রাত ১১:৩১ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

এবার দ্বিগুণ শক্তিতে 'ঈশ্বর কণা' খুঁজবে কলাইডর!

প্রকাশিত:

ফয়সল আবদুল্লাহ॥

ফের সচল হলো ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমানায় মাটির একশ মিটার নিচে থাকা ২৭ কিলোমিটার পরিধির বৃত্তাকার টানেলটা। শুরু হয়েছে প্রোটন কণার ছুটোছুটি। তবে সংঘর্ষ এখনই ঘটছে না। সবেমাত্র ইলেকট্রিক সার্কিটের 'অস্ত্রোপচার' শেষ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণা যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডরের। হাত-পা ঝেড়ে কাজ করতে লাগবে আরও এক মাস।

এরপর কী ঘটবে তা অনুমান করা যাচ্ছে না এখনও। তবে বিবিসির খবরে জানা গেল এবার প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটানো হবে আগের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তিতে। যে শক্তির পরিমাণ ১৩ ট্রিলিয়ন ইলেকট্রনভোল্ট। ক্ষুদ্রের জগতে শক্তিটা নেহায়েৎ কম নয়। গতি বাড়লো, তাই গবেষকদের আশা, এবার 'ঈশ্বর কণা' ধরা দেবেই দেবে।

“সবাইকে অভিনন্দন, প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আসল কাজ শুরু হবে এখন থেকে।” সার্নে কাজ করতে আসা বিশ্বের বাঘা বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণা যোগাতে কথাটি বললেন সংস্থার প্রধান রলফ হুয়ার।

অ্যাকসিলারেটর ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ফ্রেডারিক বোরড্রাই জানালেন, “দুই বছরের চেষ্টায় লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর এখন একদম ফিট।”

কী খুঁজছে সার্ন? কী কারণে কোটি কোটি ডলার খরচা করে বানানো যন্ত্রের পেছনে বছরের পর বছর লেগে আছেন ১১৩টি দেশের প্রায় ১৫ হ‌‌‌াজার বিজ্ঞানী? উত্তরটা সরল-একটাই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান সবাই- বস্তু জিনিসটা কী? বস্তুকে বস্তু বানালো কোন বস্তু? মহাবিশ্বের শুরুতে কেমন ছিল? কেমন করে মহাবিস্ফোরণের পর কণা তৈরি হলো, কণার ভেতর ভর ঢুকলো কী করে? আর এসবের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা আছে একটাই। বড় আকারে না পারলেও ছোটখাট আরেকটা বিগ ব্যাং ঘটানো। আর ব্যাং ঘটাতে সংঘর্ষ লাগবেই। এদিকে কণা আর ভর নিয়ে গবেষণাটা এত ক্ষুদ্র পর্যায়ে করতে হয় যে এখানে দৃশ্যমান কোনও কিছুর সংঘর্ষ ঘটিয়ে আদতে কাজ হবে না। তাছাড়া প্রচণ্ড শক্তিতে বড় বস্তুর সংঘর্ষ ঘটালে আস্ত গবেষণাগারটাই উড়ে যেতে পারে! এ কারণেই টানেলের ভেতর প্রোটন কণাকেই ছোটানো হয়, সেটাও প্রায় আলোর গতিতে।

সংঘর্ষের পর ক্ষণিকের তরে ধরা পড়বে আণবিক কণার বর্ষণ

সংঘর্ষের পরপরই ভীষণ সতর্ক অ্যাটলাস নামের এক দানবীয় ডিটেক্টর। বিস্ফোরণের পর ওটাই টানেলের ভেতর আঁতিপাতি করে খুঁজবে হিগস বোসন ওরফে 'ঈশ্বর কণা'।

পশ্চিমের বিজ্ঞানী হিগস ও বাংলার সত্যেন্দ্রনাথ বসু এ কণার ধারণা দেন প্রথম। যে কণাটাকে ছাড়া সম্পূর্ণ হচ্ছিল না বস্তুর ভেতর থাকা কণার তালিকা। বস্তুর রহস্য খুঁজতে একে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ভাগে ভাগ করতে করতে শেষে দেখা গেল প্রতিটা কণারই একটা না একটা কাজ আছে। পাওয়া গেল না শুধু ভর তৈরি করা কণাটাকে। অথচ ভর তো আছেই- যার কারণে বস্তুকে ছোঁয়া যায়, উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, ওজন মাপা যায়। তাই ওটার নাম হয়ে গেল 'ঈশ্বর কণা'। সৃষ্টিতে শুরুতে ক্ষণিকের জন্য এই কণাটিই মহাবিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। আর তাই সংঘর্ষের ঠিক পর পর একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তির বিকিরণ থেকেই ধরা যাবে ওই কণা তথা হিগস বোসনের অস্তিত্ব। তৈরি হওয়ার পর পরই অতি ক্ষুদ্র সময়ের মধ্যে হিগস বোসন কণাটি অন্য আরেক কণার সঙ্গে মিশে তৈরি করবে ভরওয়ালা কণা।

ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় আস্তানা

এর আগে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর যতবারই চালু হয়েছিল, বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানী দম আটকে বসেছিলেন একটা কিছু ঘটার আশায়। এবার গতি যেহেতু দ্বিগুণ বাড়ছে, টেনশনটাও বাড়বে জ্যামিতিক হারে। কারণ গবেষণায় এক চুল এদিক সেদিক ধরা পড়লেই দেখা যাবে নতুন করে লিখতে হবে পদার্থ বিজ্ঞানের বই। বদলে দিতে হতে পারে শত বছর ধরে চলে আসা বিজ্ঞানের অনেক সূত্র।


 


 


 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।