম রাকিব ছাদে। আমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলল। ঠিক করলাম আমি সোজা গিয়ে আয়েশার সাথে কথা বলব। অবশ্য তার নাম যে আয়েশা তা আমি তখনো জানি না। আমি উপরে রাকিবের দিকে একবারও তাকালাম না। সোজা গিয়ে পরিচয় দিয়ে আয়েশার সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। বললাম আমি পাশের বাড়িতে থাকি। স্বাভাবিকভাবে এই বয়সের মেয়েরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে এমন কেউ কথা বলতে গেলে যেমন পাত্তা না দিয়ে সরে যায় আয়েশা সেভাবে গেল না। সে আমার সাথে কথা বলল তাদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে। আর সে কথা শুধু হ্যালো বলা নয় বরং পুরো দোস্তসুলভ প্যাঁচাল। 
আয়েশা আমাকে বলল তাদের পরিবার মাত্র কয়েকদিন আগে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরেছে। লন্ডনে সে একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ত এবং সে আমার সমশ্রেণিতেই পড়ে। তবে মনে হচ্ছিল তার বয়স আমার চেয়ে কম। কথাটা আয়েশা প্রায় একাই চালিয়ে নিল। অবশ্য সে কখনো বলল না— ভিতরে আসো। আবার রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে এমন কথা বলা সে তাড়াতাড়ি শেষও করে দিল না। কথার এক পর্যায়ে সে বলল তার এখানে এখনো খুব বন্ধু নেই। রাস্তায় লোকজন মাঝে মাঝে যেভাবে তার দিকে তাকায় তাতে সে বেশ বিরক্তও বোধ করে।
‘ওটা সহ্য করা একটু কঠিনই। তোমার সাথে আমার পরিচয়টা আরো আগে হল না বলে খারাপ লাগছে।’—আমি বললাম।
‘তা ঠিক। আবার আমিও তো পারতাম এগিয়ে তোমার সাথে পরিচয়টা সেরে নিতে।’
স্পষ্টই আয়েশা আমাদের দুনিয়ার লোক ছিল না। সে জানত না যে আমাদের দুজনের থাকা উচিত একটি অদৃশ্য এবং অভেদ্য পর্দা দিয়ে পৃথক করা দুই আলাদা জগতে। আমার সাথে কথা বলে সে আসলে যেন আমার পক্ষের একটি মানুষ হয়ে উঠছিল যেটা আমাদের পাশাপাশি মেয়েরা সাধারণত কখনো হয় না। আমাদের পাশাপাশি মেয়েরা সবসময় চিন্তিত থাকে এই করুণা তারা কোনো অযোগ্যকে করে ফেলল কিনা এই নিয়ে। আমাদের সমাজের যে মেয়েই এই আচারের বাইরে সে এই সমাজে বাস করলেও তাকে বিদেশি বা সমাজ বহির্ভূতই ভাবা হয়। 
রাকিবের কাছে যখন আমি পৌঁছলাম ততক্ষণে সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছে। ‘ও- আসল চিজখানা তাহলে তুমি। কী ভয়ঙ্কর লোকখানা যে তুমি! এতদিন ভেবেছিলাম ওদিকে চোখ তুলে তাকাতেও তোমার সাধ হয় না! ভাবছিলাম তুমি শালার কোনো হোমো-টোমোই হবা! আজ না আসল চেহারাখানা দেখা গেল।’
ও যা খুশি বলুক। এত ভালো আমার অনেকদিন লাগেনি। ওর কথা আমি যেন শুনলামই না। ও আমাকে যত খোচাখুচিই করুক আয়েশার সাথে আমার দেখা হওয়ার পুরা বৃত্তান্ত ওকে আমি বললামই না।
‘ও নায়করাজ! আপনি খালি মেয়েদের সামনে যান আর কথা বলা শুরু করে দেন। বাহ্ কী সুন্দর গল্প!’
