বিকাল ০৫:০৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

'এফএমকে ঢালাওভাবে গালি দেওয়াটা ঠিক হবে না'

প্রকাশিত:

'অনেকাংশে সত্য জগাখিচুড়ি ভাষা আমরা বলছি। তবে মজার বিষয় হলো এমন অভিযোগগুলো বেশি শোনা যায় ফেব্রুয়ারি মাসে। কেন, অন্য মাসে ভাষা বিকৃতি হচ্ছে না?' বিস্মিত কণ্ঠে বলছিলেন সাব্বির হাসান লিখন। এফএম রেডিওতে কথাবন্ধু হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় তিনি। তবে সম্প্রতি অভিনেতা হিসেবেও নামডাক চারদিকে ছড়াতে শুরু করেছে। এর বাইরেও তার অাছে অারও বহু গুণ। সম্প্রতি তিনি বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন- ওয়ালিউল মুক্তা

বাংলা ট্রিবিউন: কেন আপনি আরজে হতে চেয়েছিলেন?

লিখন: আমার বড় ভাই সামিউল হাসান লিটন রংপুর বেতারের উপস্থাপক ছিলেন। ছোটবেলায় তার কথা বলার ধরন, রেডিওতে তার কণ্ঠ- সবই ভালো লাগত। একসময় তাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করি। এই তো ব্যস, এভাবেই।

সাব্বির হাসান লিখন/ ছবি তুলেছেন: সাজ্জাদ হোসেন/ বাংলা ট্রিবিউন
 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ছেলেবেলা তাহলে রংপুরে কেটেছে?

লিখন: আমার বেড়ে ওঠা রংপুরে। পরিবারে ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আমি। বলা যায়, বাবা-মা হয়তো ফ্যামিলি প্ল্যানিং করেননি তো! করলে হয়তো আমার পৃথিবীতেই আসা হতো না। এখন তো দেওয়া থাকে একটা সন্তানই যথেষ্ট। আর সাক্ষাৎকার দিতে আসাও হতো না (হাসি)।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি নিজেও বেশ কয়েকটা ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। প্ল্যানিংটা কি ঠিক আছে?

লিখন: এর মধ্যে বেশিরভাগই শখ বা ভালোবাসা থেকে। কিন্তু পেশা হিসেবে আমি ডেন্টিস্ট। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে ‌‌‌অবস্থা, তাতে বিকল্প পেশা থাকাটা জরুরি। এগুলো থেকে একটা সময় যে কোনও একটা বেছে নেওয়া যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: রেডিওতে আরজেদের বিষয়ে অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করেন। এটা আসলে কেন?

লিখন: এ বিষয়ে আমার কিছু যুক্তি আছে। এগুলো শুধুই আমার মত। প্রথমে বুঝতে হবে রেডিও কারা বেশি শুনছে। অবশ্যই নতুন প্রজন্ম। যাদের বয়সের খুবই কম। স্কুল কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়েও তারা রেডিও শুনছে। যার ফলে মুরব্বিরা দু'চারটে গালি দিতেই পারেন। এটা দোষের কিছু নয়। আর একটি বিষয় আরজেদের প্রতি সবচেয়ে বড় অভিযোগ ভাষা বিকৃতি। হ্যাঁ, এটা অনেকাংশে সত্য জগাখিচুড়ি ভাষা আমরা বলছি। তবে মজার বিষয় হলো এমন অভিযোগগুলো বেশি শোনা যায় ফেব্রুয়ারি মাসে। কেন অন্য মাসে ভাষা বিকৃতি হচ্ছে না? তখন তারা গ্রহণ করছে কেন? এফএম রেডিও আমাদের জীবনযাত্রাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে এটাও সত্য। তাই এফএম রেডিওকে ঢালাওভাবে গালি দেওয়াকেও ঠিক হবে না। আরেকটি বিষয় আছে, অনেক আরজে সবাইকে 'তুমি' সম্বোধন করে। আসলে কলাকাতায় এই সংস্কৃতিটা রয়েছে। কিন্তু আমরা তো ঢাকায় থাকি। এখানে বড়-ছোট বিষয়টি সবাই খেয়ালে রাখেন।

বাংলা ট্রিবিউন: রেডিও কথা বলা ছাড়া বিষয়গুলো নিয়ে কখনও শুনে পরখ করে দেখেছেন?

