দুপুর ০৩:৩০ ; বুধবার ;  ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮  

কী ঘটল সেই ১ ঘণ্টায়?

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

সব ঠিকঠাক চলছিল। ভোটাররা ভোট দিলেন সকাল সকাল। প্রার্থীরাও (মেয়র) ভোট দিলেন। হাসিমুখে গণমাধ্যমের সামনে এসে বললেন, 'ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। এভাবে নির্বাচন হলে তারা জিতবেন।'

সময় গড়াচ্ছিল। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়ছিল। একটা জমজমাট নির্বাচনি অামেজ সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছিল। এভাবেই সময় গড়িয়ে গেল সকাল ১০টায়। সাড়ে দশটায়ও চারদিকে ভোট ভোট রব। ১১টা বাজতেই ভোজবাজির মতো ভোটচিত্র বদলে যেতে থাকে।

বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্র থেকে অভিযোগ অাসতে থাকে অনিয়ম, কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ভাঙচুর অার জালভোটের। অভিযোগ অাসতে থাকে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ অাউয়ালের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে থেকে তাবিথ অাউয়ালের মাত্র 'একজন' এজেন্টকে পাওয়া গেল। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অামাদের এজেন্টদের রাত থেকেই হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেককে পুলিশের ভয় দেখানো হয়েছে। এ কারণে সকালে কেউ অাসেনি। কারা হুমিক-ধমকি দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কারও নাম না বলে জানান, স্থানীয় অাওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথা।

এরইমধ্যে শাহ অালম নামের এক ভোটার ভোটকেন্দ্রের মূল ফটকের কাছে এসে চিৎকার করে বলছিলেন, 'অামি ভোট দিতে পারি নাই। অামার ভোট কে দিল? ভেতরে গেছি, অামাকে বলা হলো, অাপনি তো ভোট দিয়ে গেছেন। অথচ অামার হাতে কালি নাই।' এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর অাসতে থাকে বেলা ১১টার দিকে।

অথচ দুপুর ১২টার কিছু পরে খবর এলো, নির্বাচন প্রত্যাখান ও বর্জন করেছে বিএনপি।

এর পরই ভোট কেন্দ্রগুলোতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, কী এমন ঘটল ওই এক ঘণ্টায় যার ফলে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিল। এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে মিরপুরের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উচ্চবিদ্যালয় ও শাহ অালী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে।

ভোট দিয়ে এ ধরনের অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা দেখা গেছে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ট ব্লকের ইসলামিয়া হাই স্কুল কেন্দ্রে (কেন্দ্র নম্বর ১৯২)। এ কেন্দ্রে একজন কাউন্সিলর প্রার্থী জালভোট দানকারীকে হাতে-নাতে ধরলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ দিতে হলে দরখাস্ত করতে হয়। অামার কাছে কেউ দরখাস্ত করেনি। তিনি জানান, অামরা সাধারণত এ ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলি। এ ধরনের অভিযোগে কাউকে ধরলে অভিযোগ বাড়ে।

জানা গেছে, এই কেন্দ্র থেকে ১১টার পরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্টরা চলে গেছে। অাওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কাউকে বের করে দেওয়া হয়নি। সবাই যে যার মতো চলে গেছে। তারাও বিষ্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন, কী ঘটেছে?

কী ঘটল ওই ১ ঘণ্টায় তা রহস্য হয়েই থাকল।

 

/এইচএএইচ/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।