হ্যাঁ, আমি তাই করি। তবে তুমি যদি করতে আমার বিশ্বাস তুমি সোজা চড় খেতে। এবার এই ভাবনা আমি মুখে না আটকিয়ে ওকে বলেই ফেললাম। 
শুনে রাকিবও হেসে দিল। ও ক্যাসেটের ফিতাটা আমার মাথায় ছুঁড়ে মারল। আমি মাথা নুইয়ে ফেললাম আর ক্যাসেটটা দেয়ালে আঘাত করে ভেঙে টুকরো হয়ে পড়ল। ও মাথা নাড়াল আর আমার দিকে তাকাল। ও বুঝতেই পারছিল না— এটা কীভাবে সম্ভব হল যে আমি আয়েশার সাথে কথা বললাম। 
‘ভাগ্যের গোয়া মারা দেখ এখন’—আমি হাসছি আর বলছি।  
  
আয়েশার সাথে আমার এ ঘটনা কত আগের! আমরা তখন কতই না ছোট! আয়েশা এখনো সেই মেয়েটি যাকে নিয়ে আমি এখনো স্বপ্ন দেখি। গভীর রাতে এখনো আমার ঘুম ভাঙে এই দেখে যে, আয়েশা আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে এবং আমি তার আমাকে ফেলে চলে যাওয়ার দিনের না-বলা কথাগুলো বলার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আজো বলতে পারিনি। আবার দেখছি ওর সাথে হাঁটছি বনানী লেকের পাশে। ওর কড়া জেসমিন সেন্ট যেভাবে নাকে আসছিল মনে হচ্ছিল ও কেবল রুম থেকে বের হয়েছে। 
আয়েশারা বনানীতে এক বনেদী দোতলা বাড়িতে থাকত। চতুর্দিকে গাছপালায় ঘেরা। বাসার সামনে চমৎকার লন যেখানে বিকালে বসে মুরুব্বিরা চা খেতেন। আমি যখন আয়েশার সাথে দেখা করতে যেতাম মনে হত আমি কোনো বিজ্ঞাপনী রাজ্যে প্রবেশ করেছি। আমাকে ওর বাবা-মার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল পাশের বাড়ির ছেলে হিসেবেই।
এটা একটু আয়রনিকই ছিল যে আয়েশা এবং আমি অনেক সময়ই ছাদে কাটিয়েছি। আমরা ইচ্ছে করেই ছাদে গিয়েছি তা নয়। ওর ছোট ভাই ছাদে বসে ঘুড়ি ওড়াত আর আমরা অনেকটা তাকে পাহারা দিতাম। আমার কাছে ঘুড়ি ওড়ানোটা একটি গ্রামীণ ছেলেপেলেদের কর্ম মনে হত এবং আমি বুঝে উঠতে পারতাম না লন্ডন থেকে আসা একটি ছেলে ঘুড়ি ওড়ানোর এমন প্রেমে কীভাবে পড়ল। অবশ্য আয়েশার ভাই নুমায়ের একা নয়, এমন আরো অনেক ঘুড়ি-প্রেমিক বিভিন্ন ছাদে দেখা গেল। ঘুড়িপ্রীতি একটা ফ্যাশনের মতো এই এলাকাটায় যেন জেঁকে বসল। সে ফ্যাশনে নুমায়ের এক উদ্দীপিত ছেলের মতোই এগিয়ে এসেছিল। তার ঘুড়িগুলো যখন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে আকাশের দূর উচ্চতায় উড়ত তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুবৎ উড়ন্ত রংগুলোর দিকে তাকিয়ে আমাদেরও অবাক না হয়ে উপায় থাকত না। দীর্ঘ সেই উড়াল-পথ ছিল কখনো ঘুড়িটির কঠিন শক্তিমত্তার প্রকাশ আবার কখনো অস্থিরতা ও বিপন্নতার প্রকাশ। কী চমৎকার বাহারি রঙিন ও উজ্জ্বল ছিল তার ঘুড়িগুলো! এগুলোর প্রায় সবই ওর বাবা বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণকালে কিনে আনতেন আর কিছু ছিল যা নুমায়ের দাবি করত তার নিজের হাতেই গড়া।
‘অবশ্য পুরাটা তার হাতে তৈরি নয়’, আয়েশা চোখে টিপ দিয়ে আমাকে বলত।
