রাত ১২:১৫ ; মঙ্গলবার ;  ১৭ জুলাই, ২০১৮  

কলাক্ষেতে পানামা রোগ, বিপাকে চাষিরা

প্রকাশিত:

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট॥

জয়পুরহাট জেলায় এবার কলাক্ষেতে দেখা দিয়েছে পানামা রোগ। বাগানের অধিকাংশ গাছের কাণ্ড প্রথমে আক্রান্ত হয়। পর তা ছড়িয়ে পড়ে গাছের পাতায়। পাতা পুড়ে সম্পূর্ণ গাছ মারা যাচ্ছে। বার বার ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। এভাবে বিঘার পর বিঘা কলা বাগান রোগাক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কলাক্ষেত। ফলে উৎপাদন খরচতো দূরের কথা কলা চাষ করে এবার বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে জেলার কলাচাষিরা।

সরেজমিন জেলার সদর উপজেলার দুর্গাদহ, মহুরুল, জামালপুর ও আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ,পূর্ব-মাতাপুর ও ইসমাইলপুরসহ কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এবার কলা চাষ হয়েছে। চাহিদা ও মূল্য বেশির কারণে এলাকায় সবরি, চাপা আর সাগর কলা চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার মোট কলা চাষ হয়েছে ৭১০ হেক্টর জমিতে। এক বিঘা জমিতে কলাচাষে খরচ পড়েছে ২৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে গাছ ভাল হলেও অধিকাংশ গাছে এখন দেখা দিয়েছে কাণ্ড পঁচা রোগ। পরে তা ছড়িয়ে পড়ছে পাতায়। লাল হয়ে পাতাসহ ক্রমান্বয়ে গাছও মারা যাচ্ছে। এ চিত্র এলাকার সব কলা বাগানের। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন কলাগাছ পুড়ে গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অনেক কৃষক একাধিকবার ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও বাঁচাতে পারছে না কলাক্ষেত। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কলাচাষিরা।

আক্কেলপুর উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, লাভের আশায় প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ করে এবার সাত বিঘা জমিতে তিনি সবরি জাতের কলা চাষ করেছেন। কিন্তু কাণ্ড ও পাতা মরা রোগের কারণে সম্পূর্ণ কলাক্ষেত মরে গেছে। যে দু-চারটি আছে সেগুলোতে কলা ধরছে না। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে কয়েক দফায় ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও রোগ সাড়াতে পারেননি। এ অবস্থায় বাগান রাখবেন না কেটে ফেলবেন তা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

একই অভিযোগ ওই গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমানেরও। তিনি এক বিঘা জমিতে চাপা কলা চাষ করার পর মাত্র তিন হাজার ৪০০ টাকা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে রোগাক্রান্ত হওয়ায় বাগান থেকে আর কলা বিক্রি করতে পারছেন না। অথচ কলাচাষে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বাজার থেকে ছত্রাকনাশক ক্যারাটে ও সিনারজি প্রয়োগ করেও ক্ষেতের রোগ দমন করতে পারেননি। শুধু লুৎফর নয় এ চিত্র এলাকার শত শত কৃষকের।

মাতাপুর গ্রামের কলাচাষি আশরাফুল ও ইসমাইলপুর গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, রোগের কারণে কলাচাষ করে এবার তাদের বড় ধরণের লোকসান গুনতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কলাক্ষেতের রোগ নিয়ে আমরা হিমশিম খেলেও এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে কেউ খোঁজ নিতেও আসেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান রোগের বিবরণ শুনে বলেন, কলাগাছের এ রোগটিকে পানামা রোগ বলা হয়। একই জমিতে বার বার কলার চাষ করায় অনেক সময় এই রোগ দেখা যায় বলে তিনি জানান। আক্রান্ত জমিতে কলাচাষ না করে দু/এক বছর অন্য ফসল চাষ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া পানামা রোগ থেকে রক্ষার আরও কোন উপায় নাই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/বিএল/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।