রাত ১০:১৭ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

হরতাল-অবরোধে ক্ষতি ৪৮৮০ কোটি টাকা: সিপিডি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা ৮১ দিনের অবরোধে (গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত) প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডি জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতির ১১টি খাতে মোট জাতীয় আয়ে (জিডিপি) ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আজ রবিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘ন্যাশনাল বাজেট রিকমান্ডেশন ফর ফিন্যান্সিয়াল ইয়ার ২০১৫-১৬’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভ্ট্টাচার্য, গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেমসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, চলতি ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ৮১ দিনের অবরোধ ও ৬৭ দিনের হরতালে উৎপাদন খাতে ৬০৬ কোটি টাকা, সেবা খাতে ৪৩১ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৪৪৩ কোটি টাকা, মৎস্য খাতে ১১৭ কোটি টাকা, পর্যটন খাতে ২১০ কোটি টাকা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় খাতে ৪৭২ কোটি টাকা, হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ৩৬ কোটি টাকা, যোগাযোগ খাতে ৩৭৪ কোটি টাকা, রিয়েল এস্টেটে ২৫০ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিদিন ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে মোট পুঁজির ওপর এ ক্ষতি হলেও তা জিডিপির হিসেবে এত বেশি নয়।

সিপিডি বলেছে, মূল্যস্ফীতি ১৬ দশমিক ৫ এর বিপরীতে ১৩ শতাংশে রয়েছে। রেমিটেন্স প্রবাহ কম থাকলেও রিজার্ভের পরিমাণ ২৩ বিলিয়ন। যা ৬ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মিটাতে সক্ষম। ব্যাংকে সুদের হার আগের মতোই রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে বাড়লেও বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে স্থিতিশীল।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচক সচল থাকা ইতিবাচক। তবে তেলের দাম কমা ও উন্নত দেশে বাংলাদেশিদের অভিবাসন কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে রেমিটেন্স কমবে। ব্যাংকে সুদের হার না কমালে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়বে না। এডিবির বাস্তবায়ন সঠিকভাবে না হলে ঘাটতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে না।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে সিপিডি বলেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে আয়কর, মূসক ও শুল্কসহ রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ও এনবিআর বহির্ভূত আয়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে আছে সরকার। বছর শেষে সরকারের রাজস্ব আয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে।

টানা অবরোধে অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়লেও এ সময়ে ১১টি খাতে মোট জাতীয় উৎপাদনে ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। এর মধ্যে যোগাযোগ খাতে ৭৪৪ কোটি টাকা, পোল্ট্রি খাতে ৬০৬ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্যে ৭৪১ কোটি টাকা, পোশাক খাতে ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা, প্লাস্টিক খাতে ২৪৪ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৩৯৮ কোটি টাকা, , পর্যটন খাতে ৮২৫ কোটি টাকা, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাতে ১৫৬ কোটি টাকা, খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে ৪৪৮ কোটি এবং রিয়েল এস্টেট খাতে ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা জিডিপিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করে সিপিডি। এর প্রভাবে চলতি অর্থবছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে থাকবে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়ন অনেক পিছিয়ে জানিয়ে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বছরের প্রথম ৮ মাসে এডিবির মাত্র ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় তাদের প্রকল্প বাস্তবায়েনে পিছিয়ে থাকায় এমনটি হয়েছে।

 

/এসআই/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।