আয়েশার সাথে দেখা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমি এ নিয়ে কখনো ভাবিনি যে আমার জীবনে কখন একটি নারীর আগমন ঘটবে। এমনকি সত্যিকারের প্রেম বলতে কিছু আছে কিনা কিংবা একক সত্য প্রেম বলতে কিছু আছে কিনা সে নিয়ে সেই অল্প বয়সেই আমার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। অবশ্য প্রেম বলতে যে কিছু আছে এবং আমার দুর্গের মতো চারদিক দিয়ে আটকিয়ে রাখা অস্তিত্বের মাঝেও যে সে প্রেম একবার নিজেকে জানান দিবে সে নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল না। তবে তার সূচনা যে হবে আয়েশাকে দিয়ে তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। প্রথম কয়েক মাসে এমন বোঝার কোনো কারণও ছিল না। তখনো আমরা শুধুই বন্ধু ছিলাম।
আমার মনে হত আমার কথাগুলো শোনার জন্য আয়েশার চেয়ে আপন আমার আর কেউ নেই। ওর সাথে আমি কথা বলতাম যে কোনো বিষয় নিয়ে। ওর সাথে আমি আমার বাবাকে নিয়ে কথা বলতাম। আমার বাবা তখন এক রীতিমত করুণার বস্তু। তাঁর সংকট আমাকে সারাক্ষণ ভাবিত রাখত। আমাদের অবস্থা কি আরো করুণ হয়ে উঠবে? বাবা এর পর কোন্ চাকরিতে গিয়ে ঠেকবেন? তারপর আমরা কোথায় পৌঁছাব? আমরা বনানীতে যে বাড়িতে থাকতাম আয়েশার সাথে সেই বাড়ির গল্প করতাম। সেই বাড়ির আনন্দ ও আরামের কথা বলতাম। আমার বাবা ছিলেন তখন এক অন্য মানুষ। আমি আয়েশাকে বলতাম আমার সবচেয়ে বেশি ভয় হয় এই কথা ভেবে যে একদিন আমার অবস্থাও সম্ভবত বাবার মতোই হবে।
আয়েশা জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে বলত, ‘না না তোমার এমনটা কখনো হবে না’। ওর মাথা নাড়ানোর সময় ছোট চুলগুলো গালের ওপর আছড়ে পড়ত। 
‘তুমি কেমনে জান?’ আমি বলতাম।
ও বলত, ‘আমি জানি। আমি বললাম তুমি অমনটা হবে না। তুমি অন্য কারোর মতো হবে না। তুমি সবার থেকে আলাদা একজন হবে’।
আয়েশার এ মূল্যায়নে আমার ভিতরে একধরনের আত্মবিশ্বাস অনুভব করতাম যা এর আগে কখনো আমি অনুভব করিনি। এতদিন পর্যন্ত মনে হত আমার এই অস্তিত্ব বা বেঁচে থাকার অন্য সবারই মতন কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই, কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। জন্ম নামের একটি দুর্ঘটনা আমার ওপর ঘটেছে বলেই শুধু আমি বেঁচে আছি। ঈশ্বরে বিশ্বাস আমার আগে থেকেই নেই। তখনই আমি সার্ত্র পড়েছি। কামু পড়েছি। অসিমভ এবং কোনান দোয়েলও পড়েছি। বাংলা সেন্টিমেন্টালিস্ট লেখকদেরও অনেককে পড়েছি। তবে কত পড়েছিলাম সেটা মোটেই বিষয় নয়। আমার কৌতুহলের উত্তর কোথায় পাওয়া যাবে সেটিই ছিল বিষয়। সে উত্তর অবশ্যই আমার বাবা বা শিক্ষক বা মুরুব্বিদের কাছ থেকে আসার ছিল না। এই লেখকরা যে মার্গে বিচরণ করতেন সেইখানটায় আমি পৌঁছতে চেষ্টা করছিলাম। আমি আয়েশার সাথে এইসব নিয়ে কথা বলতাম। আয়েশা আমার এসব কথা শুনে ভাবত না যে আমি কোনো ভাব নিচ্ছি বা আমি কোনো হাদারাম। আমি যা বলতাম তা কোনো গভীর বোধ থেকে উৎসারিত বলেই সে মনে করত। আমার ভাব ও ভাবনার এমন অন্তহীন জটছাড়ানো বয়ান সে ধৈর্য ধরে