ভোর ০৬:৪৩ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

ট্যানারি শিল্প পার্কের কাজে অসন্তুষ্ট শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

জুনের মধ্যে রাজধানী থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের নির্ধারিত শিল্প পার্কে স্থানান্তর করা না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু সীমানা প্রাচীর আর নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ করে শিল্প প্লট রক্ষা করা যাবে না। এ পর্যন্ত প্লটের যে কাজ হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। যে সব ট্যানারি মালিক স্থানান্তরের নামে এ ধরনের কাজ করছেন, দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বৃহস্পতিবার সকালে সাভারে নির্মাণাধীন চামড়া শিল্প পার্ক পরিদর্শন শেষে ট্যানারি মালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে এ সব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. মোঃ এনামুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফরহাদ উদ্দিন, বিসিক চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন খান, চামড়া শিল্প পার্কের প্রকল্পের পরিচালক সিরাজুল হায়দার, বিএফএলএলএফইএ’র সভাপতি প্রকৌশলী আবু তাহের প্রমুখ।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সকাল সাড়ে ১০টায় সাভারের হেমায়াতপুরে পরিদর্শনে আসেন। কাজের অগ্রগতি দেখে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি মন্ত্রী।

বৈঠকে জানানো হয়, চলতি ২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে স্থাপিত কেন্দ্রিয় বর্জ্য শোধনাগার আংশিক চালু হবে। এর মাধ্যমে সিইটিপি’র মোট পরিশোধন ক্ষমতার শতকরা ২৫ ভাগ ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এ সময়ের মধ্যেই যে কোনও মূল্যে এটি শতকরা ৫০ ভাগে উন্নীত করতে শিল্পমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দ্রুত নির্মাণ কাজ করলে, দ্রুততার সঙ্গে তাদের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, জুনের মধ্যে রাজধানী থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে যাচ্ছে, গত বছর থেকেই মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সময়মতো তা হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, “ট্যানারি পল্লীর সবচেয়ে বড় ও প্রধান কাজ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণ। এর ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জুনের মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হবে।”

তিনি বলেন, “চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি উদীয়মান শিল্পখাত। এখাতে তৈরি পোশাকের চেয়েও অধিক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। রফতানি বাণিজ্যে আমাদের প্রতিযোগিরাই বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।”

তিনি এ শিল্পখাতে রফতানির বিশাল সুযোগ কাজে লাগাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য মালিকদের পরামর্শ দেন।

মতবিনিময় সভা শেষে শিল্পমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, “দেশ ও ব্যবসার স্বার্থে চামড়া ব্যবসায়ীদের হাজারীবাগ ছাড়া উচিৎ। পরিবেশের কারণে ব্যবসায়ীরা যদি আন্তর্জাতিক বাজার হারায়, তবে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।”

১২ বছর আগে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ এবং এ খাতের উদ্যোক্তারা। কারণ শিল্পটি স্থানান্তর না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদী ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আর পরিবেশসম্মত কারখানা না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে লোকসানে পড়তে হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের।

চীনা প্রতিষ্ঠান জেএলইপিসিএ-ডিসিএল জেভিকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ সিইটিপি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। শর্ত ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ করার। কিন্তু বর্তমানে ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চামড়া শিল্প নগরীর এ বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)।

২০০৩ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তৃতীয় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পে ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সাভারের হেমায়েতপুরে ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের করা হচ্ছে। ১৫৫ জন শিল্পোদ্যোক্তার মাঝে ২০৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিইটিপি নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৭ একর জমিসহ মসজিদ, পানি শোধনাগার, বিসিকের লোকাল অফিস নির্মাণেও জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বরাদ্দ প্রাপ্ত ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ১৫২টি কারখানা নকশা দাখিল করেছে। ইতিমধ্যে সবগুলো নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৪৯টি ইউনিট নির্মাণ সামগ্রীর মজুদসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে ৯১টি পাইলিংসহ নির্মাণের মূল কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া, ২৮টি ইউনিট সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা চৌকি, ২৫টি শুধু সীমানা নির্মাণ, ৫টি শুধু নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ শেষ করেছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।