দুপুর ১২:৫৯ ; বুধবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৯  

শেষবার টুইট করে বুধেই আছড়ে পড়ে মহাকাশযান

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক॥

প্রায় ১১ বছর ধরে সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধের আকাশে উড়ছিল নাসার মহাকাশযান ম্যাসেঞ্জার। সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হয়েও বুধে যে বরফ আকারে প্রচুর পানির অস্তিত্ব আছে তা জানিয়েছিল এই ম্যাসেঞ্জারই। দুই লাখ ৮৯ হাজারেরও বেশি ছবি ও বিজ্ঞানীদের চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো দারুণ সব তথ্য পাঠায় এই রোবট।

কিন্তু ক্যামেরার চোখ খুলে ও ডানা মেলে আর আকাশে ভাসবে না সেটি। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুধের গায়ে আছড়ে পড়েই ধ্বংস হয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ওই মহাকাশযান। তবে আচমকাই ধ্বংস হয়নি যানটি। আগে থেকে পৃথিবীবাসীকে নিশ্চিত মৃত্যুর সব তথ্য জানিয়েছে। টুইটারে একের পর এক বার্তা দিয়ে গেছে ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত। যদিও পৃথিবীতে বসা তার চালকই টুইটগুলো লিখেছে।

মহাশূন্যে ৮৭৩ কোটি মাইল সফর করে মানবশূন্য এই মহাকাশযানটি। পৃথিবীতে ২৬৫টি ছবি ও দারুণ সব তথ্য পাঠায় ম্যাসেঞ্জার।

বুধের চারপাশে চার হাজার ১০০ বার ও সূর্যের চারপাশে ৩২ বার ঘুরে আসে ম্যাসেঞ্জার। মার্কারি সারফেস, স্পেস এনভায়রনমেন্ট, জিওকেমেস্ট্রি অ্যান্ড রেনজিং নাম ছোট করে এই ম্যাসেঞ্জার নামটি রাখা হয়। মাত্র তিন মিটার লম্বা (১০ ফুট) এই রোবটটি উৎক্ষেপণ করা হয় ২০০৪ সালে। এর ওজন ছিল ৪৮৫ কিলোগ্রাম। বুধকে প্রদক্ষিণ করতে পারা প্রথম মহাকাশযান ছিল ম্যাসেঞ্জার।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি ফুরিয়ে আসায় বুধে বিধ্বস্ত হয় ম্যাসেঞ্জার। নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবী থেকে বুধের যে অংশ দেখা যায় না সেদিকই হয়তো বিধ্বস্ত হয়েছে এটি।

ম্যাসেঞ্জারের শেষ টুইটে বলা হয়, 'মনে হচ্ছে বন্ধু, পরিবার ও সাপোর্ট টিমকে আমার চিরবিদায় বলার সময় হয়ে এসেছে। শিগগিরই আমি আমার যাত্রা শেষ করবো।' সূত্র: এনডিটিভি।

/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।