রাত ১১:৪৮ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

চরফ্যাশনে বন গবেষণা কেন্দ্রের গাছ বিক্রি হচ্ছে অবাধে

প্রকাশিত:

ভোলা প্রতিনিধি॥

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি মুকরি ও ঢালচরে'র সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজার করছে কাঠ চোরাকারবারীরা। রেঞ্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এসব কাঠ। অবৈধ করাত কল থেকে গাছ চেরাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এই করাত কলগুলো রেঞ্জ অফিসের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকলেও বনবিভাগের কাছে এগুলোর কোনও তথ্য নেই।

কুকরি মুকরি বন গবেষণা এলাকার রেঞ্জার সাজেদুল ইসলাম বলেন, 'আমার এলাকায় কোনও করাত কল নেই তবে দু’টি স'মিল আছে। সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের গাছ চেরাই করা হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার ৩টি রেঞ্জের কর্মকর্তারা গাছ চুরি থেকে শুরু করে চেরাই করার কথা অস্বীকার করলেও গাছ কাটার অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলার কথা স্বীকার করেছেন।

চর ফ্যাশন রেঞ্জের আওতায় ৮৮টি করাত কলের মধ্যে ৩০টির লাইসেন্স আছে বলে জানা যায়। অপরদিকে দেশের দ্বিতীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কুকরি মুকরিতে ২টি, ঢালচরে ২টি করাত কল থাকলেও বন কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।

করাত কলের মালিক মাদ্রাসা শিক্ষক কাজী মো. সলিমুল্লাহ বলেন, 'বন বিভাগ আমাদের কোনও প্রকার লিখিত অনুমোদন না দিলেও সহকারী কমিশনার ভূমি (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল করিমের লিখিত অনুমোদনের ভিত্তিতে আমি স'মিল চালাচ্ছি।

অপর মিল মালিক কবির রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের স্নেহভাজন হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না।

অন্যদিকে রাতের আঁধারে ঢালচরের আলী হোসেন’র করাতকলে চোরাই কাঠ চেরাই করার সময় ঢালচর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ২৭ টুকরো কাঠসহ শাহিন পাটোওয়ারী, খোকন, শাহে আলম ও সাহাবুদ্দিনকে আটক করলেও পরে তারা ছাড়া পেয়ে যান।

মিলে রাখা গাছ সম্পর্কে মালিকপক্ষ বলেন, 'বেপারিরা এসব গাছ রেখে গেছে চেরাই করার জন্য।'

কুকরি মুকরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের আঁধারে গাছ চোরেরা বাগানে ঢুকে গাছ চুরি করে। স্থানীয় কোনও লোক গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। স্থানীয় কোনও চোর ধরা পড়লে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো রুহুল আমিন জানান, সহকারী কমিশনার ভূমি’র স'মিল বা করাত কল স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। কুকরি, মুকরি ও ঢালচরের অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেবি/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।