দুপুর ০৩:১৩ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৫ নভেম্বর, ২০১৮  

রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য টিআইবির ১২ দফা সুপারিশ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার সকালে টিআইবির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশগুলো তুলে ধরে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে ‘রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প: ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি'র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ হোসেন।

উভয় প্রকল্পেই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে এবং পরিবেশগত সমীক্ষাগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে টিআইবির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, 'বিদ্যুৎ আমাদের একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু জনগণের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। রামপাল প্রকল্পে শুধু মানুষ নয় প্রাণীকূলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'উভয় প্রকল্পেই পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়নি। যারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা তাদের বেশিরভাগই প্রকৃত ক্ষতিপূরণ পাননি। আবার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষতির তুলনায় অধিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। প্রকল্পের কারণে জনগণের জীবন জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিন্তু প্রকল্পের শর্তাবলী জনগণকে জানানো হয়নি। সারা বিশ্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবেশ দূষণ বিবেচনা করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে।'

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের প্রতিটি স্তরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ন্যূনতম ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রকল্পগুলোতে প্রতিটি ফাইল প্রসেসিং-এ নিয়ম-বহির্ভূতভাবে মোট ক্ষতিপূরণের ৩%-১০% পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চিংড়ি ঘেরের ইজারার ক্ষতিপূরণ অতিমূল্যায়িত করে ইজারাদার নয় এমন ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করেছে।

এতে আরও বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পেয়ে জমি থেকে উচ্ছেদ ও প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশের ভয়ে অনেকে পলাতক জীবন যাপন করছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সময়মতো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা দিন দিন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে নিমজ্জিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় টিআইবির ১২ দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রামপাল ও মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রণীত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি কর্তৃক মূল্যায়ন সাপেক্ষে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ; ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনা অনুসারে মূল্য নির্ধারণ, উপদেষ্টা পর্ষদ ও পুনর্বাসন উপদেষ্টা কমিটি গঠনের মাধ্যমে রামপাল ও মাতারবাড়ি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণ; নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জরিপ পূর্বক এ দুটি প্রকল্পের সকল ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন এবং নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণসহ বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রচার; ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কর্তৃক প্রকল্প এলাকায় ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিসের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা; প্রকল্পগুলোতে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও পুনর্বাসনের বিষয়ে অভিযোগ জানানো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং প্রকল্পগুলোতে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

/এএ/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।