রাত ০৪:২৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৭ অক্টোবর, ২০১৯  

তহবিল সংকটে রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ইব্রাহীম হোসেন অভি॥

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া গার্মেন্ট শ্রমিকদের অনেকেই ক্ষতিপূরণের টাকায় বিভিন্ন ছোট ব্যবসা চালু করে সংসার চালাতে শুরু করেছিলেন। তবে ব্যবসা চালাতে গিয়ে মূলধন সংকটে ভুগছেন তারা। সুদমুক্ত ঋণের সুযোগ পাওয়া গেলে এসব উদ্যোগ চালিয়ে নিতে সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।

সরেজমিনে ঘুরে গার্মেন্ট শ্রমিক থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় পরিণত হওয়ার মানুষগুলোর নিজের মুখেই এই তথ্য পাওয়া গেছে।

রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষই সেদিনের দুঃসহ স্মৃতির কারণে আর পুরনো পেশায় ফিরে যাননি। নিজ উদ্যোগে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন তারা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ সেদিনের ঘটনায় বেঁচে ফেরা মোট ৫০ শ্রমিককে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়। এর মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৬ জন পুরুষ ছিলেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪০ জন ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নেন। ৩০ জন পোশাক তৈরি, দর্জি, বুটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

ধসের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোহিনূর বেগম ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি মনোহারি দোকান খোলেন। তিনি বলেন, 'মেয়েকে পড়ালেখা করানোর স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে আমাকে অন্ধকারে ছুড়ে ফেলেছিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনা। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে দোকান খোলার পর আবারও আশা ফিরে পেতে শুরু করি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দরকার সুদমুক্ত ঋণ। সরকার অথবা অন্য কোনও ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের ঋণ দিয়ে সহায়তা করতো তবে এগিয়ে যেতে পারতাম।'

মালেকা নামের আরেক উদ্যোক্তা কোহিনূরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, 'আমি ব্লক এবং বুটিকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে আমার কাছে ৫০০ স্কার্ফ তৈরির অর্ডার রয়েছে। কিন্তু কাঁচামালের অভাবে কাজ করতে পারছি না।' নিজের ব্যবসা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সরকার বা বিদেশি ক্রেতাদের সাহায্য চান তিনি।

রানা প্লাজার নিউ ওয়েব গার্মেন্টসের সাবেক কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন এখন নিজের আটটি মেশিন নিয়ে একটি ছোট গার্মেন্ট কারখানা খুলেছেন। তিনি স্থানীয় বাজারের জন্য পোশাক তৈরি করেন। নিজের কারখানায় তিনি তার দুর্ঘটনা কবলিত সহকর্মীদের নিয়োগ দিয়েছেন। উৎপাদন ও ভুক্তভোগীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে তারও দরকার আর্থিক সহায়তা।

এ উদ্যোক্তাদের অনেকেই বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তারা আর এমন কোনও কারখানার ছাদের নিচে কাজ করতে চান না যেখানে তারা নিরাপদ নন।

অ্যাকশন এইড পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা ৫৯ শতাংশ মানুষই বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেছেন। এরমধ্যে ৩৫ শতাংশ মুদি দোকান ও ৯.৮ শতাংশ বুটিক শুরু করেছেন। ২.২ শতাংশ ভালো কোনও গার্মেন্টসে চাকরি খুঁজছেন। বাকি ১১.৬ শতাংশ গার্মেন্টস বাদ দিয়ে অন্য কোথায় চাকরি খুঁজছেন বা করছেন।

অ্যাকশন এইড রানা প্লাজার মোট দুই হাজার ২৯৭ জন শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে আট তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে অন্তত এক হাজার ১৩৫ জন মানুষ নিহত এবং আড়াই হাজারেরও বেশি আহত হয়।

/এসএ/এফএস/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।