শুনত এবং সেগুলো নিয়ে চিন্তা করত। ওর সাথে দেখা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমি বুঝতেও পারিনি যে আমার এরকম একজন মানুষের সাহায্য দরকার। আমার ভাবনা— আমার যন্ত্রণা— উচ্চারিত হতে না পেরে এতদিন তাদের শরীরই তৈরি হচ্ছিল না। আজ সেগুলো শব্দ পেল— উচ্চারিত হল— যেন অনুমোদিত বা বৈধ হয়ে উঠল। সাথে মানুষ হিসেবে আমার অস্তিত্ব বা বেঁচে থাকাও যেন বৈধ হয়ে উঠল।
আয়েশার গভীর ভাবনা ও চিন্তামগ্নতা বাহির থেকে বোঝা যেত না। ওদের ছাদের পানির ট্যাংকের উপরে বসে ও একদিন বলল— ‘আমরা তো আসলে সেটুকুই জানি যেটুকু আমাদের নিজেদের মনের মধ্যে থাকে, তাই না? তাহলে আমরা বন্ধু একারণে না যে আমরা অপরকে বুঝি, বরং এ কারণে যে আমরা একে অপরকে না-বোঝার ক্ষেত্রে কোনো ভুল করি না।’ ও কথাটা এমনভাবে বলল যেন এ দিয়ে ও কিছু বোঝায়ই নাই।
আয়েশা যে বিচিত্র বিপরীতের আধার ছিল তার মধ্যে আমি ছিলাম মাত্র একটি উপাদান। আমি বলতে পারি ওর অন্য বন্ধুরা আমাকে একদম পছন্দ করত না। তারা আমাকে বিশ্বাসও করত না। আমি আসলে তাদের জগতের মানুষই ছিলাম না, ফলে এই অবিশ্বাসটাই সঠিক ছিল। একমাত্র আয়েশা বিষয়টা দেখতে পেত না। অথবা দেখতে পেলেও ও এটা আমলে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করত না। কিন্তু আয়েশাও মূলত তাদের জগতের লোক ছিল না। 
এই বন্ধুদের সাথে ওর দৃশ্যমান মিল যতখানি ছিল ততখানি ঠিক আমার সাথে ছিল না। তারা সবাই ধনীর দুলাল এবং তারা সবাই গুলশান বনানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে। ওর পোশাকপরিচ্ছদ ছিল তাদের মতো এবং মাঝে মাঝে পুরো লন্ডনি কন্যার মতো। পরনে টাইট কালো জিনস্ আর চোখে কালো আইলাইনার। আমাদের মাঝে দেখা হওয়ার পরের শীতকালটায় ও চুলের কিছু বিনুনি বেগুনি করে নিলো। এই হেয়ারস্টাইলের উদ্ভটতায় স্কুল থেকে ওর প্রায় নাম কাটা যাওয়ার দশা হয়েছিল। এই স্টাইলে ওর গ্রুপের সবাই বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল। সেই ভ্যাবাচ্যাকার মধ্যে পড়েই তারা কিছু বলল না যখন আয়েশা আমার মতো এক দলে-না-মেলা উদ্ভটকে তার পাশে স্থান দিল।
এই দলের এক নিয়মিত ঘোরার ও মিলনের স্থান হয়ে উঠল বিখ্যাত দোকান ‘ভিডিও ম্যানিয়া’। অন্তত প্রতি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একটু ঠাণ্ডা হওয়ার আশায় তাদের এখানে আসাটা ছিল রীতিমত অপরিহার্য। প্রায় সবকিছু নিষিদ্ধের এই শহরে ভিডিও ম্যানিয়া যেমন-তেমন রকমের হলেও তাদের জন্য একটা যাওয়ার জায়গা হয়ে উঠল। সাধারণ আর দশটি দোকান থেকে এটি ছিল বেশ আলাদা। পায়ের নিচে জাঁকালো কার্পেট। ডানে বাঁয়ে চতুর্দিকে আয়না। কানে রক্ত-গরম-করা গানের জগতের সবচেয়ে হালফ্যাশনের কথা আর সুর। আয়েশার সখাসখীরা সবাই সেখানে আসত পুরাদস্তুর ক্লাবের পোশাকে। আমার ভয় লাগত এবং বিশ্রী লাগত যে আয়েশাও প্রায়ই সেখানে যেতে চাইত।     
‘ভিডিও ম্যানিয়ায়? সেখানে আমাদের যেতে হবে?’
