রাত ১০:৫৭ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

নেতাদের ফাঁসির মুখে রেখে লন্ডনেই থাকছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিশেষ প্রতিনিধি॥

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ছেড়ে এক বছর চার মাস ধরে দেশে নেই তাদের আইনজীবী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। আছেন লন্ডনে। কবে দেশে ফিরবেন বা আদৌ ফিরবেন কি না তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

এরইমধ্যে জামায়াত নেতারা একের পর এক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলছেন। আপিল শুনানি শুরু হচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আরও পাঁচ শীর্ষ নেতার। তাই ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে এখন দলের ভেতরই নানা প্রশ্ন।

২০১৩ সালের ১৭ সিসেম্বর থেকে দেশে নেই ব্যারিস্টার রাজ্জাক। তার দেশ ছাড়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে ১২ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়। তার অনুপস্থিতিতেই আরেক জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকর হল শনিবার রাতে।

ট্রাইবুন্যালে ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জোনোরেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আপিল শুনানি শুরু হচ্ছে যেকোনও দিন।

শুনানির অপেক্ষায় আছে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলা। তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইবুন্যাল।

আপিলে ফাঁসির পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ আবেদন করতে পারে।

এই সবগুলো মামলারই প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তার অনুপস্থিতিতে মামলাগুলো পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী। তারা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলে,‘ বাবা এখন লন্ডনে আছেন। আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে তিনি কবে ফিরবেন তা আমাদের বলেননি। ’ শিগগিরই ফিরবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ এটি আমাদের জানা নেই। তিনি আমাদের এ বিষয়ে কিছু বলেননি।’

ব্যারিস্টার রাজ্জাক ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওমরাহ পালনের কথা বলে ঢাকা ছাড়েন। সৌদি আরব না গিয়ে প্রথমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখান থেকে লন্ডন হয়ে সৌদি আরব যান। পরে আবার লন্ডন ফিরে যান।

বলা হচ্ছে তাকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং করতেই দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে। আর দেশের বাইরে থেকেই আইনি এবং দল পরিচালনায় পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

ঢাকা ছাড়ার পর সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছাড়া আর কোনও দেশে গিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ইমরান সিদ্দিক বলেন,‘ তিনি অনেক ট্রাভেল করেন। তবে অন্য কোনও দেশে করেছেন কি না জানা নেই।’

ঢাকা ছাড়ার সময় কলাবাগান থানায় রাজ্জাকের নামে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছিল। আর জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় একই অভিযোগে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সম্পৃক্ততার কথাও তখন বলেছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিনিধিদল সিলেটে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের এলাকা ঘুরে আসে। মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ২০০৭ সালে সংবাদ সম্মেলন করে যে ১৪ জন ‘যুদ্ধাপরাধীর’ তালিকা প্রকাশ করেছিলেন, তাতে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের নামও ছিল।

তাই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করায় জামায়াতের একাংশের মধ্যে এখন প্রবল সন্দেহ যে আন্তর্জাতিক লবিং-এর নামে ব্যারিস্টার রাজ্জাক কি নিজেকে বাঁচাতে দেশ ছাড়লেন?

জামায়াত নেতাদের আইনজীবীদের একজন অ্যাডভোকেট শিশির মনির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মতো একজন আইনজীবী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে নেই। এতে আমাদের অসুবিধা তো হচ্ছেই। তিনি সব মামলাই সরাসরি পরিচালনা করতেন। আমরা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতাম। ’ তিনি আরও জানান,‘ তবে তার অনুপস্থিতিতে এখন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আমাদের সিনিয়র হিসেবে কাজ করছেন।’

এ বিষয়ে জানার জন্য জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের অনেক নেতা মনে করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক ব্যক্তিগত কারণে দেশ ছেড়েছেন। দল তাকে কোনও কাজে বাইরে যেতে বলেনি। দেশে থেকেই তিনি দল ও দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের জন্য বেশি কাজ করতে পারতেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। তারা মনে করেন রাজ্জাক দেশ ছেড়ে গ্রেফতার ও মামলা থেকে বেঁচে গেছেন।


 

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।