বিকাল ০৫:২৫ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৬ এপ্রিল, ২০১৮  

লোকসানের মুখে পঞ্চগড়ের গম চাষীরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥

চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হলেও খুশি নন পঞ্চগড়ের গম চাষীরা। বাজারে গম বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে অভিযোগ ক‌‌রছেন তারা। সরকারিভাবে গম কেনা শুরু না হওয়ায় বর্তমানে ফরিয়া ব্যবসায়ীরা তাদের মনগড়া দামে কৃষকদের কাছ থেকে গম কিনছেন। ন্যায্য মূল্য না পেলে ভবিষ্যতে গম চাষাবাদে উৎসাহ থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় ২৬ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে এ জেলায় গমের চাষ হয়েছিল ১৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে গমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩০ টন।

কৃষকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবারে পঞ্চগড় জেলায় গমের চাষাবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরইমধ্যে হাট-বাজারে গম উঠেছে। বেচাকেনাও চলছে। কিন্তু বাজারে গম বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

জানা যায়, সরকারিভাবে গম কেনা শুরু না হওয়ায় বর্তমানে ফরিয়া ব্যবসায়ীরা তাদের মনগড়া দামে কৃষকদের কাছ থেকে গম কিনছেন। এতে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকারিভাবে কবে গম কেনা শুরু হবে তা জানাতে পারেননি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস।

সদর উপজেলার ডুডুমারী এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এবার ফলনও ভাল পেয়েছেন। এ বছর ২ বিঘা জমিতে গম চাষ করে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ মণ। বাজারে গম বিক্রি করেছেন মণ প্রতি ৬০০ টাকা দরে। গম চাষে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। আর গম বিক্রি করেছেন ৮ হাজার ৪০০ টাকা। চাষাবাদ, কাটা-মাড়াই ও উৎপাদন পর্যন্ত এই তিন মাসের পরিশ্রম বৃথা বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

সদর উপজেলার মাহানপাড়া এলাকার কৃষক সোলেমান হক জানান, এ বছর তিনি এক একর জমিতে গমের চাষ করেছেন। প্রতি মণ গম বিক্রি করেছেন ৬২০ টাকা দরে। অথচ গত বছর তিনি এ সময়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে গম বিক্রি করেছিলেন। এ বছর গম চাষে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া গ্রামের কৃষক আসলাম আলী জানান, বর্তমানে গম স্থানীয় বাজারে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গমের দাম এমন থাকলে কৃষকরা গম চাষে লাভের মুখ দেখতে পারবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক এসএম আশরাফ আলী জানান, গম চাষে কৃষকদের পরামর্শসহ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এবছর গমের চাষাবাদ বেড়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। সরকারিভাবে গম সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় বর্তমানে গমের দাম কিছুটা কম। তবে সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে গমের দাম বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের এখন পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযানের কোনও পরিপত্র পাননি স্বীকার করে জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।

/এমডিপি/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।