রাত ১০:২৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৮ এপ্রিল, ২০১৯  

পাহাড়ের পথে জঙ্গল বাড়ির তরুণদের জয়যাত্রা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

পাহাড়ে ওঠা মানে কি কেবলই পাহাড় জয়? নাকি প্রকৃতির কাছে নিজেকে সমর্পণ। তাই পাহাড়ের নীরব দাম্ভিকতাকে বুকে আগলে নিতে জঙ্গল বাড়ি নেচার ক্যাম্প চতুর্থবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে তাদের অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প 'পাহাড়ের পথে পথে : এক্সট্রিম পার্ট ৪'

আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এ ক্যাম্পের মূল যাত্রা শুরু হবে রোয়াংছড়ি থেকে। পুরো একদিন হাঁটার পর সন্ধ্যায় পাহাড়কোলে সুবিধাজনক স্থানে তৈরি হবে ক্যাম্প। পরদিন সকালে আবার পাহাড়, ঝিরিপথ, শঙ্খনদীর তীর ধরে এগিয়ে যাওয়া। সন্ধ্যায় রাত্রিযাপন শঙ্খতীরের ক্যাম্পে। পরদিন থানছির উদ্দেশ্যে যাত্রা। বান্দরবান থেকে চিম্বুক, বলিপাড়া হয়ে থানছি যাওয়ার আরও একটি রাস্তা আছে। তবে, সেটি হবে ফেরার পথ। সড়ক পথে ৮০ কিলোমিটার পাকা পথ। বাংলাদেশের সব থেকে উঁচু স্থানের পাকা রাস্তা এই পাহাড়গুলোর শরীরে। কখনও কখনও এসব পথ বেয়ে চলে যায় মেঘ। ভাগ্য ভালো হলে পাহাড় চূড়ায় মেঘের দেশ থেকে নিচের দিকে ঝুম বৃষ্টির দৃশ্য দেখা হয়ে যেতে পারে। ২৬ এপ্রিল রাতে বান্দরবান থেকে বাসে যান্ত্রিক শহর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

প্রকৃতির নেই কোন কৃত্রিমতা। আর তাই, অকৃত্রিম সেই বন্ধুর সান্নিধ্য পেতে হতে হবে পুরোপুরি প্রকৃতিবান্ধব। এমনটাই জানালেন আয়োজনের সমন্বয়ক শেখ রাজীব। বাংলা টিব্রিউনকে তিনি জানান, জঙ্গলবাড়ি একটি নেচার ক্যাম্প হওয়ায় এখানে অংশগ্রহণ করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখার শতভাগ মানসিকতা নিয়ে। তা না হলে, তথাকথিত জীবনযাপনের অভ্যস্ততার কারণে একটু বেশি কষ্ট হতে পারে এই অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে।

কারণ হিসেবে বলেন, সমতল ভূমি থেকে যাত্রা শুরু করা হলেও, আকাঁবাকা বন্ধুর পাহাড়ি পথ ধরেই শুরু হয় পাহাড়ের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের গল্পের। যেখানে প্রকৃতি কখনও হয়ে ওঠে অপরিচিত আতঙ্কের কখনও বা পরম বন্ধু।

তিনি জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয় নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য নিয়ে। যার একটি প্রধান কারণই হচ্ছে, পরিবেশের কোনও ক্ষতি না করে এক সঙ্গে বসবাস। ওষুধ, লাইটারের মতো একান্ত কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া প্রায় পুরো ট্যুরটি সম্পন্ন করতে হবে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। এমনকি, পানি ও খাবার থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছুই।

শুধু পাহাড়ের নীরবতা নয়, জঙ্গল বাড়ি খুঁজে বেড়ায় প্রকৃতির নানা রূপ। ফলে, বান্দরবান থেকে শুরু করে জঙ্গল বাড়ির ব্যাপ্তি সুন্দরবনের বনবিবি মেলা পর্যন্ত। কখনও রাসমেলা তো কখনও নদীর বুকে কুয়াশা উৎসব, জঙ্গল বাড়ি প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় অস্তিত্ব আর রকমভেদের তারতম্য খুঁজে পেতে চায় সবখানে।

২০১৩ সালের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জঙ্গল বাড়ি। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পেজ খোলে। এর মধ্যেই জঙ্গল বাড়ির ফেসবুক পেজটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতি আর পরিবেশের পক্ষে প্রচারণার একটি জনপ্রিয় আউটলেট।

বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ ও প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনাও স্থান পায় জঙ্গল বাড়ির পোর্টালে। তবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা আর লক্ষ্য নির্দিষ্ট রাখতে সংগঠনটির সদস্যরা মেনে চলেন পরিবেশবান্ধব বেশকিছু নিয়ম:

*জঙ্গলবাড়ি কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই সব ভ্রমণে সব কাজে সব ক্যাম্পারদের সহযোগিতা করতে হবে। ব্যাগের ওজন চার কেজির অধিক হওয়া কোনওভাবে উচিত নয়। কারণ আপনার ব্যাগ নিজেকেই বহন করতে হবে।

*সকল ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। ধর্মীয় আলোচনার ক্ষেত্রে সব বিষয়ের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনও প্রকার রাজনৈতিক আলোচনা করতে বিশেষ দিকে খেয়াল রাখুন। যাতে অন্যরা বিরক্ত না হয়।

*খাবার থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই প্রকৃতি থেকে নিজেদের সংগ্রহ করতে হবে।

*পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনও কিছু করা উচিত নয়।

*প্রকৃতি মানেই নির্জনতা। তাই কণ্ঠস্বর সীমিত আকারে রাখাই শ্রেয়।

*জঙ্গল বাড়ির সবকিছুই আপনার। তাই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দ্বায়িত্ব নিজেদের। নির্দিষ্ট স্থানেই আপনার ময়লা-আর্বজনা ফেলতে হবে। প্রত্যেকে পাহাড়ে যা যা নিয়ে যাবেন কোনও কিছু না ফেলে আবার নিজ দায়িত্বে ফেরত আনতে হবে।

*জঙ্গল বাড়ির নিয়ম-কানুন ও প্রতিদিনের কর্ম তালিকা সময় অনুযায়ী অনুসরণ করবেন। জঙ্গল বাড়ি ক্যাম্পের সব তথ্য ক্যাম্প লিডারের সঙ্গে কথা বলে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

**জঙ্গল বাড়ি একটি নেচার ক্যাম্প যেখানে রয়েছে সংগ্রাম। আছে শতভাগ সুবিধা না পাবার যন্ত্রণা। তাই প্রকৃতির প্রতিকূলতায় বেঁচে থাকতে এবং প্রকৃতির বন্ধুত্ব পেতে সকল কষ্ট বিবেচনায় নিয়েই নামতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশে।

/এআই/এফএএন/এমপি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।