ভোর ০৬:১৬ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

রফতানি বৃদ্ধিতে বাড়ছে মিশন ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলর

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

শফিকুল ইসলাম॥

রফতানি বাড়াতে নানাবিদ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিশ্বে বাংলাদেশি মিশন ও মিশনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের সংখ্যাবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে সরকার আরও ৫ জন কমার্শিয়াল কাউন্সিলর নিয়োগসহ সিঙ্গাপুর, চীনের কুনমিং, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইস্তাম্বুলে নতুন কমার্শিয়াল উইং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। তাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অ-শুল্ক বাধাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানেই অ-শুল্ক বাধা শনাক্ত হচ্ছে, সেখানেই বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়েও বৈঠক হচ্ছে।

সূত্রমতে, রফতানিযোগ্য পণ্যের গুণগতমান ও বিদ্যমান ব্যাংকিং জটিলতাগুলো সমাধানে ব্যাপক কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রফতানি উৎসাহিতকরণে নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এ সহায়তার পরিমাণ সামনে আরও বাড়বে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামীতে বাংলাদেশ এ লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে পণ্যের বহুমুখীকরণও। এ দুটি কার্যক্রম শতভাগ সফল হলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু গতানুগতিক পণ্য নয়, সরকার রফতানিযোগ্য পণ্যের তালিকা বাড়াতে চায়। এ জন্য বিভিন্ন দেশের আমদানি পণ্যের চাহিদা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পণ্য-রফতানির বিষয়টি খতিয়ে দেখবে সরকার।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হিমায়িত মাছ, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চা, সিরামিকস, বস্ত্র, হোম টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং বাই সাইকেল।

এ ছাড়া, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সাপের বিষ, কুমির, কচ্ছপ, কুঁচে মাছ ও কাঁকড়ার বাজার রয়েছে বলে জানিয়েছে ইপিবি। রফতানির উদ্দেশ্যে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কুমির, কচ্ছপ, সাপ, কুঁচে মাছ ও কাকঁড়ার চাষ হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ১৯টি প্রধান শহরে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল উইং রয়েছে। সেখানে কর্মরত আছেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর, ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ইকনোমিক মিনিস্টার পদের কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও লস এঞ্জেলস, জার্মানির বার্লিন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ফ্রান্সের প্যারিস, স্পেনের মাদ্রিদ, কানাডার অটোয়া, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, ভারতের নয়াদিল্লি ও কলকাতা, জাপানের টোকিও, চীনের বেইজিং, ইরানের তেহরান, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন, রাশিয়ার মস্কো, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের বাণিজ্য শাখা (কমার্শিয়াল উইং) রয়েছে।

সরকার অপ্রচলিত পণ্য রফতানির সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ধারণ, বিদেশে বাণিজ্য মিশনগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন এবং রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মিশনগুলোকে ঢেলে সাজানোসহ দক্ষ ও কর্মঠ কর্মকর্তা নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর মিশনে থাকা অদক্ষ কর্মকর্তা, বিশেষ করে যারা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ, তাদের অবিলম্বে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বিদেশে অবস্থিত মিশনগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে দেশের রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত সহায়ক নীতিমালা ও পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ওই সভায় দেশে রফতানি সহায়ক ব্যবসা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি (২০১৫-২০১৮) রফতানি বান্ধবনীতি প্রণয়নের চূড়ান্ত অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ সম্পর্কেও আলাপ আলোচনা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রফতানি বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তো দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।