রাত ০১:১১ ; শুক্রবার ;  ২১ জুন, ২০১৯  

তরুণদের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে 'অ্যানিমেশনওয়ালা'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাঈম সিনহা॥

সারা বিশ্বে অ্যানিমেশন ফিল্মের জয় জয়কার। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চলচ্চিত্রশিল্পের এই নতুন ধারাটি। হলিউডের বিল বোর্ডের শীর্ষে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে অ্যানিমেশন মুভিগুলোর নাম। আামদের পাশের দেশ ভারতও পিছিয়ে নেই। তবে বাংলাদেশ সেদিক থেকে একটু পিছিয়ে আছে। দেশ পিছিয়ে থাকলেও এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণরা।

'অ্যানিমেশনওয়ালা' নামে একটি তরুণ দল নিজেদের উদ্যোগে অ্যানিমেটেড মুভি বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। তাদের তৈরি অ্যানিমেটেড মুভিগুলোতে ফুটে উঠবে তরুণদের না বলা সব কথা গুলো।

মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অলটারনেটিভ(ইউডা) এর চারুকলা অনুষদের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে উঠছে গ্রুপটি। তারা মূলত আগামীতে চলচ্চিত্র নিয়েই কাজ করতে যায় তাই তাদের এই প্রয়াস। নির্মাতা দলটির বতর্মান সদস্য সংখ্যা ৩৩ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের প্রথম বর্ষের ছাত্র মৃৎমন্দির গুঞ্জন কুমার রায় তার বন্ধু সারা, আজিজি এবং বসুকে নিয়ে প্রথম দিকের কাজটা শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য চারুকলার বন্ধুরা তাদের সাথে এগিয়ে আসে। নির্মাতা দলটির উ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌পদেষ্টা হিসেবে আছেন ঢাবি চারুকলা অনুষদের শিক্ষক আব্দুস সাত্তার তৌফিক।

দলটির অন্যতম সংগঠক মৃৎমন্দির জানান, বাংলা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রর উৎকর্ষ সাধন এবং নতুন অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র তৈরির জন্যই এবছরের শুরুর দিকে তারা কাজ শুরু করে। পরিকল্পনা করছেন সাধারনত তরুণদের দৈনিক ঘটে যাওয়া নানা ধরনের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর ।

ইতিমধ্যে তাদের নতুন অ্যানিমেটেড শট ফিল্ম 'গ্লা' তৈরির কাজ মাঠে নেমে গেছে। ছবিটি সম্পর্কে মৃৎমন্দির গুঞ্জন ব‌‌‌লেন, 'অ্যানিমেটেড মুভিতে আমরা আমাদের চিন্তার স্পষ্ট প্রতিফলন গুলো ফুটিয়ে তুলতে পারি। 'গ্লা'তে আমরা তরুণদের জীবনে নানা সময়ে বন্ধুদের আগমন এবং প্রস্থানের অবর্তনটি বিভিন্ন প্রতিকৃতির মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছি।'

নির্মাতা দলটির অন্যতম সংগঠক আফরোজা হোসাইন সারা বলেন, 'আমরা সবাই যেহেতু চারুকলা অনুষদের ছাত্র-ছাত্রী। আর অ্যানিমেশন তৈরির জন্য আঁকাআকির কাজ বেশি প্রয়োজন। তাই আমাদের জন্য এমন কাজ করা যেমনি সহজ, তেমনি আনন্দদায়ক।'

সামনে অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা আছে দলটির। একটি দুটি শট অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র তৈরি করে থেমে যেতে চায় না দলটি। সামনে চারুকলার আরও নতুন সদস্যদেরকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করতে চায় তারা।

বাংলাদেশের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রকে অন্যতম উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছে তারা। এর আ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌গে ১৯৯৩ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম অ্যানিমেটেড প্রকল্প ছিল 'মিনা'। এরপর ২০০০ সালে মুক্তি পায় 'মন্টু মিয়ার অভিযান' নামে আরেকটি কার্টুন সিরিজ। তবে বাংলাদেশের প্রথম অ্যানিমেটেড ফিচার চলচ্চিত্র 'ড্রিমস্টেজ' সামনে ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

/এআই/এফএএন/ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।