রাত ০৩:৩৭ ; মঙ্গলবার ;  ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮  

অানিসুল হকের নির্বাচনি সারাদিন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

অাগেই জানানো হয়েছিল, তিনি ভোট দিতে অাসবেন সকাল সাড়ে অাটটায়। এর অাগে থেকেই গণমাধ্য-কর্মীরা হাজির রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। অবস্থা এমন দাঁড়ালো ভোটারের চেয়ে গণমাধ্যম-কর্মীর সংখ্যা বেশি। সবাই অপেক্ষায়, কখন অাসবেন তিনি।

অবশেষে তিনি এলেন। ঘড়িতে সময় তখন ৯টা বেজে ১৩ মিনিট। ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী অানিসুল হক এলেন ভোট দিতে। সঙ্গে নিয়ে অাসেন ৯২ বছর বয়সী বাবা শরিফুল হককেও। অানিসুল হকের পরিবারের ২০-২৫ জন সদস্যের মধ্যে ছিলেন স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক, ২ মেয়ে, চার ভাই ও বোনেরা। সবাই এক সঙ্গে ভেতরে ঢোকেন ভোট দিতে।

এ সময় স্কুল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. অাবদুন নূর তুষার। তিনি জানান, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তিনি তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর মাজার রোডের জুভেরি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে সবার অাগে ভোট দিয়েছেন। তার মেয়ে এবারই প্রথম ভোট দিয়েছেন বলে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। অানিসুল হক ভোট দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে অাবদুন নূর তুষার তার সঙ্গী হন। এরপর থেকে সারাক্ষণই তুষার অানিসুল হকের সঙ্গে ছিলেন।

ভোট দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে অানিসুল হকের বাবা (শরিফুল হক) এই বয়সে ভোট দিতে পেরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এভাবে, 'অালহামুদলিল্লাহ। তার কাছে লাখো শুকরিয়া।'

অনিসুল হক বলেন, দারুণ ভোট হচ্ছে। মনে হচ্ছে একটা উৎসব মুখর পরিবেশ। সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিচ্ছে। তিনি অারও বলেন, ঢাকাবাসীর রায় আমি মাথা পেতে নেব। আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। ঢাকার অলিতে-গলিতে ঘুরেছি। মানুষের চোখে চোখ রেখেছি। সেই চোখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করেছি। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। সব বয়সী মানুষের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি।

ভোট দিয়েই অানিসুল হক পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাসায় ফিরে যান। ২১ দিন টানা পরিশ্রম করে তিনি শারীরিকভাবে 'কাহিল' হয়ে পড়ায় তিনি বাসায় ফিরে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। প্রচণ্ড কাশির জন্য কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছিল তার। কাশি কমানোর ওষুধ খেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছিল যে, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, বাইরে বের হবেন না। বাসায় বিশ্রাম নেবেন। কিন্তু শরীর একটু সুস্থ হতেই তিনি বেরিয়ে পড়েন।

বেলা সোয়া ১১টায় বনানির বাসা থেকে তিনি সোজা চলে যান উত্তরা হাই স্কুল কেন্দ্রে। সেখান থেকে তিনি যান উত্তরা অাইডিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, হাত মেলান সব বয়সী মানুষের সঙ্গে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান মিরপুরের (পল্লবী) এমঅাই মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।

এখানে ঝটিকা পরিদর্শন শেষে সরাসরি চলে যান মিরপুর এক নম্বরের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। এখানে তিনি ভোটারদের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ অাড্ডা দেন। এ সময় ভোটাররা তাকে কাছে পেয়ে অাপ্লুত হয়ে পড়েন। এখান থেকে তিনি চলে যান মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুল কেন্দ্র হয়ে শাহ অালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রে থাকতেই তার কাছে খবর অাসে বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তেই বিএনপি ভোট বর্জন করেছে।

শাহ অালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি অাবারও বনানির বাসায় ফিরে যান।

বিকেলে অানিসুল হক বাসা থেকে সরাসরি চলে যান বনানি স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলায় স্থাপিত মিডিয়া সেন্টারে। সেখানে তিনি বিকেল সোয়া ৫টায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ায় তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অামি ভোটারদের অনুভূতি বুঝতে পেরেছি। নির্বাচিত হলে অামি তাদের অনুভূতিকে সম্মান জানাব। অার যে অঙ্গীকার করেছি, তা সম্পপন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।

সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি বলেন, এখন অামি নির্বাচনের ফলের জন্য অপেক্ষা করব। বিজয়ী হলে অাপনাদের সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করব।

/এইচএএইচ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।