রাত ০৯:৪৩ ; মঙ্গলবার ;  ২৫ জুন, ২০১৯  

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার পেলেন সালমা বাণী ও রুবাইয়াৎ আহমেদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

লেখকদের সৃজনশীল কর্মের সম্মাননা হিসেবে প্রতিবারের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে 'জেমকন সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫' প্রদান করা হয়েছে। দুইভাগে বিভক্ত এ পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী ও তরুণ কথাসাহিত্যিক রুবাইয়াৎ আহমেদ। সালমা বাণীর লেখা গ্রন্থের নাম 'ইমিগ্রেশন' এবং রুবাইয়াৎ আহমেদের পাণ্ডুলিপির শিরোনাম 'একজন সাব এডিটরের কতিপয় ছেঁড়াখোঁড়া দিন'।

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরস্কার বিতরণকে কেন্দ্র করে মিলনায়তনটি পরিণত হয় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিকদের মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশের কবি আসাদ চৌধুরী, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার এবং পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক দেবেশ রায়, কবি জহর সেন মজুমদার ও কথাসাহিত্যিক রবিশংকর বল প্রমুখ। পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপির লেখকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আগত সাহিত্যিকরা জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের ভূয়ষী প্রশংসা করেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।

জেমকন গ্রুপের পরিচালক কথাসাহিত্যিক ড. কাজী আনিস আহমেদ পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল লেখকদের সম্মানিত করার জন্যই মূলত এ পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। জেমকন সাহিত্য পুরস্কার সৃষ্টিশীল লেখকদের প্রেরণা যোগাবে বলে আমার বিশ্বাস।' তিনি জানান, 'জেমকন গ্রুপ গত এক যুগ ধরে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।'

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সাহিত্যিক নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সালমা বাণী বলেন, 'এই সম্মান পেয়ে আমি আনন্দিত। আমি সারাজীবন লিখে যেতে চাই।' রুবাইয়াৎ আহমেদ বলেন, 'আমার জীবনের পরম এক আনন্দের দিন আজ। দুজনই এই পুরস্কার প্রদানের জন্য জেমকন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান।'

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন তরুণ সংগীতশিল্পী টিনা মুসতারী। সমাপণী বক্তৃতা করেন পুরস্কার পর্ষদের সদস্য সচিব কবি শামীম রেজা।

এবার এই পুরস্কারের যুগপূর্তিও উদযাপন করা হলো। এ পর্যন্ত যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মামুন হুসাইন, শহিদুল জহির, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিম আল দীন, নির্মলেন্দু গুণ, ওয়াসি আহমেদ, পারভেজ হোসেন ও হাসান আজিজুল হক।

জেমকন তরুণ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, প্রশান্ত মৃধা, সমীর আহমেদ, জাকির তালুকদার, সাদ কামালী, হুমায়ুন মালিক, সাকিরা পারভীন, সালমা বাণী, মাহবুব মোর্শেদ, নাসিমা আনিস, হামীম কামরুল হক, তপন বাগচী, শাজান শীলন, এমরান কবির, মুম রহমান, আনিফ রুবেদ, মেহেদী উল্লাহ ও আফসানা বেগম।

জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের নীতিমালা ঘোষণা করা হয় ফেব্রুয়ারিতে। নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকাশিত সাহিত্যের (সকল শাখায়) গ্রন্থ থেকে বিচারকমণ্ডলী দিয়ে মনোনীত একটি গ্রন্থের লেখককে 'জেমকন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়। পুরস্কার প্রদানের এক মাস আগে পাঁচটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

জেমকন তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার নীতিমালা অনুযায়ী নবীন প্রতিভাবান সাহিত্যিকদের জন্য প্রযোজ্য এই পুরস্কারে কেবল পূর্বে অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি বিবেচনা করা হয়। উপন্যাস বা গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল ৭ মার্চ। জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের মূল্যমান সাহিত্যে ৫ লাখ টাকা ও পাণ্ডুলিপিতে ১ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিকদের সমন্বয়ে জুরিবোর্ড গঠন করা হয়। জুরিদের নম্বরের ভিত্তিতে একটি বইকে ও একটি পাণ্ডুলিপিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

/ওএফ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।