রাত ০২:৪০ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

পুলিৎজার পুরস্কার

কথাসাহিত্যে অ্যান্টনি ডোয়ের এবং কবিতায় গ্রেগরি পার্ডলো

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফাহমিদা দ্যুতি ||

আমেরিকার কথাসাহিত্যিক অ্যান্টনি ডোয়েরের জন্ম ১৯৭৩ সালে। তাঁর প্রথম বই “শেল কালেক্টর”। এটি গল্প সংকলন। এখানকার বেশ কয়েকটি গল্পের পটভূমি আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড। তাঁর আরেকটি গল্পের বই ‘‘মেমোরি ওয়াল’’। তাঁর প্রথম উপন্যাস অ্যাবাউট গ্রেইস । কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বময় তাঁর নাম ছড়িয়েছে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “অল দ্য লাইট উই ক্যানট সি”-এর মাধ্যমে। এ উপন্যাসের পটভূমি থেকে মানব জীবনকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করা যেতে পারে। জীবন সম্পর্কে অনেক গভীর অজানা সত্য পরিবেশিত হয়েছে এ উপন্যাসে। উপন্যাসটি পড়ে শেষ করার পর পাঠকের মনকে শোকাহত একাকীত্বের ভাব ছেয়ে ফেলতে পারে। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের টিকে থাকার প্রাসঙ্গিকতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতার কথাও স্থান পেয়েছে। শত্রু পরিবেষ্টিত ফ্রান্সে এক অন্ধ ফরাসি মেয়ে আর এক জার্মান বালকের কথা বলা হয়েছে এ উপন্যাসে। তারা দুজনই যুদ্ধের সে ভয়াবহতা পেরিয়ে টিকে থাকতে চায়। অ্যান্টনি ডোয়ের জীবনকে দেখেন বিজ্ঞানীর চোখে, তবে তিনি জীবনকে অনুভব করেন কবির অনুভূতি দিয়ে। চমৎকার সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে প্রেম ভালোবাসা, ভীতি, নিষ্ঠুরতা, মায়ামমতা, দয়া— মানব হৃদয়ের এমন হাজারো প্রসঙ্গের কথা তুলে ধরেন তিনি। অ্যান্টনি ডোয়ের মিশিয়েছেন যুদ্ধের ভয়াবহতা আর মানুষের হৃদয়বৃত্তির বিপরীতে সংঘর্ষে জড়ানো প্রযুক্তির বিপরীত শক্তিকে । “অল দ্য লাইট উই ক্যানট সি” উপন্যাসটি ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ফিকশনের সর্বশেষ তালিকায় স্থান পেয়েছে। নিউ ইর্য়ক টাইমসের বিচারে এটি বেস্টসেলার ছিল এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ এটি ২০১৫ সালের পুলিৎজার পুরস্কার জয় করলো।

অ্যান্টনি ডোয়ের

ডোয়ের পুরস্কার জিতেছেন জয়েস ক্যারল ওটস, রিচার্ড ফোর্ড এবং লায়লা লালামির মতো লেখকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে। অবশ্য পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারও জয় করেছেন।                               ..........................................................................................................................

আমেরিকার কবি গ্রেগরি পার্ডলোর জন্ম ১৯৬৮ সালে। পার্ডলো মূলত কবি হলেও একজন বোদ্ধা সাহিত্যসমালোচক, অধ্যাপক এবং অনুবাদক। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম “টোটেম”। এটি প্রকাশ করেন ২০০৭ সালে। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “ডাইজেস্ট”। প্রকাশ করেন ২০০১৪ সালে। পার্ডলো তাঁর কবিতায় অনেক বৈপরিত্বের মাঝে সামঞ্জস্য আনতে চেষ্টা করেন। অনেক সময় জীবনের নির্বাচিত কিছু ঘটনারও উল্লেখ থাকে তাঁর কবিতায়। ব্যক্তিগত অনুভূতি, একান্ত গৃহকোণের চিত্রও চলে আসে তাঁর কবিতার অবয়বে। কবিতার মধ্যে কালজয়ী কোনো টেক্সেটের প্ররোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ উল্লেখও থাকে। তবে নিজের কবিতাকে জনবিচ্ছিন্ন করতে চান না পার্ডলো। এ সম্পর্কে পার্ডলোর আশঙ্কা হলো, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কবিতার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব ঘটতে পারে।  তাঁর কবিতা কখনও অতিরিক্ত মোলায়েম নয় বরং কবিতার জমিনে থাকে কিছু কিছু শক্ত নুড়ি বিছানো। আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে বেশি ঘসামাজা হয়নি তাঁর কবিতার। তবে এটাই হলো তাঁর কবিতার প্রাণময়তা। তাঁর “ডাইজেস্ট” খুব সহজেই প্রকাশক পেয়েছে এমন নয়। বড় বড় প্রকাশকের কাছ থেকে ফেরত এসেছে তাঁর পাণ্ডুলিপি। এখানকার কবিতাগুলো তিনি লিখে শেষ করেন ২০১০ সালে তারপর থেকেই পাঠাতে থাকেন বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে। কিন্তু তখন তাঁর কবিতা সে সব প্রকাশকের নজরে পড়েনি। অবশেষে ২০১৪ সালের শরতে ফোর ওয়ে বুকস নামের একটি ছোট প্রকাশনা থেকে প্রকাশ করা হয় কাব্যগ্রন্থটি। এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছেন ব্রুকলিন। সেখানকার জীবনের

গ্রেগরি পার্ডলো

বর্তমান চালচিত্রসহ আরো দূরের চিত্রও মিশে গেছে তাঁর কবিতায়। সে দূরত্ব হতে পারে স্থানের, হতে পারে কালের কিংবা পাত্রের। রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার মতো তাঁর কবিতায় একই সঙ্গে আমেরিকার জীবনের বিশেষ চিত্রের মাধ্যমে হাজির করা হয় বিশ্বজনীন, চিরন্তন কথা। ২০১০ এবং ২০১৪ সালে তাঁর কবিতা বেস্ট আমেরিকান পোয়েট্রি পুরস্কার পায়। এর আগে পরে আরো অনেক দেশি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। সর্বশেষ পেলেন ২০১৫ সালের পুলিৎজার পুরস্কার। এ পুরস্কার পাওয়ার সময় অ্যালান সাপিরো এবং আর্থার সি’র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে এসেছেন গ্রেগরি পার্ডলো।  

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।