রাত ০৪:০২ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

ই-সিগারেটে ক্যান্সারের ঝুঁকি দশ গুন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাঈম সিনহা॥

আপনি ধূমপানের ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন? সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে ই-সিগারেট টানছেন? তাহলে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট টানায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দশগুণ বেশি।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। জাপানের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি করেছেন।

আগে বলা হতো, ই-সিগারেট এমন এক ধরনের সিগারেট যাতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনও উপাদান নেই। এ কারণে পণ্যটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়তির দিকে। ব্যবহারকারীরাও ভাবেন, তারা শুধু নিকোটিনের স্বাদই অনুভব করছেন, এর ক্ষতিকর প্রভাব নয়।

তবে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের গবেষণা কমিশন কয়েকটি কোম্পানির ই-সিগারেটের তরলে ফরমালডিহাইড এবং অ্যাসিটালডিহাইড কারসিনোজেনের সন্ধান পেয়েছে। যা শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষক দলটি আরও জানতে পারে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের দেহে ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়।

গবেষণাগারে ই-সিগারেটের ধোঁয়াতে এমআরএস এবং মানুষের কোষের উপর প্রভাবের উপর ভিত্তি করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানান ফরমালডিহাইড কারসিনোজনে এর মাত্রা সাধারণ সিগারেটের চাইতে ই-সিগারেটে বেশি থাকে।

গবেষক নাওকি কুনুজিয়াতা বলেন, 'একটি ব্রান্ডেড ই-সিগারেটে বাজারের সাধারন সিগারেটের চাইতে দশ গুণ বেশি

কারসিনোজেন থাকে।'

তিনি আরও বলেন, 'বিশেষ করে যখন উচ্চ তাপ প্রয়োগ করে তরলটিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়, তখন দেখা যায় অনেক গুলো বিষাক্ত ক্ষতিকর উপাদান উৎপন্ন হচ্ছে্।'

কুনুজিয়াতা উল্লেখ করেন, এর মানে এই নয় যে বাজারের সাধারণ সিগারেটগুলো খাওয়া উত্তম। কিংবা সেগুলো শরীরের জন্য ভালো। আমি শুধু জানাতে চাই কিছু ই-সিগারেটে ক্যান্সার আক্রান্ত করার মতো উপাদান অত্যাধিক মাত্রায় থাকে।

জাপানি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চাইতেও বেশি ক্ষতি করে। সরকার এখন চিন্তা করছে কিভাবে এসব পণ্য গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে।'

এ বছরের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারকে ই-সিগারেট বন্ধের জন্য তাগাদা দেয়। কারণ এটি তাদের কাছে গুরুতর ক্ষতির কারণ বলে মনে হয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা বলেন, উপযুক্ত প্রমানের অভাবে ই-সিগারেটকে বে-আইনী ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তবে শিশু, কিশোর, গর্ভবতী এবং প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন নারীকে এটি জনসম্মুখে ব্যবহারে বে-আইনী ঘোষণা করা উচিৎ।

বিজ্ঞানীরা দ্রুত ই-সিগারেটের বিক্রি নিয়ন্ত্রণের জন্য বলেছেন।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশান থেকে বলা হয়, ২০১৩ সালে আড়াই লাখেরও বেশি অ-ধূমপায়ী কিশোর ই-সিগারেট ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনটি প্রথমে 'অর্গানিক হেলথ' নামে একটি জার্নালে প্রকাশ পায়।

/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।