‘হ্যাঁ, অন্য কী করার আছে?’—শনিবারের সন্ধ্যাগুলোয় আয়েশা এমনটাই বলত আর আমাকে টেনে হিচড়ে ভিডিও ম্যানিয়ায় নিয়ে চলত।
ভিডিও ম্যানিয়ায় ঘুরে ফিরে শেষ পর্যন্ত আমরা গিয়ে থামতাম পাশের বার্গার কর্নারে। এইখানটাতেও জ্যাজ গীতির এমন আয়োজন থাকত যাতে তাকে এক অন্য জগৎ অন্য জগৎ মনে হয়। সাথে যথেষ্ট দোষযুক্তভাবে ছিল কিছু নির্দোষ নামের পানীয় এবং জগতের সবশেষ ফ্যাশনের রক্তগরম গানের ভিডিও। সেখানে আমি বসতাম আয়েশার বন্ধুবান্ধবদের সাথে। তারা সেখানে অন্যরকম উচ্চারণ ও স্বরভঙ্গিতে গান গাইত আর সারাক্ষণ আমার গা-টা জ্বলতে থাকত। কিন্তু তারপরও নববর্ষের আগের রাতটায় আমাদের জড়ো হওয়াটা ওখানেই হত।
আয়েশা বলেছিল ‘সবসময় এমন মনমরা হয়ে থেকো না তো’। আমরা একটা বুথে বসে দেখছিলাম ওর বন্ধু আরশাদ মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কেমন ছ্যাবলামি করছে। দশটায় প্রত্যেকেরই ঐ মাইক্রোফোনে যেতে হবে এমনটা কথা ছিল। দশটার আগেই ও তখন ওয়ার্ম-আপ করছিল।
‘তুমি জানো এইসব দৃশ্য আমার ভাল লাগে না’—আমি বললাম। 
‘কেন, এতে সমস্যা কোথায়?’
‘এর সমস্যা না কোথায়? এছাড়া তুমি কোথায় দেখেছ আমাকে কোনোকিছুতে এমন ঝাঁপিয়ে পড়তে?’ 
‘তোমাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে তো বলছি না’—বেশ রূঢ়তার সাথেই আয়েশা বলল। ‘এটা যথেষ্ট সুন্দর এক জায়গা। সবাই মজা করছে। এখানেও তোমার ঐ অর্থহীনতার দর্শন কপচাইতে হবে?’
‘না, না, এটার অর্থহীনতার বিষয়ে কোনো দর্শনের জ্ঞান লাগে না।’
‘আরে এমন ভাব লইয়ো না। সবাইকে এক ঘৃণার চোখে দেখতে যেয়ো না।’—আয়েশা বলল।
‘তুমি আমাকে এমন ভাব? আমি তোমাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখি?’
‘নারে, দোস্ত, আমি জানি তুমি তেমনটা নও’, এতক্ষণের সব ঝাঁঝ পানি করে দিয়ে আয়েশা ঠোঁটে মিষ্টি হাসির রেখা ফুটিয়ে বলল।
আমি জানি আমার অতিদার্শনিকতা বিষয়ে ওর সমালোচনামূলক কথাগুলো ঠিক ছিল। কিন্তু আমাকে এমন সমালোচনা এর আগে ও কখনো করেনি। আমি ওর কথাগুলো হজম করে একদম নিরব হয়ে গেলাম। আমি যদি সত্যিই অমন মন-মরা আর দূরে থাকার কেউ হই তাহলে ও আমাকে এমন কাঁধে ঝুলিয়ে ঘোরে কেন?
