রাত ১১:১৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৮ এপ্রিল, ২০১৯  

ইউল্যাবে শুরু হলো অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট:

বিশ্ববিদ্যালয়টির শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করা। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেই নতুনত্বের যাত্রায় এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে তারা সম্প্রতি শুরু করেছে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস)- এর ব্যবহার। সহজভাবে বললে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। শুধু ক্লাসনির্ভর নয়, নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে সবসময় আরও আপডেট রাখতেই মূলত আধুনিক এ প্রযুক্তির দারস্থ হওয়া। ব্যবহারের আগে সংক্ষেপে যেনে নেয়া যাক আধুনিক এই প্রযুক্তি সর্ম্পকে।

মূলত, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এলএমএস একটি প্রযুক্তি যেটি শিক্ষাদান ও অফিস ব্যবস্থাপনায় সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ব্যহারে সাধারণত কোর্স কন্টেন্ট দেওয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপাদান সরবরাহ, প্রত্যেকের আলাদাভাবে উন্নয়ন সম্পর্কিত ডাটাবেজ তৈরি, রির্সোস ম্যানেজমেন্ট, পারফরমেন্স অন্যালাইসিসের মত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়ে থাকে আধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবস্থায়।

এবার, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে ক্লাসের বাইরে যোগাযোগ আরও বাড়াতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নিজেদের মতো করে তৈরি করে নেওয়া এই এলএমএস সিস্টেমে এখন থেকে প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষকেরা সাইটটিতে ক্লাস লেকচার অপলোড ( ভিডিও ফরম্যাট), অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা, মন্তব্যসহ গ্রেড দেওয়া, কুইজ নেওয়া, আনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে। ফলে, যে কোনও সময়ই শিক্ষার্থীরা বুঝে নিতে পারবেন তাদের গুণগত অবস্থান।

এই ঘরণার শিক্ষাব্যবস্থা মূলত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নির্ভর না রেখে ক্লাসের বাইরে পড়ালেখার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য করা হয়েছে বললেও ভুল হবে না। এ ছাড়া, প্রযুক্তিটি অ্যাপ আকারে মোবাইল ও ট্যাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এটির সর্বাত্মক ব্যবহার করা সম্ভব ।

তবে, প্রতিটি কাজের যেমন কিছু ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য থাকে, তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে আরও একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থেকে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে। আর সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রযুক্তির গুণগতমানের কারণে শিক্ষার্থীদের যেমন একদিকে এখন থেকে আলাদাভাবে অ্যাসাইমেন্ট প্রিন্ট দিতে হবে না, একইসঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইন নির্ভর হওয়ায়, বাকি কাজগুলো হবে কাগজের ব্যবহার না করে।বিশ্ববিদ্যালয়টির গোয়িং গ্রিন ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন এ প্রযুক্তির সঙ্গে ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে, এরই মধ্যে সব শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ।এ ছাড়া, প্রতি সেমিস্টারে থাকবে প্রশিক্ষণ নেবার বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া থাকছে প্রত্যেক সেমিস্টারের শুরুতে নতুন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তারুণ্যনির্ভর নতুন এ উদ্যোগ সময় উপযোগী বলেই মনে করা হচ্ছে।

/এআই/এমপি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।