রাত ১০:৫৪ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৮ এপ্রিল, ২০১৯  

তারা শুধুই ছবির কারিগর

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাঈম সিনহা॥

চলচ্চিত্র এখন মনের মতামত প্রকাশের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমান সময়টাকে নানা দিক থেকে ফ্রেমে বন্দি করতে পিছিয়ে নেই তরুণ নির্মাতাদের ক্যামেরা। তরুণরা স্বপ্ন দেখছেন চলচ্চিত্র নিয়ে। তারা এখনও হয়ে ওঠেননি তারকা নির্মাতা তবে স্বপ্ন আছে আকাশ ছোয়ার। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নিয়ে যেতে চান বহুদূর।

শিহাব চলচ্চিত্র নিয়ে যেতে চান বহুদূর 

যারা চলচ্চিত্রের হাল ধরতে চান শক্ত করে তাদেরই একজন শিহাব। সাব্বির আহমেদ শিহাব টাঙ্গাইলের ছেলে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ভর্তি হয়েছেন ফিল্ম নিয়ে পড়বেন বলে। বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র বানানোর স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ইট পাথরের শহরে। এতো অল্প বয়সেই তার বানানো দুটি শর্ট ফিল্ম জায়গা করে নিয়েছে চিল্ড্রেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। জনপ্রয়িতাও পেয়েছে ব্যাপক। তার তৈরি 'বুমেরাং' ছবিতে ফুটে উঠেছে মাদক কিভাবে শিশুদের এবং সমাজের ক্ষতি করছে। শিহাবের তৈরি আরেকটি ছবি হলো 'জোছনাময়ী তুমি'।

শিহাব চোখ শুধু ক্যামেরার লেন্সে নয়, আরও অনেক দিকেই রয়েছে। নিয়মিত স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন শিশুদের বার্তা এবং টাঙ্গাইল চিল্ড্রেন ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে। ভবিষ্যতে আগাগোড়া একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাই হতে চান তিনি।

রিফাতের প্রিয় বন্ধু ক্যামেরা 

পুরান ঢাকার ছেলে মীর রিফাত সালেহিন পড়ছেন ইউল্যাবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায়। সিনেমা বানানো তার শখের কাজ। তবে শখকে অনেক কিছুর চেয়ে একটু বেশিই ভালোবাসেন তিনি। নিয়মিত ক্যামেরা হাতে দেখা যায় না রিফাতকে। হঠাৎ হঠাৎ ঝোঁকে এবং কোনও পরিস্থিতি তুলে ধরতে নেমে পড়েন ক্যামেরা নিয়ে। এইতো গতবছর মে মাসে তিস্তা নদীর উপর বাঁধ দেওয়া নিয়ে তৈরি করলেন শর্ট ফিল্ম 'নদীর জল ‌‌‌ছিল না'। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু মাহফুজ শুভ। এরপর ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বরে প্রকাশ করেছিল, বিজয় বার্তা। রিফাতের তৈরি করা ছবিগুলো যদি আপনি দেখতে চান তবে ঢু মারুন ইউটিউবে। ছবির নাম লিখে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন ছবিগুলো।

চলচ্চিত্র ভাবনা নিয়ে রিফাত বলেন, আমরা এমন ফিল্ম দেখতে এবং বানাতে আগ্রহী যা সাধারণ মানুষের কথা বলে। সমাজে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা, সংগ্রাম এর বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়েই কাজ করতে আমরা আগ্রহী। বর্তমানে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র কিছু ধরা বাধা বিষয়ের মাঝে আটকে আছে। এর মাঝে সাধারণ মানুষের কথা অথবা শিল্প দুটোরই বেশ অভাব। আমরা বাংলা চলচ্চিত্রের এসব দিকের বিকাশ প্রত্যাশা করি।

আপাতত শর্ট ফিল্ম নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী রিফাত। তবে ফিল্ম ছাড়াও নিয়মিত 'ঢাকা ফিক্সন' নামে ফটো ওয়াকের আয়োজনে যুক্ত তিনি। সেখানে মূলত পুরাতন ঢাকার নানা অতিহ্যবাহী স্থান গুলোকে প্রধান্য দিয়ে চলে স্থিরচিত্র তৈরির কাজ। এছাড়াও 'অযান্ত্রিক' নামে একটি অনলাই সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত রিফাত। ফিলিস্তিনে ইসরায়েল আগ্রাসন নিয়ে অযান্ত্রিক সংখ্যা বের হয়। সেই পত্রিকা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ফিলিস্তিনীদের সাহায্যের জন্য ফিলিস্তিন দূতাবাসে দেওয়া হয়। চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিয়মিত নিজেকে জড়িয়ে রাখতেই চান রিফাত।

নাফি ইতোমধ্যে কাজ করেছেন অনেকের সঙ্গে 

নাফি নিটোল সিনহা মূলত বাণিজ্যিক ধারার নির্মাণ কাজের সঙ্গেই বেশি যুক্ত । আহাসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ছেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। তবে তড়িৎ কৌশল সমর্কিত কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়ে তিনি নির্মাণ করছেন চলচ্চিত্র।

নাফির মতে, চলচ্চিত্র হবে সাধারণ জনগনকে নিয়ে। তার কাজ করার ইচ্ছা ইতিহাস ভিত্তিক চলচ্চিত্র নিয়ে। তাই সাধারণ জীবন ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকবে এমন চরিত্র নিয়েই কাজ করতে আগ্রহ আছে তার। নিজের কাজ নিয়ে বেশ খুঁতখুঁতে তিনি। ইতোমধ্যে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তো ঠিক করেছেনই এমনকি কাদের নিয়ে কাজ করবেন তাদেরও ঠিক করে ফেলেছেন। মঞ্চের প্রতি আগ্রহ তার প্রচুর তাই সেখানকার তারকাদের দিয়ে মেইনস্ট্রিম চলচ্চিত্রে কাজ করাতে চান তিনি। একসময় মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বলেন, এই প্রজন্ম মঞ্চ থেকে বেশ দূরে। তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তার আজীবনের।

নাফি দাবি করেন, ফিল্ম বানাতে যে বড় বাজেট লাগে তা কিন্তু নয়, লাগে একটা গল্প। আর্ট ফিল্ম আর কমার্শিয়াল ফিল্মের দেওয়ালটা ভাঙ্গুক, গল্পে নতুনত্ব আসুক এমন প্রত্যাশাই তার। আর চাওয়া হচ্ছে মৌলিক নির্মান। যে ধারারই হোক সেটি যেনও আদ্যোপান্ত মৌলিক ও ইউনিক হয়।

বাংলা সিনেমাকে অবশ্যই একটা সম্মান জনক অবস্থানে দেখতে চাওয়া এই যুবক একজন প্রকৃত গাইডের অভাব খুব বোধ করেন। ইতিমধ্যে তার তৈরি শর্ট ফিল্ম 'আবর্তন' প্রচার হয়েছে চ্যানেল নাইনে এবং দেখানো হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র উৎসবে। এছাড়া 'রোমন্থন' নামে আরও একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি হয়ে আছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পাশাপাশি নাফি বিভিন্ন প্রডাকশন হাউসে ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কাজ করেছেন গাঁও প্রোডাকশন এবং ছবিয়ালের সঙ্গেও।

/এফএএন/  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।