রাত ০৯:১৮ ; শুক্রবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৮  

ঘটনার ঘণ্টা পরে এল র‌্যাব-বিজিবি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের কবি নজরুল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ভোট নিয়ে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে দুপুর পৌনে ১২টায়। সরকার দলীয় দুটি সশস্ত্র গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কলেজের সামনের সড়কটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয় না। ভয়ে-আতঙ্কে ভোটাররা কেন্দ্র ছেড়ে যায়।

একপর্যায়ে পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে কর্তারা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় ক্যাম্পাসের ভেতর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ থাকলেও তারা ক্যাডারদের সামলাতে পারেনি।

এমন অবস্থায় বেলা ১২টা ৪২ মিনিটে বিকট শব্দে সাইরেন বাজাতে বাজাতে ঘটনাস্থলে আসে র‌্যাব। তারও ৬ মিনিট পর আসে বিজিবির গাড়ি। র‌্যাব সদস্যরা বাহাদুরশাহ পার্কের পাশে গাড়ি থামিয়ে অবস্থান নেয়। বিজিবির সদস্যরা কবি নজরুল কলেজের প্রবেশপথের দিকে মেশিনগান তাক করে দাঁড়িয়ে থাকে। ততক্ষণে সটকে পড়ে ক্যাডাররা।

র‌্যাব-বিজিবির গাড়ি এলে ছবি তোলার জন্য ঘিরে ধরে ফটোসাংবাদিকরা। কে কার আগে ছবি তুলবে তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলে। এক ফটোসাংবাদিকের মন্তব্য, 'র‌্যাব-বিজিবির গাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। তাই ছবি তুলে রাখছি।' এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হান্নান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, সময়মতো র‌্যাব-বিজিবি এলে ভোট কেন্দ্রে এত বিশৃঙ্খলা হত না।

কবি নজরুল কলেজটি পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে। মঙ্গলবার দু'জন কাউন্সিলর প্রার্থী ইয়ার মোহাম্মদ ইয়ারু (ঘুড়ি) ও হাজী মোহাম্মদ সেলিমের (টিফিন ক্যারিয়ার) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইয়ার মোহাম্মদ ইয়ারু আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন। এ কারণে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ তাকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে মোহাম্মদ সেলিম বিএনপি সমর্থক। সেলিমের অভিযোগ, সকাল ৮টা থেকেই সরকারি দলের কর্মীরা জাল ভোট দিতে শুরু করে। স্থানীয় সেলিম সমর্থকরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি গরম হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সেলিম সমর্থকদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তারা কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

 

/ওএফ/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।