‘আচ্ছা বাবা, মুখখানা অমন বাংলা পাঁচ করে আর থেকো না। এবার আস, আমার সাথে গান ধর।’—এই বলে আয়েশা দাঁড়াল। ও আমাকে উঠাতে চাইল। আমি নড়লাম না। ওর বন্ধুরা এই দৃশ্যের দিকে তাকাতে শুরু করল।
ও আমার হাত ধরে টানা অবস্থায়ই বলল—‘আরে আসো তো, এমন একরোখা হয়ো না তো’।
‘তুমি যাও, তুমি তো জান আমি গাইতে পারি না’—আমি গম্ভীরস্বরে বললাম।
ও আমার হাত ছেড়ে দিল। ঘুরে একাই মাইক্রোফোনের দিকে গেল। আমি দেখলাম রুমের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই যেন বলছিল—‘কী গাধারে!’ আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকলাম। আমি পারছিলাম না উঠে গিয়ে ওর সাথে গান ধরতে। ওর সাথে সাথে যদি উঠে যেতাম তাও একটা কথা হত।
আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকলাম এবং দেখলাম আয়েশা আরশাদের সাথে গান গাচ্ছে। চোখ ধাধানো স্ট্রোব লাইটে আমার মাথা ধরে যাচ্ছিল। সেই আলোয় টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া আয়েশাকে দেখে মনে হচ্ছিল ও এখন অনেক দূরের কেউ। ও গান গাচ্ছিল ফূর্তিতে-ফুলে-ওঠা সব-ভুলে-যাওয়া মুটকু আরশাদের সাথে। দেখে মনে হচ্ছিল ওরা চমৎকার এক বন্ধু-জুটি, কিংবা এক চমৎকার যৌন-যুগল।
এমন যে কোনো সময় যে কোনো লোকের সাথে মিশে যাওয়ার আয়েশার এই যোগ্যতা আমাকে ভাবিয়ে তুলল। আমি জানতাম যে— আয়েশা আমাকে সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সেটিই প্রকৃত আয়েশা। কিন্তু অন্য এই আয়েশাকে যখন দেখলাম তাকেও যথেষ্ট প্রামাণ্য এক আয়েশা মনে হল। আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না কোনটি আসল আয়েশা। মনে হল আমার বিশেষ আয়েশাকে আমি হারালাম।
ঐ রাত আমার খুব খারাপ কাটল। আমাকে আলোড়িত করছিল প্রচণ্ড সংক্ষোভের এক অনুভব যা হিংসার প্রায় কাছাকাছি। অথচ আমি জানতাম আরশাদ বা এমন অন্য কোনো ছেলের সাথেই আয়েশার এমন কোনো সম্পর্ক নেই যা আমি হিংসা করতে পারি। তারপরও আমার হঠাৎ মনে হল আয়েশার সাথে কারোর কোনো সম্পর্কই আমি সহ্য করতে পারি না— বিশেষ করে সেই ধরনের সম্পর্ক যা আয়েশার সাথে আমার। কিন্তু আমার সেই সম্পর্কটি কী। তখনো পর্যন্ত আমার সে সম্পর্কের কোনো নাম নেই, কোনো স্বীকৃতিও নেই। এমনকি আমাদের নিজেদের মনের মধ্যেও তখনো পর্যন্ত এ সম্পর্কের কোনো নাম তৈরি হয়নি।
দলে আয়েশাই গানটা সবচেয়ে ভাল গায়। আয়েশা মাইক্রোফোন হাতে নিলে আর কেউই চাইত না তার হাত থেকে সেটি নিতে। আরশাদ নেমে যাওয়ার পর অন্য কোনো ছেলে বা মেয়ে তার সাথে যোগ দিল। এমনকি দলের বাইরেরও কেউ কেউ নির্দ্বিধায় আয়েশার সাথে উঠে গান ধরল। আমি যতক্ষণ ছিলাম আয়েশা আমার দিকে আর কখনো তাকাল না। আমি আয়েশাকে বা অন্য কাউকেই কিছু না বলে জায়গাটি ত্যাগ করলাম। (চলবে)

অলঙ্করণ : মোস্তাফিজ কারিগর

আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন:

আয়েশাকে হারিয়ে || মূল : কাজী আনিস আহমেদ || অনুবাদ : মুহম্মদ মুহসিন || পর্ব-১

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।