লিখন: হ্যাঁ, আমি শুনেছি। আমি দীর্ঘদিন আরজের জীবন থেকে বিরতি নিয়েছিলাম। তখন আমি শুনতাম। আসলে আমি নিজেও বেশ হতাশ। অনেকেই আছেন যাদের নূন্যতম যোগ্যতাও নেই। তারা কোন বিষয়ে কীভাবে কথা বলবে সেটাে তো দূরের কথা, ভাষাজ্ঞানও শূন্যের কোঠায়।

বাংলা ট্রিবিউন: এখানে রাত জাগার বিষয়টাও তো আছে। নিজেদের মানিয়ে নেন কীভাবে?

লিখন: রেডিও টুডেতে আমি প্রথম কাজ শুরু করি। কোনও রকম একটা শো দেওয়া হলো। রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠান। কিন্তু আমাকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হতো। পরের আরজে এলে তখন অফিস ত্যাগ করতাম। প্রথম ৬ মাস আমি রাতে ঘুমাইনি।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার অভিনয় প্রসঙ্গে অাসি। 'পিঁপড়াবিদ্যা'র সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

লিখন: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে ২০১৩ সালে পরিচয়। তিনি ভ্যালেনটাইন ডে'র একটি অনুষ্ঠানে আসেন। সঙ্গে তিশা ভাবি। সেখানে আমি কথাবন্ধু ছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বললেন, কথা হবে পরে। তখন আমি বুঝিনি। পরে তিনি যখন ফেসবুকে আমাকে নক করেন, আমি তো ভেবেছি ভুয়া আইডি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছে। এর পর ফারুকী ভাইয়ের নম্বরে ফোন দিই। তিনি বলেন, 'ওই মিয়া তোমারে আমি খুঁজে পাইতেছি না। কই থাকো। একদিন এসে আমার সঙ্গে দেখা করো। কাজ আছে।' দেখা করার পর তিনি আমাকে 'পিঁপড়াবিদ্যা'র চরিত্রের কথাটি বলেন। আমি প্রথমেই বলি, অভিনয় জানি না। তিনিই আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'এটাই তো আমার জন্য ভালো। যে পারে, তাকে তখন শূন্যতে নামাতে হয়। তারপর ইনপুট দিতে হয় তখন সে আউটপুট দেয়। আর তুমি তো আগে থেকেই শূন্য। এটা আমার জন্য ভালো।'

বাংলা ট্রিবিউন: ছবিতে আপনি শীনা চৌহানের প্রেমিক ছিলেন। একজন মডেলের প্রেমিক চরিত্রে কাজ করেছেন। প্রথম কাজ হিসেবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন কীভাবে?

লিখন: শীনা চৌহান খুবই সহযোগিতাপ্রবণ। তাই সমস্যা হয়নি। আর বন্ধুরা কিন্তু কেউ জানত না আমি ছবিতে কাজ করছি। কারণ এটা বলতে নিষেধ ছিল। আর পরে যখন অন্যরা জেনেছিল তখন বন্ধু সমাজে আমার দাম বাড়তে শুরু করে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার প্রেমিকা আছে। সে কীভাবে নিয়েছিল?

লিখন: সে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছিল চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্যে কথায়। সেখানে আমাদের (লিখন ও শীনা) খুব কাছাকাছি আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এটা নিয়েই সে প্রায় খোঁচা দিত। বলত, দৃশ্যটা করেছ কিন্তু পরে কেটে ফেলেছ তাই না।

বাংলা ট্রিবিউন: রেডিওতে আরজেদের প্রতি অনেকেই দুর্বল। মেয়েদের এই ঝোঁকটা দেখে কেমন লাগত?

লিখন: এটা আসলে আমি বলব টিনএজ বয়সেরই একটা ধরন। সেভাবেই সামলানোর চেষ্টা করি। যেন শ্রোতা হিসেবে আঘাত না পায় আবার সম্মানের জায়গাটাও ঠিক থাকে।

/এম/এমজে/

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।