রাত ০৪:৪২ ; রবিবার ;  ২১ জানুয়ারি, ২০১৮  

নতুন ধান, নতুন স্বপ্ন

প্রকাশিত:

নড়াইল প্রতিনিধি॥

নড়াইলে বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। নতুন ধানের স্বপ্নে কৃষকরা আছেন মহাআনন্দে। মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুঁয়ে গেছে এই স্বপ্ন, এই আনন্দ। ধানকাটার উৎসবে কৃষক-কৃষাণীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। এ বছর নড়াইলে প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত থাকায় কৃষকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ধান কাটছেন।

নড়াইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৪-১৫ মৌসুমে জেলার ৩ উপজেলায় ৪০ হাজার ৭২২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৭৩০ হেক্টরে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১৫ হাজার ৭২০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ২৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর ও স্থানীয় ৬০ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে (২০১৩-১৪) আবাদ হয়েছিল ৪১ হাজার ৫০৫ হেক্টরে। গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি (উপ-পরিচালক)।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের আলম বলেন, চারিদিকে এখন নতুন ধানের সুবাস, নতুন স্বপ্ন, নবউদ্যোম। সদর উপজেলার বগুড়া গ্রামের মশিয়ার রহমান বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। পাঁচ শতক জমিতে ১০ মণ ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

বাঁশভিটা গ্রামের সুকান্ত জানান, বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতিমণ ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলে কৃষকরা বেঁচে থাকবেন।

কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সাজ্জাত হোসেন বলেন, আমাদের বাজারে ধানের দাম অনেক কম। মণপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন। কুচিয়াবাড়ি গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, এখন মাঠের পর মাঠজুড়ে শুধু সোনালি ধান। বাতাসে সোনালিধান দুলছে। কৃষকের মনে অনেক আনন্দ লাগছে। এ বছর মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকেরা ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

সদরের কলোড়া গ্রামের রাফিজা বেগম বলেন, ধানমাড়াইয়ের জন্য উঠানবাড়ি এবং ধান সংরক্ষণের জন্য ‘গোলা’সহ বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করেছি। এদিকে, সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। তবে, শ্রমিকসঙ্কট ও উচ্চমূল্যের কারণে ধানকাটা এবং ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। বিভিন্ন হাটে জনপ্রতি ৪০০ টাকা হারে শ্রমমূল্য বিক্রি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে ব্রি-২৮ ধান কর্তন শুরু হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৩ (তিন) দশমিক ৮ (আট) মেট্রিক চাল উৎপাদন হচ্ছে।

/জেবি/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।