দুপুর ০২:৩০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

খালেদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু 'প্রকৃতি'

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

পরিবেশ আর প্রকৃতি নিয়ে ভাবলেই সব কর্তব্য শেষ হয়ে যায়না। কিছু করতে হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ক্রমবর্ধমান আধুনিকায়ন শেষ করে দিচ্ছে পরিচ্ছন্ন প্রকৃতি। সেই ভাবনা থেকে সবকিছু ছেড়ে একাগ্রচিত্তে নিজেকে পরিবেশের বন্ধু করে রাখতে ছোটবেলা থেকেই খালিদ মোঃ বাহাউদ্দীন নিজেকে নিবেদন করেছেন প্রকৃতির কাছে।

পরিবেশ আকাশ কুসুম কল্পনা না করে দেশের নবীন এই পরিবেশবিদ প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার বিষয় হিসেবে বেছে নেন পরিবেশ বিজ্ঞানকে। বাহাউদ্দীন জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন।

তবে পরিবেশ নিয়ে পড়ারতো আর শেষ নেই, তাইতো এরই মধ্যে জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিসার্চ ইনোভেশনের ওপর করেছেন ফেলোশিপ। তবে পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা শুরু স্নাতক পর্যায় থেকেই। সেসময়ই তার ৩টি গবেষণাপত্র দেশের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়। খালিদ মূলত কাজ করেন পরিবেশের শাসনতন্ত্র, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে।

খালিদের বিশ্বাস বিশ্বকে কেবল বাংলাদেশই শেখাতে পারে, প্রকৃতির ক্ষতি না করে কিভাবে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব।আর তাইতো পরিবেশরক্ষায় আলোচত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা বিভাগে কর্মরত খালেদ একেরপর এক চালিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ সম্পৃক্ত গবেষণা পত্রের জয়রথ।

গতবছরের সেপ্টেম্বরে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব লিউভেন থেকে নিয়োগ পান ভিজিটিং স্কলার হিসেবে।

এর পরপরই অর্জন করেন অনেকটা অনেকটা স্বপ্ন ছোবার অর্জন। সে বছরই বিখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটি গ্রহণ করে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে তার গবেষণাপত্র। যেটি আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পেরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম ইউএনএফসিসিসি সম্মেলনে বই আকারে প্রকাশ করবে।

তবে এর থেকেও যে বড় অর্জন তার জন্য অপেক্ষা করছিল তা হয়তো ভাবেননি খালেদ। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনিসিটউট অব টেকনোলজিতে, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন একটি প্রজেক্টে কাজ করবার। শুধু ফেলোশিপ আর সম্মেলনে অংশই নয়, এবার আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলিনিয়াম ইন্সটিটিউট তাদের একটি প্রকল্পে ব্যবহার করতে যাচ্ছে তার গবেষনাপত্রের প্রস্তাবিত সুপারিশ।

অর্জন যার লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গিও উচ্চাকাঙ্ক্ষার হবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বাংলা ট্রিবিউনকে খালেদ বললেন, দেশকে নিয়ে তিনি যেতে চান বহুদূর। তিনি বলেন,“সাম্প্রতিক বিশ্বে পরিবেশগত শাসনব্যবস্থা ও এর বাস্তবায়ন গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সমস্যা আরও প্রকট। পরিবেশ খাতকে পরিচালনা করতে অনেক নীতিমালা, আইনকানুন ও প্রতিষ্ঠান থাকলেও পরিবেশগত অবক্ষয় অবিরত হয়েই চলছে। এর এ কারণে প্রয়োজন উপযুক্ত ও কার্যকর পরিবেশগত শাসনব্যবস্থা।”

এতো কাজের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছেন গবষেণা কাজের। সর্বশেষ এ মাসেই প্রকাশ পেয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় 'ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ' এর রিসার্চ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত পরিবেশ নির্ভর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছোটবেলায় তার ডাক্তার বাবা গল্প করে বলতেন। তিনিই বলতেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না হলে মানুষের রোগ আর অসুস্থতা দিনকে দিন বাড়বে। সেই পরিবেশ যেন বন্ধু হয়ে থাকে মানুষের, সেই লক্ষ্যই প্রচেষ্টা।

/এাই/এফএএন/


 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।