ভোর ০৬:২৮ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

চা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে চা আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চা সংসদ। শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ চা সংসদের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এদিন কৃষি, পোল্ট্রি, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল আমদানিকারক, কম্পিউটার, বারভিডার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, মূসক বাস্তবায়নের সদস্য এনায়েত হোসেন ও শুল্কনীতির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফরিদ উদ্দিন।

বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান আরদাসীর কবির বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চা আমদানির ওপর ১১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে বাংলাদেশি চা রফতানি সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশে চা আমদানির ওপর মাত্র ৮৪ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এ সুযোগে নিম্নমানের চা আমদানি হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “চায়ের উৎপাদন ব্যয় ১৮৭ থেকে ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ওপর কম শুল্কের সুবিধা নিয়ে চা আমদানি অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।” এ প্রেক্ষিতে তিনি আগামী বাজেটে চা আমদানির ওপর যৌক্তিক হারে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

অপরদিকে কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম মিলন তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট এইচএস কোড প্রণয়ন ও সংগঠনের বাড়ি ভাড়ার ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হাকিম গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন।

বেসিসের মহাসচিব উত্তম কুমার পাল ই-কমার্স ব্যবসাকে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি, খুচরা বিক্রির ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহার, বিদেশি সফটওয়্যার আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন জিটু বলেন, “চাহিদার মোট ৩০ শতাংশ সেট অবৈধভাবে আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অসম প্রতিযোগিতায় পড়ছেন সৎ আমদানিকারকরা।” মোবাইল সেট আমদানিতে শুল্ক ফাঁকি বন্ধে তিনি সেটপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন।

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল লুব্রিকেন্টের আমদানির শুল্ক হ্রাস এবং টায়ার আমদানির শুল্ক (সিডি) ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বলেন, “১৮টি দেশ রাবার উৎপাদন করে থাকে। এ সব দেশ উৎপাদন ও বিপণনে প্রণোদনা দেয়। কিন্তু কৃষিপণ্য হিসেবে রাবার অন্তর্ভুক্ত হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের কোন সুবিধা দেওয়া হয় না।” ল্যাটেক্সের ওপর মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন তিনি।

কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহার ও আলু থেকে উৎপাদিত পণ্য রফতানিতে প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।


 

অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এ খাতে জড়িতদের করপোরেট কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনসুর হোসেন বলেন, “দেশে উৎপাদন হলেও পোল্ট্রি ফিড তৈরি করতে বিদেশ থেকে ভুট্টা আমদানি করতে হয়। ফিড ইন্ডাস্ট্রি পোল্ট্রি শিল্পের পশ্চাৎ শিল্প।” আর তাই ভুট্টা আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন তিনি।

মোবাইল ফোন আমদানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বিটিআরসির তথ্যমতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। অথচ কম্পিউটার পণ্যের ওপর কর সাড়ে ৬ শতাংশ। পক্ষান্তরে মোবাইলের ওপর করহার ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।” মোবাইলের করহার যৌক্তিক এবং সারচার্জ বাতিলের প্রস্তাব দেন তিনি।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।