রাত ১২:৩৯ ; রবিবার ;  ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চান ঢাকা উত্তরের প্রার্থীরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নজরুল ইসলাম॥

‌‌‌আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনে কালো টাকা, পেশীশক্তি ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে লেভেল প্লিয়ং ফিল্ড তৈরি করার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি অাহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা বলেন, বিটিভিসহ বিভিন্ন মিডিয়া শুধু হাতেগোনা কয়েকজনের সংবাদ গুরুত্বসহ প্রকাশ করলেও বেশিরভাগ মেয়র প্রার্থীরই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার খবর প্রচার করা হয় না। কমিশনকে এদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। রবিবার সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটাপর্যন্ত রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষি ইন্সটিটিউট কম্প্লেক্স ভবনে সিটি নির্বাচনে উত্তরের প্রার্থীদের সঙ্গে ইসির মতবিনিময়কালে তারা এই আহ্বান জানান।

জবাবে সিইসি বিটিভিসহ সকল গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করার পর এই প্রথম ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হচ্ছে। ঢাকা উত্তরে ১৬ মেয়র প্রার্থী, ৩৬ ওয়ার্ডে ২৮০ সাধারণ কাউন্সিলর ও ১২ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৮৯ জন কাউন্সির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মতবিনিময় সভায় পর্যায়ক্রমে ১৬ মেয়র প্রার্থীই বক্তব্য দেন। অাওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হক সবার শেষে বক্তব্য দেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীদের বক্তব্য শোনার পর তিনি ইসির উদ্দেশে বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়ে সবার সঙ্গে অামিও একমত। তিনি বলেন, মিডিয়াগুলোও যেন সবার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেয় বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ অাউয়াল বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বহু নেতাকর্মী মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। এছাড়া কেউ-কেউ পুলিশি হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব নেতাকর্মীকে জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে ইসির প্রতি অাহ্বান জানান এই মেয়রপ্রার্থী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে সাধারণত অাইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে এবং বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে ইসিকে নজর দিতে অাহ্বান জানান তাবিথ।

মতবিনিময় সভায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম বক্তব্য দেন অানিসুজ্জামান খোকন। ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে- এই কথা বলার সঙ্গে-সঙ্গে অাওয়ামী-সমর্থিত সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে খোকন বলেন, কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, মিডিয়া সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ না দিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রচারণা করছে। তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠালেও তা প্রকাশ করছে না।

মাহী বি. চৌধুরী কমিশনকে বলেন, এমন কোনও বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যেন অাপনাদের নিয়ে সমালোচনা করা হতে পারে। কালো টাকা দৌরাত্ম্য প্রতিরোধ করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে সুশিল সমাজ, তরুণ এবং ইসির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। নিরাপদে ভোটাদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন কাজী মো. শহীদুল্লাহ।

নাদের চৌধুরী বলেন, ইসিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এগুলো দূর করতে হবে। বিশেষ করে প্রচারণা শুরুর দিনটি নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যেও বিভ্রান্ত ছিল।

নির্বাচন কমিশনকে অাশ্রয়স্থল অাখ্যা দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ৭ এপিলের অাগেই অনেক প্রার্থী প্রচার চালিয়েছেন। কমিশন যা বলেছিল তা করেনি। পর্দার অন্তরালে টাকা ও পেশীশক্তির খেলা চলছে বলে বলেও সাকি অভিযোগ করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন মজলিশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার। তিনি গণভবনে বসে প্রার্থী ঘোষণা দিতে পারেন না।

অাবদুল্লাহ অাল ক্বাফি বলেন, গণভবনে বসে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী অাচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন- এই অভিযোগ করার পর ২৮ মার্চ রাতে অামার বাসায় পুলিশ গিয়েছিল। ক্বাফি বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে অাতঙ্কিত করে ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে যাবে না। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন অন্য মেয়র প্রার্থী ফজলে বারী মাসুদ।

জামাল ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে যিনি মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হবেন তাকে স্বাগত জানাতে সবার প্রতি অাহ্বান জানান। বাহাউদ্দিন বাবলু নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, অাপনারা যা বলবেন, তা করার চেষ্টা করবেন।

শামসুল অালম চৌধুরী বলেন, কিছু সংসদ সদস্য কলেজ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছে। এ দিকে নজর দিতেও কমিশনের প্রতি অাহ্বান জানান এ মেয়রপ্রার্থী।

এ ওয়াই কামরুল ইসলাম বলেন, কালোটাকা ও পেশীশক্তির খেলা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

/এনঅাই /এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।