সন্ধ্যা ০৬:৩৯ ; মঙ্গলবার ;  ২৪ এপ্রিল, ২০১৮  

ভোট কেন্দ্রের পোস্টমর্টেম

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টা। নিউ ইস্কাটানের প্রভাতি বিদ্যানিকেতন স্কুল। প্রিজাইডিং অফিসারকে ফাঁকা দোতলা থেকে উঁকি দিতে দেখে জিজ্ঞেস করি ভোটার কই? উনি মৃদু হাসেন। তারপরের প্রশ্ন, কি পরিমান ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে হিসেব করেছেন? উত্তর দিলেন ৫০ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে।

তেজগাঁওয়ের মুনিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে এসে দুঃখের সাথে ভোট দিতে না পারার কথা জানালেন এক ভোটার। কেন্দ্রেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাকে। কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে একদল যুবক তাদেরকে বাড়ি চলে যেতে উপদেশ দেয়। বের হয়ে এসে সে সাংবাদিকদের বলে, আগে বললে কষ্ট করে আসতাম না।

এধরনের বেশকিছু অভিযোগ নিয়েই দিন শেষে বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এর ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোট নেওয়া শুরু হয়ে চলে টানা বিকেল চারটা পর্যন্ত।

এরমধ্যে অনেকেই ভোট দিতেও পেরেছেন। যারা সকাল সকাল গিয়েছেন ভোটকেন্দ্রে তারা ভোট দিয়েছেন। মোহম্মদপুরের কয়েকটি এলাকায়, বনানী, উত্তরার কিছু কিছু এলাকায় সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নানারকম ভয়ভীতি কাজ করেছে ভোটারদের ভেতর। বিএনপির ভোট বর্জনের খবর পেয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অপরদিকে, ভোটকেন্দ্রে সরকারদলীয়দের একতরফা উপস্থিতি নজরে আসে। এসময় ভোটকেন্দ্রে আসা ভোটাররা ভোট দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ভোট দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ:

ঢাকা উত্তরে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে জামিয়া মোহাম্মদীয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের বের করে কেন্দ্রের গেট লাগিয়ে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারা চলছে। একই ঘটনা দেখা যায় বেলা একটা থেকে দেড়টায় উত্তরা হাইস্কুলের ৩০৬ ও ৩০৭ নম্বর কেন্দ্রে।

সকাল থেকেই ওই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভাল উপস্থিতি ছিলো। পরে ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকেই ঘুরে যান অনেকে। ভীতি থেকে নিজে নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানানো এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমি সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটকেন্দ্রে এসে এখন হতাশ লাগছে।

এদিকে এই স্কুলে যে কয়েকটি নারী কেন্দ্র রয়েছে প্রত্যেকটিতে পুরুষের চেয়ে উপস্থিতি এবং ভোট দিতে পারা নারীর সংখ্যা বেশি। এবিষয়ে শাহানা আখতার বলেন, আমরা নারীরা সৌভাগ্যবান। ভোট দিতে পেরেছি। পুরুষদের কেন্দ্রগুলির গেট কেন জানি না বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার বাবা ভোট দিতে পারেননি বলে কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু মেয়েদের তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না যদিও এমনিতেই তাদের উপস্থিতি কম।

অসহায় প্রিসাইডিং অফিসার

রাজধানীর ইস্কাটন, মগবাজার, তেজগাঁও মিরপুর উত্তরাসহ মোট দশটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা শঙ্কিত ও ভীত। কেউই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে স্বস্তি বোধ করছেন না। জানতে চাইলে নামটিও বলতে দ্বিধা করে উল্টো সাংবাদিকদের নাম ফোন নম্বর দিয়ে যেতে বলছেন কিন্তু নিজের পরিচয় দেননি। উত্তরা হাইস্কুলের একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু বলতে চাই না। আমাদের সবার পরিবার আছে। আপনি আসুন।

ভোটার পুলিশ উভয়ের রোষানলে সাংবাদিকরা

সকাল নয়টায় উত্তরের এক মেয়রপ্রার্থী মগবাজারের একটা ভোটকেন্দ্রে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক ফটোসাংবাদিকরা ঢুকতে গেলে পুলিশ তাদের আটকায় এবং অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর খানিক পরে সেই প্রার্থী কেন্দ্র ত্যাগ করলে কিছু সাপোর্টার গ্রুপ এসে সাংবাদিকদের সেখান থেকে চলে যেতে নানা হুমকি দেয়। এদিকে কেবল পুলিশের হাতে না সাংবাদিকদের নানারকম হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে ভোটারদের কাছেও। দুপুরে বনানী মডেল হাইস্কুলে ভোট দিতে আসা একদল যুবক ভোট দিতে না পেরে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসেই সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ে। তারা বলেন, জীবনে প্রথম ভোট দিতে আসলাম আর আমাদের বলে ভোট কিসের, বাড়ি যান। তারা সাংবাদিকদের একটু তীর্যকভাবেই বলে, আপনার কেন এখানে আছেন? পুলিশ আর আপনাদের পার্থক্য কি?

/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।