সকাল ০৯:৩৪ ; সোমবার ;  ২৩ জুলাই, ২০১৮  

এবার হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি অাগ্রহী করে তুলতে এবার শুরু হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। জাতীয় পর্যায়ে এ অায়োজন দেশে এই প্রথম। 'ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০১৫' বা (এনএইচপিসি) শীর্ষক এই প্রতিযোগিতা চলতি মাসের ১৫ তারিখের পরে সারা‌‌‌দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (অাইসিটি) বিভাগ সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। অাঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তিন বিজয়ী থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট'-এ অংশ নেবে বলে বলে জানা গেছে।

দেশে ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা বা এনসিপি নামে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার অায়োজন থাকলেও স্কুলে বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ জাতীয় কোনও অায়োজন ছিল না। অথচ বিশ্বে উন্নত এবং অগ্রগামী দেশগুলোয় হাইস্কুল বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপকভিত্তিতে এ জাতীয় অায়োজন রয়েছে। মূলত স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্র‌‌োগ্রামিংয়ের আগ্রহ সৃষ্টি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (অাইসিটি) বিভাগ এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। এ অায়োজনে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

সূত্র জানায়, দেশের প্রতিটি জেলায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) অবকাঠামো রয়েছে। প্রতিযোগিতার জন্য এ অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। প্রতি জেলার বেস্ট (সেরা) স্কুল থেকে ২ জন পুরুষ শিক্ষক, একজন নারী শিক্ষক নির্বাচন করে এবং বিসিসির দুইজন সহকারী প্রোগ্রামারের সমন্বয়ে ৫ জনের একটি করে দল তৈরি করা হবে। ৬৪ জেলা থেকে এমন ৩২০ জনকে ঢ‌‌‌াকায় এনে ৩ দিনের অাবাসিক প্রশিক্ষণ দিয়ে 'মেন্টর' হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সূত্রমতে, এই মেন্টররা নিজ জেলায় ফিরে গিয়ে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। অাগ্রহী প্রতিযোগীদের অনলাইনের মাধ্যমে অাবেদন করতে অনুরোধ জানাবেন। অাগ্রহীদের মধ্য থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেরা ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। প্রতি জেলা থেকে নির্বাচিত ৫০ জন করে প্রতিযোগী নিজ-নিজ অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচিত ৮টি অঞ্চল হলো ঢাকা, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ। প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় সেরা ১০ বিজয়ী জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সব মিলিয়ে ১০০ দেশ সেরা প্রতিযোগী। জানা যায়, অাঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠানের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হবে ৩০ মিনিটের কুইজ প্রতিযোগিতা।

অাইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ তারিখের পরে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম দেশব্যাপী শুরু হবে এবং জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিযোগীদের একাধিক প্রবলেম (সমস্যা) দেওয়া হবে, এগুলোর সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হবে ২ ঘণ্টা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অাইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ অাহমেদ পলক জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তিমূল গড়তে হাইস্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ অায়োজন। হাইস্কুল থেকে প্রোগ্রামিং চর্চা করে এলে তারা উচ্চ পর্যায়ে (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ভালো করবে। তিনি অাশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশে প্রোগ্রামারের যে সংকট রয়েছে, তা এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে।
 

/এইচএএইচ/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।